
খাশোগিকে হত্যার পুরো বিবরণ দিয়েছে সৌদি আরব
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক, আন্তর্জাতিক রিপোর্ট: ওয়াশিংটন পোস্টের কলামিস্ট ও সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে কিভাবে হত্যা করা হয়েছে তার পুরো বিবরণ দিয়েছে সৌদি আরব । এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমে শ্বাসরোধে তাকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, খাশোগিকে দেশে ফেরত আনতে সৌদি গোয়েন্দাবাহিনীর উপ-প্রধান জেনারেল আহমেদ আল-আসিরিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে ১৫ সদস্যের সমঝোতাকারী একটি দলের প্রধান হয়ে ইস্তাম্বুলে যান তিনি। ওই মুখপাত্র বলেছেন, আসিরিই কনস্যুলেটের ভেতরে খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ দেন।
জামাল খাশোগিকে প্রথমে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর কনস্যুলেটের বাইরে তুর্কি এক এজেন্টের কাছে সাংবাদিক খাশোগির খন্ডিত মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এই খুনের ব্যাপারে যুবরাজ বিন সালমান কোনও তথ্যই জানতেন না।
তবে খাশোগির লাশ কোথায় আছে সৌদি আরব কিছু জানায় নি।
এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান জানিয়েছিলেন, ‘২ অক্টোবর খাশোগি ইস্তানবুলে সৌদি কনসুলেটে ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই তাকে জেরা করেছিলেন সৌদি থেকে আসা গোয়েন্দারা। কথা কাটাকাটির পর তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। তারপর গলাটিপে হত্যা করা হয়। এর পরেই সৌদির সরকারি নিয়ম মেনে শিরোশ্ছেদ করা হয়। শিরোচ্ছেদের পর সযত্নে শরীরটাকে টুকরো টুকরো করে কাটা হয়।’
‘কিন্তু ভারী শরীরের দেহাংশ রাতারাতি লোপাট করা সম্ভব নয় বুঝে তা নাইট্রিক অ্যাসিডে চোবানো হয়। দেহাংশ অ্যাসিডে কয়েক ঘণ্টা গলানোর পর তা নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয়। বেশ কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যা অ্যাসিডে গলে যায় নি, সেগুলো প্লাস্টিক কন্টেনারে রেখে অনেক দূরে কোনও ডাস্টবিনে ফেলার জন্য পাচার করে দেওয়া হয়।’
সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেছেন, গত ২ অক্টোবর ইনজেকশন প্রয়োগের পর ধস্তাধস্তির পর খাশোগিকে খুন করা হয়। পরে তার মরদেহ টুকরো টুকরো করে কনস্যুলেটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, তুরস্ক ও সৌদি আরবের যৌথ তদন্ত দলের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য ও পাবলিক প্রসিকিউটরের তদন্তে দেখা গেছে সৌদি নাগরিক জামাল খাশোগি হত্যায় সন্দেহভাজনের সংখ্যা ২১ জনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১১ জনকে চিহ্নিত করে তাদের আদালতের মুখোমুখি করা হয়েছে। এছাড়া অন্য সন্দেহভাজনদের বিষয়ে অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে। হত্যার নির্দেশ ও অপরাধ সংঘটনে জড়িত পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে বলেও জানোনো হয়।
গত ২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে বিয়ের কাগজপত্র আনতে যান খাশোগি। সেখান থেকে তিনি আর বেরিয়ে আসেননি। তুরস্কের দাবি, সৌদি আরবের রাজপরিবার ও সরকারের নির্দেশেই সরকারি গোয়েন্দারা ঠান্ডা মাথায় খাশোগিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছেন।
ইতোমধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার জামাল খাশোগিকে হত্যার দায়ে পাঁচ কর্মকর্তার ফাঁসির আদেশ দিয়েছে সৌদি আরব।



