
অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গড়ে ওঠা পাঠাও অ্যাপসভিত্তিক যাত্রী ও মালামাল পরিবহন ব্যবস্থার ফাঁক গলিয়ে রাজধানীতে এক তরুণী যে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, তা সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। ওই তরুণী তার মোবাইল ফোন এক আত্মীয়ের বাসায় ফেলে এলে তা ফেরত পাঠানো হয়েছিল পাঠাও সার্ভিসের মাধ্যমে। পার্সেলের বাহক পথে তা খুলে মোবাইল ফোন থেকে ব্যক্তিগত ছবি সরিয়ে নিয়ে তরুণীকে ফেসবুকে খুঁজে বের করে ওই সব ছবির বিনিময়ে অর্থ আদায়ের ফাঁদ পেতেছিল। মন্দের ভালো যে, তরুণী দ্রুতই পুলিশের সহায়তা নিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রতারকরা ধরা পড়েছে।
আমরা নিশ্চয়ই চাইব, দুই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। যাতে করে আর কেউ এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি করার দুঃসাহস না দেখায়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়াবলির ক্ষেত্রে নাগরিকদের সতর্কতাও কাম্য, সন্দেহ নেই। কিন্তু মূল সতর্কবার্তা আমরা দিতে চাই অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে। মোটরসাইকেল বা গাড়ি অ্যাপসে নিবন্ধনের আগে তারা সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে কতটা খোঁজখবর নিচ্ছে? সব অ্যাপসের মাধ্যমে ফোন নম্বরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদিই-বা কতটা সুরক্ষিত?
নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য এসব বিষয় কেবল বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সদিচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। তদারকি প্রতিষ্ঠান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সক্রিয় হতে হবে। আমরা নিশ্চয়ই চাই যে, মুক্তবাজার অর্থনীতির এই রমরমা সময়ে বেসরকারি ব্যবস্থাপনা আরও সম্প্রসারিত হোক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা সুলভ হোক নাগরিকদের জন্য। বস্তুত অ্যাপসভিত্তিক পরিবহন সেবা কীভাবে যানজট লাঞ্ছিত এই নগরীর যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করে দিয়েছে, তাও আমাদের অজানা নয়। কিন্তু নিরাপত্তার প্রশ্ন সর্বাগ্রে। এ ক্ষেত্রে কোনও ফাঁক রাখা চলবে না। এসব ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় আটঘাট বেঁধে ফেলতে হবে। খুব দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি।
