
নির্বাচিত কলাম
শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী
বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞান সৃষ্টি ও প্রয়োগের স্থান হিসেবেই সারা বিশ্বে দেখা হয়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সৃষ্টিশীলতা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রে থাকে বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞানের বিকাশ সামাজিকতার মধ্য দিয়েই ঘটে। আবার সৃষ্টিশীলতার জন্য প্রয়োজন প্রসারিত হৃদয়। আর সেই প্রসারিত হৃদয় সামাজিকতার অংশ। জ্ঞানের বিকাশ ও হৃদয়ের প্রসার এ দুটি বিষয় ছাড়া শিক্ষা পূর্ণাঙ্গ হয় না এবং বিশ্ববিদ্যালয় তার নামের যথার্থতা পায় না। সেদিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার নামের যথার্থতা কিছুটা হলেও রাখতে পেরেছে। এ বিদ্যাপীঠ সৃষ্টিশীল মানুষ যেমন তৈরি করেছে, তেমনি তৈরি করেছে হৃদয়বান মানুষও। সামাজিকভাবে এ বিশ্ববিদ্যালয় অনেকটা নীরবে একটি বড় কাজ করেছে, সেটি হলো-এ অঞ্চলে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিকাশে বড় ভূমিকা রাখা। স্বাধীনতা অর্জনের আগের কথা বলছি, যখন এ দেশের সাধারণ পরিবারের অনেক ছেলেমেয়ে কলকাতায় বহু পয়সা খরচ করে পড়াশোনা করতে যেতে পারত না। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পেয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তারা বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছে, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত মুসলিম পরিবারের ছেলেমেয়েরা। রাজনীতি থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্যেও তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিকাশের সময় তাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে। বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে, বিশেষ করে ব্রিটিশ শাসনামলে শাসক এবং হিন্দুরা ছিল প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। পাকিস্তান শাসনামলে পাকিস্তানি শাসকরা ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৪৭ সালের পর ব্রিটিশ ও হিন্দু মধ্যবিত্তরাও চলে যায় বলে মুসলিম মধ্যবিত্ত বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের পর নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হলো- অবাঙালিরা। সেটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপলব্ধি করতে পেরেছিল বলে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত।
সব শ্রেণীর মানুষের দুঃখ-কষ্ট বোঝা, বিশেষ করে কৃষকের দুর্দশা বোঝা, ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে যে বৈষম্য ছিল, তার অবসানের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিত হৃদয়বান মানুষের দায়িত্বের অংশ। পরবর্তী সময়ে তা আর নেয়া হয় নি। না নেয়ার কারণ ছিল জাতীয়তাবাদী এবং সমাজতন্ত্রীদের মধ্যে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া। জাতীয়তাবাদীরা ক্ষমতায় এসে নিজ স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কৃষকসহ অন্যান্য শ্রেণীর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয়তাবাদীরা প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারে নি। তারা রূপান্তরিত হয়েছিল শাসকে। রাষ্ট্রের মালিক হয়ে গিয়ে তারা রাষ্ট্রকে আর শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে নি। যে মধ্যবিত্তের প্রসার পাকিস্তান শাসনামলে ঘটেছিল, তা পরবর্তী সময়েও অব্যাহত ছিল। তবে অবস্থার পরিবর্তনে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ভেতর ভাঙন দেখা দেয়। মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রসারের পথ ছিল পুঁজিবাদ, যা আগেও ছিল এখনও রয়েছে। পুঁজিবাদের আধিপত্য ও অন্তর্ঘাতে মধ্যবিত্ত দুই ভাগ হয়ে গেল। একটা অংশ উচ্চবিত্ত এবং আরেকটি অংশ হলো নিম্নবিত্ত। যারা ক্ষমতার কাছে যেতে এবং লুণ্ঠন করতে পেরেছিল, ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করতে পেরেছিল, তারাই উচ্চবিত্ত হয়ে উঠল। আর যারা তা করতে পারে নি, তারা নিম্নবিত্তের গণ্ডিতে থেকে গেল। এখন সমাজের নিম্নবিত্ত শ্রেণীর তেমন কোনও রাজনৈতিক ভূমিকা নেই। অন্যদিকে উচ্চবিত্তের ভূমিকা রাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের মধ্যে আর থাকল না। ক্ষমতার প্রশ্নে জাতীয়তাবাদীদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। সেখানে দ্বিদলীয় রাজনীতি স্থান করে নিল। যেখানে শুধুই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। জনগণের মুক্তি এবং সমাজ পরিবর্তনে এ রাজনীতির ভূমিকা নেই। এখন যারা ক্ষমতায় আছে, তারা ছাত্র রাজনীতি চায় না। সে কারণেই তারা ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করার কথা বলে। ব্রিটিশ ও পাকিস্তান শাসনামলে শিক্ষার্থীরা ছিল রাজনীতির বড় একটা অংশ।
