প্রধান খবরবাংলাদেশরাজনীতি

জিএম কাদের স্বপদে ফেরায় খুশি বিদিশা

জাকির হোসেন

জিএম কাদের জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান পদে ফেরায় ভীষণ খুশি বিদিশা। সেই সঙ্গে এরশাদের এই সিদ্ধান্তকে যথার্থ এবং সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে বিদিশা তার এক সময়ের দেবর জিএম কাদেরের স্বভাব-চরিত্র ও আচার-আচরণের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আর সাবেক স্বামী এরশাদের স্বভাবকে তুলনা করেছেন ‘ব্রিটিশ ওয়েদারের’ সঙ্গে।
 
শুক্রবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে জাগরণের সঙ্গে কথা হয় এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশার। এ সময় তিনি জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, বর্তমান ও ভবিষৎ রাজনীতির গতি-প্রকৃতি বিষয়ে কথা বলেন। একই সঙ্গে তুলে ধরেন তার নিজস্ব বিশ্লেষণ।
 
জিএম কাদের প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, আমি খুশি উনি (এরশাদ) জিএম কাদেরকে সম্মান দিয়েছেন, মানি লোকের মান রেখেছেন। এর জন্য আমি উনার ওপর অনেক কৃতজ্ঞ। এরশাদ সাহেব চলে যাওয়ার আগে এটা সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। জিএম কাদেরকে সরিয়ে দেয়ার জন্য নিশ্চয়ই কোনো ষড়যন্ত্র হয়েছিল। যারা এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা যুক্ত তারা বেশিদিন টিকতে পারলো না।
 
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য কাদের সাহেবের বাইরে আমি কোনো লোক দেখি না। কাদের সাহেব শিক্ষিত, সজ্জন, ভদ্র, বিনয়ী এবং মৃদুভাষী। আর সবচেয়ে বড় কথা জাতীয় পার্টির রাজনীতির ভিত্তি হচ্ছে রংপুর। ফলে এই দলের নেতৃত্বে এরশাদ সাহেবের বাইরে আর কে আসতে পারেন। আমি তো কাদের সাহেব ছাড়া আর কাউকে দেখি না।
 
জিএম কাদেরকে কো- চেয়ারম্যান পদে ফিরে আনা হলেও বিরোধী দলীয় উপনেতার পদে ফিরিয়ে আনা হয়নি। এ প্রসঙ্গে বিদিশা তার স্বভাব-সুলভ ভঙ্গিতে হেসে ওঠেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। সব ব্যাপারেই বলতে চাই না।
 
জাতীয় পার্টির বর্তমান সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বেগম রওশন এরশাদ। তিনি কি দলকে এগিয়ে তিনি পারবেন? এ প্রশ্নের জবাবে বিদিশা বলেন, ওনার কথা কি আর বলবো, উনারও তো সময় প্রায় শেষ। উনি শেষ সময়ে আর কি করবেন। উনারা দুজনেই (এরশাদ-রওশন) এখন বয়সের কাছে হার মেনেছেন। তাই সময় থাকতেই এরশাদ সাহেবের উচিত তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার জিএম কাদেরকে দলের ভার বুঝিয়ে দেয়। এ নিয়ে কারো রাজনীতি করার উচিত নয়। মানুষ একটাকে ভালোভাবে দেখে না।
 
জিএম কাদেরকে কো-চেয়ারম্যানের পথ থেকে বাদ দেয়া এবং স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ফিরিয়া আনা প্রসঙ্গে বিদিশা বলেন, এরশাদের মন ক্ষণে ক্ষণ পরিবর্তন হয়। আগেও অনেক বার বলেছি উনার স্বভাব অনেকটা ব্রিটিশ ওয়েদারের মতো— সকালে এক রকম আবার বিকেলে অন্যরকম, এই বৃষ্টি, আবার এই রোদ।
 
দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরে অস্থিরতা চলছে। আর দল গঠনের পর থেকেই চলছে ভাঙা-গড়ার খেলা। এসব কিছু ছাপিয়ে বারবার বিশেষভাবে গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে দলীয় প্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ খামখেয়ালিপনা। তিনি সকালে এক কথা বললে বিকেলে বলেন আরেক কথা। কোনো সিদ্ধান্তে তিনি বিশেষভাবে স্থির থাকতে পারেন না, সব বিষয়েই তিনি দুলতে থাকেন অনেকটা দেয়াল ঘড়ির পেণ্ডুলামের মতো। আর এর কারণে তিনি এ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছেন ‘মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল’ রাজনীতি হিসেবে। এরশাদের ক্ষমতা দখল এবং রাজনৈতিক দল গঠনের পর দেশের রাজনীতি নানাভাবে আবর্তিত হয়েছে, কিন্তু এরশাদ দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে তার ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ স্বভাব স্বমহিমায় ধরে রেখেছেন। জীবন সায়াহ্নেও এরশাদের এই স্বভাবের এতটুকু হের-ফের হয়নি। এর প্রমাণ তিনি আবারও দিয়েছেন গত ২২ মার্চ (শুক্রবার) রাতে। এদিন গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে তার ভাই জিএম কাদেরকে পার্টির কো-চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় জিএম কাদের বিরুদ্ধে দল পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ আনেন এরশাদ। ওইদিন গণমাধ্যমে পাঠানো এক সাংগঠনিক নির্দেশে এরশাদ বলেন, জিএম কাদের পার্টি পরিচালনা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমানে পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে এবং পার্টির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। পার্টির সিনিয়র নেতারাও তার নেতৃত্বে সংগঠন করতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। পরদিন ২৩ মার্চ (শনিবার) জিএম কাদেরকে সংসদে বিরোধীদলীয় উপনেতার পদ থেকেও সরিয়ে দেন। কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার ১২ দিন পর বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) রাতে জিএম কাদেরকে আবারও কো-চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension