
প্রধান খবরবইমেলাবাংলাদেশ
প্রতীক্ষার বইমেলা রাত ফুরোলেই
রাত ফুরোলেই সাহিত্যপ্রেমী আর লেখক-প্রকাশক-পাঠকদের দীর্ঘ এক বছরের সকল প্রতিক্ষার পালা শেষ করে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হতে যাচ্ছে মাসব্যাপী বাঙালির প্রাণের মেলা ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯’।
এবারের মেলার প্রস্তুতিসহ মেলার অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে আজ ৩১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী জানান, বাঙালির স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা অর্জনের এই পথচলাকে এবার উদযাপন করা হবে মেলা জুড়ে। তিনি বলেন, এর জন্য এবারের মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বিজয় : বায়ান্ন থেকে একাত্তর (নব পর্যায়)’। সেই সঙ্গে, ২০২০ সালে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও ২০২১ সালে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের যাত্রাও শুরু হবে এ মেলা থেকে। নতুন অনেক কিছু সংযোজন করে অন্যান্যবারের চেয়ে এবার আরও সুন্দর ও পরিশীলিতভাবে মেলা অনুষ্ঠিত হবে বলে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন।
ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে গ্রন্থমেলার আয়োজনের সকল প্রস্তুতি। মেলার দুই প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি সেজেছে বর্ণিল রূপে, পাশের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লেগেছে সাজসজ্জার রোশনাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি প্রাঙ্গণ থেকে দোয়েল চত্বর-সর্বত্রই এখন যেন উৎসবের আবহ। এমনই উৎসবের আবহে আজকের রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’।
ভাষা শহীদদের স্মৃতি বিজড়িত ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন আগামীকাল ১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেল ৩টায় এবারের এ গ্রন্থমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত কবি শঙ্খ ঘোষ এবং মিশরের লেখক, গবেষক ও সাংবাদিক মোহসেন আল-আরিশি।
পর্যাপ্ত নিরাপত্তায় চাদরে মোড়ানো এবারের এ গ্রন্থমেলা ছুটির দিন ছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১ টা থেকে রাত ৯টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮ টা থেকে যথারীতি রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর আর কেউ মেলায় প্রবেশ করতে পারবে না।
উদ্বোধনের পরেই সর্বসাধারণের জন্য খুলে যাবে মেলার দুই প্রাঙ্গণের প্রবেশপথ। তারপর থেকেই মূলত শুরু হবে আপামর বাঙালির প্রাণের মেলা। যা চলবে-মাতৃভাষা রক্ষায় বাঙালির আত্মদানের মাস ‘ফেব্রুয়ারি’ জুড়েই। বইমেলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তের বাতাসে ভেসে বেড়াবে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ। এসব বই নিয়ে জমবে লেখক-প্রকাশক-পাঠক আর সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-আড্ডা।