সে সময় জাতীয়তাবাদীরাও ছাত্র আন্দোলনে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কেননা ছাত্ররাই ছিল রাষ্ট্রক্ষমতা পরিবর্তনের প্রধান হাতিয়ার। তখন অন্য শ্রেণী-পেশার মানুষের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য ছিল না বলেই ছাত্রদের রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয়তাবাদীরা যখন ক্ষমতা পেয়েছে তখন আর ছাত্র রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা তারা বোধ করে নি। ছাত্ররা রাজনীতি করে সমাজ পরিবর্তনের জন্য। সেই স্বপ্ন এখনও তারা লালন করে। কিন্তু জাতীয়তাবাদী শক্তি চায় না সমাজ পরিবর্তন হোক। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হয় নি, কিন্তু দলাদলির রাজনীতি শুরু হয়েছে। যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের ছাত্র সংগঠন তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। অন্য দলকে সরিয়ে দেয়। ফলে এখন আর সেই সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতি নেই। হৃদয়বান মানুষের কথা বলেছি, যার সঙ্গে সমাজ পরিবর্তনের সম্পর্ক আছে, সেখানে আজ পুঁজিবাদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে আর আদর্শবাদের পতন ঘটেছে। সমাজতান্ত্রিক ধারা প্রবল হয় নি। ছাত্র রাজনীতি এখন সমাজ পরিবর্তন আর রাষ্ট্রবিরোধিতার পক্ষে নেই। এছাড়া ছাত্রদের বিরাজনীতিকরণও হয়েছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সমাজ পরিবর্তনের রাজনীতি যারা করত, তাদের দলগুলো নিজ অবস্থান থেকে সরে গেছে। তাদের বিচ্যুতি ঘটেছে। তবে কিছু ছাত্র সংগঠন কাজ করছে এখনও।
বিশ্ববিদ্যালয় কেবল দক্ষ জনবল সরবরাহ করেছে তা-ই নয়, নেতৃত্বও তৈরি করেছে। পেশাগত জীবনের সর্বক্ষেত্রেই তারা নেতৃত্ব দিয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এখন বিশ্ববিদ্যালয় আর সেই নেতৃত্ব তৈরি করতে পারছে না। এর প্রধান কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর ছাত্র সংসদ নেই। এটা অকল্পনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা প্রদানের স্থান নয়, সামাজিক প্রতিষ্ঠানও বটে। একাত্তরের স্বাধীনতার আগে সব শাসনামলেই ছাত্র সংসদ ছিল। স্বাধীনতার পরও অনেকদিন তা ছিল। ’৯০-পরবর্তী সময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় নি। শাসক শ্রেণীর এটা নিয়ে কোনও মাথাব্যথাও নেই। তারা ছাত্র মতামতকে সবসময় ভয় পায়। কেননা ছাত্ররা সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, যেখানে শাসকরা সবসময় প্রতিপক্ষ হিসেবে অবস্থান নেয়। ছাত্র সংসদ না থাকলে নেতৃত্ব তৈরি হবে না। সুতরাং শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে কোনও আন্দোলনও গড়ে উঠবে না। বিশ্ববিদ্যালয় কখনোই একটি কারিগরি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এখানে ক্লাসরুমে, কমনরুমে, লাইব্রেরিতে, খেলার মাঠে, নাটকে, গানে, বিতর্কে, সামাজিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হৃদয়কে প্রসারিত করার শিক্ষা দেয়া হবে। সেই অনুশীলন এখন চোখে পড়ে না। নেতৃত্ব তৈরির কাজ বিশ্ববিদ্যালয় এখন আর করছে না। সেজন্য আদর্শবান এবং হৃদয়বান মানুষ তৈরি হচ্ছে না। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এটি আমাদের নেতৃত্বের দিক থেকে দুর্বল করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নামছে বলা হচ্ছে। হ্যাঁ, মান নেমেছে বলাই যায়। আগে একটা গড়পড়তা শিক্ষার ধরন ছিল। তখন শিক্ষার্থীদের মান ছিল একই রকম। উচ্চশিক্ষা নিতে যারা আসত, তারা একটি নির্দিষ্ট ছকের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষা নিত। তখন যারা উচ্চ ডিগ্রি পেত তাদের সম্পর্কে বলা যেত যে, তাদের জ্ঞানের পরিমাণ এতটুকু। কিন্তু এখন সে রকম বলা যায় না। এখন উচ্চশিক্ষায় কিছু ভালো ছাত্র আছে, বাকিরা হয় নিম্নমানের। নিম্নমানের ছাত্ররা পরবর্তী জীবনে যখন দক্ষতা প্রমাণে টিকতে পারে না তখন বদনাম হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। মান নেমে যাওয়ার জন্য সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়কে দায়ী করা যায় না, এ পরিস্থিতির জন্য আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাও কম দায়ী নয়। আগে শিক্ষার সঙ্গে জীবিকার যে সম্পর্ক ছিল, এখন সেটি নেই। আমাদের সময়ে ডিগ্রি নিয়ে বের হলে কোথাও না কোথাও চাকরি হতোই। এখন সে নিশ্চয়তা নেই। শিক্ষা জীবিকা নিশ্চিত করতে পারছে না। এখন রাজনৈতিকভাবে তদবির করে ঘুষ দিয়ে চাকরি নেয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বের যে দায়িত্ব ছিল তা পালিত হচ্ছে না। