প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

হাসিনার অধীনে নির্বাচন নয়: ঐক্যফ্রন্ট

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: আগের রাতে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, সমাবেশস্থলে আসার পথে বাধা সত্ত্বেও সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। সমাবেশে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা সিলেট থেকে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন শুরু হল বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, কোনভাবে শেখ হাসিনার অধীন জাতীয় নির্বাচন হতে পারে না। এ জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন আর ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তাঁরা। ঐক্যবদ্ধ এই আন্দোলন পুণ্যভূমি সিলেট থেকে যাত্রা শুরু করল।

আজ বুধবার বেলা দুইটায় সিলেট নগরের রেজিস্টারি মাঠে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যায়। সমাবেশ করতে পুলিশের অনুমতি না দেওয়া, আগের রাতে গ্রেপ্তার অভিযান এবং সমাবেশের দিন সকালে আওয়ামী লীগের পাল্টা কর্মসূচির কারণে উৎকণ্ঠা ছিল। সেই সঙ্গে সিলেট শহরের সঙ্গে যাতায়াতে যাত্রীবাহী বাসে ছিল নজরদারি। সমাবেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ ও নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত চৌধুরীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন, ঐক্যফ্রন্টের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ, মওদুদ আহমদ, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ্রীয় সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

সমাবেশে ড. কামাল হোসেন বলেন, একটি স্বাধীন দেশের মালিক জনগণ। বাংলাদেশের সংবিধানের সাত নম্বর অনুচ্ছেদে জনগনকে দেশের প্রকৃত মালিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু আজ দেশের মানুষ মালিকানা থেকে বঞ্চিত। ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে। দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে হলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের প্রয়োজন। আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। আমাদের দেওয়া সাত দফার বিষয়গুলো এবং সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবিগুলো দেশের প্রতিটি গ্রাম, থানা, ইউনিয়ন ও জেলা উপজেলার জনসাধারণের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে। অধিকার আদায়ে জনগনকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, পুণ্যভূমি সিলেটে মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যাত্রা শুরু হয়েছে। সিলেট আরেকটি ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকবে। গণতান্ত্রিক লড়াই ও আন্দোলনের মধ্য বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে আনতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আমাদের ভোটের অধিকার।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension