‘মোদি সমালোচনা এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়েছেন’
ভারত এখন তীব্র সংকটে রয়েছে। ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। লক্ষ লক্ষ মানুষ চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে গেছে। করোনা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মহামারীতে ধরাশায়ী। ৫০ লক্ষ আক্রান্ত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই এখন ভারতের অবস্থান।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমিত দেশ হওয়ার পরেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যতিক্রম। তিনি এখন পর্যন্ত সমালোচনা এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়েছেন। বিরোধীদেরও এই ইস্যুতে বিরত রাখতে সমর্থন হয়েছেন।
গত বছর দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে মোদি বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। এরপর ৮০ শতাংশ হিন্দুর দেশটিতে ‘হিন্দুত্ব জাতীয়তাবাদ’ এজেন্ডা বাস্তবায়ন গতি পায়।
দিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের গবেষক অসিম আলী বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদিকে ভারতে অনেকটা ‘জাতীয় ত্রাণকর্তা’ হিসেবে দেখা হয়। তিনি ভারতীয় জাতি পুনর্গঠনের এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছেন। এ জন্য সরকারের নৈমিত্তিক ব্যর্থতার জন্য তাকে দায়ী করা হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে মোদি শুধু রাজনীতিক নন, তিনি মহাত্মা গান্ধীর ধাঁচে সামাজিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।’
বিগত কয়েক বছরে মোদি হিন্দু জাতীয়তাবাদী নীতির প্রসার ঘটিয়েছেন। জম্মু-কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করেছেন। নাগরিকত্ব আইনে বিতর্কিত সংশোধনী এনেছেন, যাকে সমালোচকরা মুসলিমবিরোধী আখ্যায়িত করেছেন।
তবে দ্বিতীয় মেয়াদে মোদির প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ করোনা মহামারীর কারণে স্তিমিত প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে চরম মন্দায় থাকা ভারতে মোদি কত দিন অস্পৃশ্য থাকতে পারেন, তা নিয়ে সংশয়ে বিশ্লেষকরা।
তারা বলছেন, ট্রাম্প থেকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট বলসোনারোসহ অনেক নেতা করোনাকে হেলাফেলা করেছেন। তারা এগুলোকে সামান্য ফ্লু বলে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেছেন। কিন্তু এই ভুল করেন নি মোদি। মহামারীর শুরু থেকেই তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন।
গত ২৪ মার্চ নরেন্দ্র মোদি যখন ভারতে লকডাউন ঘোষণা করেন, তখন মাত্র ৫০০ জন শনাক্ত ও ১৯ জন মারা গিয়েছিল। তবে দেশটির নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘এখন পেছনে দেখলে বোঝা যায়, এটা (দ্রুত লকডাউন) পরিষ্কার ভুল ছিল। আমাদের আরও অপেক্ষা করা উচিত ছিল। কারণ আমরা বৈশ্বিক মহামারী থামাতে পারি নি।’❐



