অর্থনীতি ও বাণিজ্যবাংলাদেশ

প্রণোদনার দ্বিতীয় ধাপ: ৪১০০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণে আরো ১০ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি

দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে এবং উৎপাদন বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঘোষিত বিভিন্ন অর্থায়ন প্যাকেজ বা প্রণোদনার দ্বিতীয় ধাপে ৪১ হাজার কোটি টাকার তহবিলে অংশ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে আরো ১০টি ব্যাংক। প্রথম ধাপে সাতটি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি সই হয়েছিল।

এর মাধ্যমে মোট ১৭টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এই তহবিলের আওতায় স্বল্প সুদে প্রাক-অর্থায়ন ও পুনরর্থায়ন সুবিধা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হলো।
সম্প্রতি মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এই অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. কবির আহাম্মদ।

দ্বিতীয় ধাপে চুক্তি স্বাক্ষরকারী ১০টি ব্যাংক হলো—অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে রিচার্জ ও ডেটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ডিপার্টমেন্টের পরিচালক মো. আবদুল মান্নান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি) নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপে সাতটি ব্যাংকের (সোনালী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, ইস্টার্ন ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক) সঙ্গে এসংক্রান্ত চুক্তি হয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত অর্থায়ন প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যকে উৎপাদনশীল ও প্রাক-অর্থায়নের মাধ্যমে সাশ্রয়ী ঋণে পরিণত করা।

তহবিলের ৬০ হাজার কোটি টাকার মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে দেওয়া হবে। এর মধ্যে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিমের ২০ হাজার কোটি টাকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পল্লী অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১০ হাজার কোটি টাকা, সিএমএসএমই (কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি) খাতে চলতি মূলধন পুনরর্থায়নে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র (কৃষি হাব) গঠনে তিন হাজার কোটি টাকা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ খাতের পুনরর্থায়নে তিন হাজার কোটি টাকা দেওয়া হবে। তহবিলের বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব তহবিল থেকে ১০টি বিশেষ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন করা হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্যকে যদি সঠিক উপায়ে দেশের উৎপাদনশীল ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে পরিচালিত করা যায়, তবে এটি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। ব্যাংকগুলোকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মো. সারোয়ার হোসেন, নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম খান, মো. আবুল বাসারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension