
আদালত থেকে খালি হাতে ফিরতে হল ড. সিদ্দিকুর রহমানকে !
রূপসী বাংলা প্রবাস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন এবং সেবুল মিয়া। যুবলীগের আহবায়ক তারেকুল হায়দার চৌধুরীর সাথে সাংগঠনিক দ্বন্দ্বের জের হিসেবে ১৯ সেপ্টেম্বর মারপিটের ঘটনা ঘটে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতিসংঘে আসার ৩ দিন আগে জ্যাকসন হাইটসে যুবলীগ নেতা নান্টুৃ মিয়ার ভাড়া করা অফিসের সামনে এ সংঘর্ষের ভিডিও-তে দেখা যায়, ভেতরে ড. সিদ্দিকুর রহমানের সামনেই তার গ্রুপের কিছু লোক চেয়ার ছুড়ে মারছেন বাইরে যুবলীগের ক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে। এ সময় জামাল-সেবুলের সমর্থকরাও ঐসব চেয়ার ধরে পাল্টা ছুৃড়ে মারেন। রাত ১০টার পর তুমুল এ মারপিটের তথ্য জেনে পুলিশ আসে অকুস্থলে। ভিডিওতে আরো শোনা যায় যে, ভেতরে থাকা শাহানারা রহমান পুলিশের উপস্থিতির সময় বাইরে এসে অনুরোধ করছেন সকলকেই গ্রেফতার করতে। যদিও গ্রেফতার করা হয় মাত্র ৩ জনকে। জামাল, সেবুল এবং তারেকুলকে নিকটস্থ পুলিশ প্রেসিঙ্কটে নেয়ার পর মামলা করা হয় ( সিআর০৩২৮০৫ )। সে মামলায় সাক্ষী হিসেবে ড. সিদ্দিক অভিযোগ করেন যে, জামাল-সেবুলসহ কয়েকজন তার অফিসে হামলা করে ক্ষতি সাধন করেছেন।
উল্লেখ্য, নান্টু মিয়ার ভাড়া করা জায়গাটি সাময়িকভাবে আওয়ামী লীগের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে আরো অভিযোগ করা হয় যে, তারা সকলেই জনজীবনে ত্রাস সৃষ্টি করেন এবং বেআইনী কার্যক্রমে লিপ্ত হন। এ মামলায় ৩ জনকেই পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে সোপর্দ করা হয়। সকলেই জামিনে মুক্তি লাভ করেন। মামলার তারিখ ছিল ২৮ নভেম্বর। এরইমধ্যে ২৩ অক্টোবর মাননীয় আদালত জামাল-সেবুলকে ড. সিদ্দিকের অভিযোগ থেকে রেহাই দেন এবং বেআইনী কার্যক্রমের পৃথক আরেকটি অভিযোগ থেকে শর্তসাপেক্ষে অব্যাহতি দিয়েছেন। রায়ের এ তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারে। সাংগঠনিক বিরোধে লিপ্ত যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সভাপতির অভিযোগ দায়েরের তথ্য জেনে অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ২৩ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনা সমাবেশে ‘নো-মোর সিদ্দিক’ স্লোগানের কথা আবারো সকলেই স্মরণ করছেন। দলীয় শীর্ষ নেতার সামনে দলীয় নেতা-কর্মীদের লাগাতার ‘নো মোর সিদ্দিক’ স্লোগানের পর একেবারেই কোনঠাসা হয়ে পড়া ড. সিদ্দিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরাও বিব্রতবোধ করছেন। বিশেষ করে এই রায়ের পর সকলেই আশা করছেন ড. সিদ্দিকের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে। ড. সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, যুবলীগের মত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য আওয়ামী লীগ, নিউইয়র্ক মহনগর আওয়ামী লীগ, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগে সাংগঠনিক বিরোধ তৈরী করেছেন। সর্বত্র বিভক্তির রেখা বিস্তৃত করেছেন। জামাত-শিবির এবং ফ্রিডম পার্টির লোকজনের মদদে সাংগঠনিক অস্থিরতা তৈরী করে কমিউনিটিতে আওয়ামী লীগের ইমেজ বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন বলেও প্রকাশ্যে অভিযোগ করা হয়। আরো অভিযোগ, বছরের ৯ মাস ঢাকায় অবস্থান করে পদ-পদবি ব্যবহার করে তদ্বির বানিজ্য করেন।
কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্ট থেকে অব্যাহতি পাবার ডক্যুমেন্ট (সার্টিফিকেট অব ডিসপজিশন) হাতে নিয়ে জামাল ও সেবুল পরম করুণাময়ের শোকরিয়া আদায় করে বলেন, অবশেষে সত্যের জয় হলো। প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, মিসবাহ আহমেদ এবং ফরিদ আলমের নেতৃত্বে সক্রিয় ছিল যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ। এমনি অবস্থায় ড. সিদ্দিকুর রহমানের পরামর্শে যুবলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী তার এলাকার প্রবাসী তারেকুল হায়দার চৌধুরীকে আহবায়ক করে নয়া কমিটির অনুমোদন দেন। এরপর অতিবাহিত হলো ৩ বছর। সম্মেলনের মাধ্যমে নয়া কমিটি গঠনের কোন উদ্যোগ নিতে পারেননি তারেকুল। একারণে যুবলীগের মধ্যেও বিভক্তি দেখা দিয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সম্মেলনের দাবিতে একাট্টা হয়েছেন। যার পরিণতিতে এর আগেও আওয়ামী পরিবারে মারদাঙ্গা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল।
সূত্র:এনআরবি নিউজ




