
ইস্তাম্বুলে বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর চালু হলো, উদ্বোধন করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান।
আর এন শুভ্র
রূপসী বাংলা ডেস্ক: ২৯ অক্টোবর সোমবার তুর্কি প্রজাতন্ত্রের ৯৫তম বার্ষিকীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দরের ঐতিহাসিক উদ্বোধন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কাতারের আমীর তামিম বিন হাম্মাদ আল থানি, সার্বিয়ান প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ, কসোভোর প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচি, মেসিডোনিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ ইভানোভ, মলদোভার প্রেসিডেন্ট ইগোর ডোডন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভি, উত্তর সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট আকীনসি, কিরগিজস্তানের প্রধানমন্ত্রী সুরোনবে’ যেনবেকভ, সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমার হাসান আল-বাশির, আলবেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইলির মেতা এবং কঙ্গো, স্লোভেনিয়া, জর্জিয়া, ইরান, ও যুক্তরাজ্যের সহ অন্তত ১৮টি দেশের ৫০ জন কুটনৈতিক নেতারা।
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবন্দর এর প্রথম ফ্লাইট হিসেবে মঙ্গলবার একটি বিমান আঙ্কারার উদ্দেশে রওয়ানা হয়। একই দিন প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট যায় তুর্কি সাইপ্রাসে। এ বছরের শেষ নাগাদ বিমানবন্দরটিতে প্রতিদিন ৩৫০টি গন্তব্যের জন্য বিমান ২০০০ বার উঠানামা করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। লিম্যাক, কোলিন, সেনগিজ, মাপা ও ক্যালন এই পাঁচটি বৃহৎ কোম্পানির মিলিত কনসোর্টিয়াম এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করে। প্রকল্পটি বিল্ড-অপারেট ট্রান্সফার মডেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।

কামাল আতাতুর্ক বিমানবন্দরের পরিবর্তে এখন থেকে এটিই ইস্তাম্বুলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে। তুরস্কের নিজস্ব অর্থায়নে দুই হাজার ৬০০ কোটি ইউরো ব্যয়ে বিমানবন্দরটি নির্মিত হয়েছে। সাত কোটি ৬০ লাখ বর্গমিটার আয়তনের এ বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে বছরে ৯ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। প্রথম পর্যায়ের এই অংশের কাজ সম্পন্ন করতে ব্যয় হয়েছে ৬০০ কোটি ইউরো। এটি সরকারকে ২৬ বিলিয়ন ইউরো (৩০.৬৫ ডলার) রাজস্ব প্রদান করবে।
১০ সহস্রাধিক লোক এ প্রকল্পে কাজ করেছে। এতে তুরস্ক ও বিদেশের মোট ২৫০ জন স্থপতি এবং পাঁচ শতাধিক প্রকৌশলী এই নির্মাণকাজে যুক্ত ছিলেন। তুরস্কের পরিবহন ও অবকাঠামো বিষয়ক মন্ত্রী সেহিত তুরহান জানান, আপাতত দুটি রানওয়ে ও একটি টার্মিনাল চালু করা হবে, যা দিয়ে বছরে নয় কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। এর সাথে একটি প্রধান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার, একটি কার্গো হাউজও চালু হবে। চালু হওয়া দুই রানওয়ের একটি চার দশমিক এক কিলোমিটার এবং অপরটি তিন দশমিক ৭৫ কিলোমিটার লম্বা। এ অংশে আপাতত ৩৪৭টি বিমান অবস্থান করতে পারবে। কামাল আতাতুর্ক থেকে প্রধান ফ্লাইটগুলো এ বিমানবন্দরে সরিয়ে আনতে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগবে।
২০২৩ সালের মধ্যে পূর্ন কাজ সমাপ্ত হলে ৬টি পৃথক রানওয়েতে ৫০০টি বিমান একসাথে ধারণ করতে সক্ষম হবে বিমানবন্দরটি । তখন বার্ষিক ২০০ মিলিয়ন যাত্রীর সেবা সহ ৭০ হাজার গাড়ির পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বড় শুল্কমুক্ত শপিংমল করা হবে। ৫৩ হাজার বর্গমিটারের এই শপিংমলে থাকবে মোট ৬টি আলাদা বিভাগে বিলাসবহুল দোকান ও নানান ধরণের স্টল।

পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বিমানবন্দর গুলো-
০২. হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন এয়ারপোর্ট, আটলান্টা, যুক্তরাষ্ট্র: যাত্রী সংখ্যার বিচারে আটলান্টাকে কেউ পেছনে ফেলতে পারবে না। ২০১৭ সালে প্রায় ১০ কোটি ৪০ লাখ মানুষ এই বিমানবন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছেন। অন্য কেউ ১০ কোটি পর্যন্তই পৌঁছাতে পারেনি।
০৩. বেইজিং ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন: এই বিমানবন্দর ২০১৭ সালে ব্যবহার করেছেন ৯ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ। ২০০৮ অলিম্পিকের আগে তৈরি করা হয়েছিল এই বিমানবন্দরটি।
০৪. দুবাই ইন্টারন্যাশনার এয়ারপোর্ট, আরব আমিরাত: ২০১৭ সালে দুবাই বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন ৮ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ। মজার ব্যাপার হলো, এর মধ্যে ৮ কোটি ৭৭ লাখ মানুষই আরবের নন। অনেকেই এই বিমানবন্দরে শপিং করতে ভালোবাসেন।
০৫. টোকিও হানেদা এয়ারপোর্ট, জাপান: জাপানের রাজধানী টোকিও’র এই বিমানবন্দরটি বছরে প্রায় ৮ কোটি ৫৪ লাখ মানুষ ব্যবহার করেন।
০৬. লস এঞ্জেলেস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, যুক্তরাষ্ট্র: ছুটিতে ক্যালিফোর্নিয়া গেলে মোটামুটি নিশ্চিত যে, আপনি এই বিমানবন্দরেই নামবেন। আটলান্টার মতো না হলেও বছরে প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষ এটি ব্যবহার করছেন।
০৭. ও’হারে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, শিকাগো, যুক্তরাষ্ট্র: শিকাগোতেও শান্তি নেই জার্মান ফুটবল তারকা বাস্টিয়ান শোয়াইনস্টাইগারের ফ্যানদের। কারণ, শিকাগো ফায়ারে যোগ দেয়া এই সাবেক বায়ার্ন ও ম্যানইউ তারকাকে বিমানবন্দরে খুঁজে পেতেই খবর হয়ে যাবে। কারণ, এই বিমানবন্দর দিয়ে চলাফেরা করা ৭ কোটি ৯৮ লাখ যাত্রীর একজন তিনি।
০৮. লন্ডন হিথ্রো, যুক্তরাজ্য: লন্ডনের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর হিথ্রো। ফি বছর এখান থেকে ৭ কোটি ৮০ লাখ মানুষ বিমানে ওঠানামা করেন। আর মাত্র দু’টি রানওয়ে দিয়েই বিমানবন্দরটি তা ম্যানেজ করে।
০৯. হংকং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন: ২০১৭ সালে এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেছেন ৭ কোটি ২৬ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী।
১০. সাংহাই পুদং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট, চীন: সাংহাইয়ে দু’টি বড় এয়ারপোর্ট আছে। এর একটি এই পুদং। এখানে বছরে ৭ কোটি যাত্রী বিমানে ওঠানামা করেন।
সূত্র: ডয়েচে ভেলে।