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত করার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। পুঁজির বিনিয়োগ হয় নি। শিল্প গড়ে ওঠে নি, ভূমি সম্পর্কে বৈপ্লবিক কোনও পরিবর্তন ঘটে নি। শিল্পের জন্য যে অবকাঠামো দরকার যেমন- যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, গ্যাসের ব্যবস্থা, আমরা তা করতে পারি নি। অরাজকতা বেড়েছে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তাহীন। বেকারত্বের হার ভয়াবহ আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, এটি কতটা ভয়াবহ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী ১০০ জন ছাত্রছাত্রীর মধ্যে ৪০ জন কোনও চাকরি পাচ্ছে না। বেকারত্বের কারণে অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। ছাত্রদের মধ্যে শিক্ষার আগ্রহ কমে গেছে। তারা এখন ভবিষ্যতের চিন্তায় অন্যমনস্ক এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে। শিক্ষা গ্রহণের জন্য যে পূর্বপ্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এখন দুর্বল। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা সবসময় পরীক্ষামুখী ছিল। কখনোই শিক্ষামুখী ছিল না। কিন্তু সেই পরীক্ষা এখন বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে। বাণিজ্যের মধ্যে আছে পরীক্ষার আগে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়া, গাইড বই পড়া। ফলে শিক্ষা এখন পণ্যে রূপ নিয়েছে। এই চূড়ান্ত পরিণতি এখন প্রশ্নপত্র ফাঁস। তারা গোল্ডেন জিপিএ পাচ্ছে। কিন্তু বিপত্তি বাধছে যখন উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আসছে। সেখানে তারা আর তাল রাখতে পারছে না। উচ্চশিক্ষায় সব থেকে ভালো বিভাগগুলোয় এখন উপযুক্ত ছাত্র পাওয়া যাচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা প্রদান। আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে হয়েছে। সেই ভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় নি। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল সর্বজনীন ও একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা, যা হবে মাতৃভাষা বাংলায়। মাতৃভাষা শিক্ষার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষা না দিলে সে শিক্ষা গভীর হয় না, স্থায়ী হয় না, সৃষ্টিশীল হয় না। কাজেই বর্তমান শিক্ষা যথোপযুক্ত হচ্ছে না। আমরা কৃত্রিম উপায়ে শিক্ষা দিচ্ছি। উচ্চশিক্ষায় মাতৃভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলাম না। আমরা কেন বাংলায় বই লিখলাম না কিংবা বাংলায় অনুবাদ করলাম না, সে নিয়ে কারও যেন দুশ্চিন্তা নেই। নিজস্ব প্রকাশনা থেকে উচ্চমানের বই কেন প্রকাশ করতে পারলাম না? পাকিস্তান শাসনামলেও বাংলা ভাষা উন্নয়ন বোর্ড বলে একটা কেন্দ্র ছিল। এর কাজ ছিল বাংলায় পাঠ্য বই প্রকাশ করা। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সে প্রক্রিয়াও থেমে গেল। বাংলা একাডেমি আর বাংলা ভাষা উন্নয়ন বোর্ড এক হয়ে গেল। শুধু মহাপরিচালক পদ তৈরি করার জন্যই সেটা করা হয়েছিল। বাংলা একাডেমি সেই দায়িত্ব না নিলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তা নেয়া উচিত ছিল, যা সে নেয় নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে প্রতি বছর অনুবাদের জন্য বরাদ্দ থাকে; কিন্তু অনুবাদের কাজ বলতে গেলে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রকশনা সংস্থাও আছে, কিন্তু সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে যে বই প্রকাশিত হয় এমন নয়। মাতৃভাষার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার প্রবর্তন না করতে পারাটা যে কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক ব্যর্থতা তা নয়, এটা একাধারে রাজনৈতিক এবং সামাজিক ব্যর্থতা। যারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়ালেখা করছে, তারা চাকরিতে সুবিধা করছে। সরকারি থেকে শুরু করে কর্পোরেট সব জায়গায় তাদের আধিপত্য। জ্ঞানের পরিসীমা যাই থাকুক না কেন, ভাষাগত দক্ষতা তাদের প্রতিষ্ঠিত হতে সাহায্য করছে। এখানে বাংলা আর ইংরেজি ভাষার দক্ষদের মাঝে একটি দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, যা মোটেই শুভ নয়। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষাদানের চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়কেই।
লেখক: শিক্ষাবিদ।



