মৃত্যু কমছে যুক্তরাষ্ট্রে কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে করোনা
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কীভাবে আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে, সেই উপায় সম্ভবত খুঁজে পেয়েছে করোনা।
করোনাভাইরাসে মৃত্যু কমছে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনে। প্রায় দু’মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিনশ’র নিচে নেমেছে। ব্রিটেনেও প্রাণহানি সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
তবে আমেরিকার ফ্লোরিডার স্ক্রিপস রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষকরা বলছেন, করোনাভাইরাসের বড় ধরনের জিনগত মিউটেশন হয়েছে। এতে এর সংক্রমণ ক্ষমতা আরও বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
আগামী নভেম্বরে ভারতে করোনা সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)। চীনে নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় সেখানে গণহারে টেস্ট শুরু হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক সময় সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড-ও-মিটারসের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ লাখ ৭১ হাজার ৬৫১ জন। মারা গেছেন ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭২ জন। অবস্থা আশঙ্কাজনক ৫৪ হাজার ৫১৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ১১৮ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২৬৩ জনের।
বিশ্ব তালিকায় শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক আক্রান্তের গড় প্রায় একই রকম থাকলেও মৃত্যু অনেক কমেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৪ জন, মৃত্যু হয়েছে ৩৩১ জনের। দেশটিতে মধ্য এপ্রিলের পর এটি সর্বনিম্ন মৃত্যুর রেকর্ড। যুক্তরাষ্ট্রে এ নিয়ে মোট আক্রান্ত ২১ লাখ ৬২ হাজার ৮৬৪ জন, মারা গেছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৫৮ জন।
অন্যদিকে তালিকায় পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যেও কয়েক মাসের মধ্যে করোনায় মৃতের সংখ্যা সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশটিতে নতুন করে ৩৬ জন মারা গেছেন, যা ২১ মার্চের পর সর্বনিম্ন। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৪১ হাজার ৬৯৮ জন। ইউরোপের কোনো দেশে এটিই করোনায় সর্বোচ্চ প্রাণহানির ঘটনা। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮৯ জন।
বিশ্ব তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা ব্রাজিলে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৫৯৮ জনের। দেশটিতে মোট আক্রান্ত ৮ লাখ ৭৩ হাজার ৯৬৩ জন, মারা গেছেন ৪৩ হাজার ৪৮৫ জন।
তৃতীয় স্থানে রাশিয়া। দেশটিতে মোট রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ২১০ জন, মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৯১ জনের। স্পেনে মোট আক্রান্ত ২ লাখ ৯১ হাজার ৮ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ১৩৬ জন।
এরপর ইতালিতে আক্রান্ত ২ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮৯ জন, মারা গেছেন ৩৪ হাজার ৩৪৫ জন।
ফ্লোরিডার স্ক্রিপস রিসার্চের ভাইরোলজিস্ট গবেষক হায়ারউন চয়ি বলেন, করোনাভাইরাসের বড় ধরনের জিনগত মিউটেশন হয়েছে। আমরা যে কালচার সিস্টেম ব্যবহার করেছি, তাতে মিউটেশন না হওয়া ভাইরাসের তুলনায় এ রকম মিউটেশন হওয়া ভাইরাস অনেক বেশি সংক্রামক।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কীভাবে আরও বেশি দীর্ঘস্থায়ী হতে হবে, সেই উপায় সম্ভবত খুঁজে পেয়েছে করোনা। স্ক্রিপস রিসার্চের ইমিউনোলজি এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহসভাপতি মাইকেল ফারজান বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টিকে থাকা এবং যতক্ষণ না প্রয়োজন, ততক্ষণ না ভেঙে যাওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছে করোনাভাইরাস।
নভেম্বরেই করোনা সংক্রমণে শীর্ষে যাবে ভারত : ভারতে করোনার সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছাতে পারে মাঝ-নভেম্বরে। আর তখনই ঘাটতি দেখা দিতে পারে আইসিইউ-শয্যা ও ভেন্টিলেটরের।
গবেষণা বলছে, লকডাউনের ফলেই ভারতে সংক্রমণ শীর্ষে পৌঁছতে ৩৪ থেকে ৭৬ দিন দেরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য অবকাঠামো গুছিয়ে নেয়ার সময় মিলেছে। সংক্রমিতের সংখ্যা যা হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে ৬৯ শতাংশ থেকে ৯৭ শতাংশ কমেছে। এদিকে, লকডাউনের পর জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও ৬০ শতাংশ জোরদার হয়েছে বলে জানায় আইসিএমআরের গবেষণা। এর ফলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চিকিৎসা অবকাঠামোয় ঘাটতি হবে না। ⛘
এএফপি



