
চারটি রাজ্যে বাইডেনের দুর্বলতা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় খুব বেশি বাকি নেই। দেশটির জাতীয় জরিপ নির্বাচনকেন্দ্রিক যে উত্তেজনার কথা বলছে, বাস্তব উত্তেজনা তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি।
রয়টার্স ও ইপসোস জরিপকারী সংস্থার মতে, জাতীয় জরিপে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন ট্রাম্পের তুলনায় এগিয়ে থাকলেও রাজ্যগুলোতে বাইডেনের দুর্বলতা হারজিতের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে করা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় জরিপের ফলাফল চলতি সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে হার-জিতের পার্থক্য খুব কম মার্জিনে হবে বলে বলা হয়েছে। বিশেষত নর্থ ক্যারোলিনা ও ফ্লোরিডার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলোর ফলাফল অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারে।
অ্যারিজোনায় বাইডেন ১ পয়েন্টে এগিয়ে ট্রাম্পের তুলনায়। আর পেনসিলভানিয়ায় ৩, উইনকনসিন এবং মিশিগানে ৫ পয়েন্টে এগিয়ে বাইডেন।
এই ছয়টি রাজ্যই নির্ধারণ করবে কে নভেম্বরের ৩ তারিখের নির্বাচনে জয় পাবেন। রাজ্যগুলো থেকে পাওয়া পয়েন্টের হিসাব বলছে, এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করে বলা যাবে না কে এগিয়ে আর কে পিছিয়ে।
রাজ্য ও জাতীয় পর্যায়ের জরিপ বলছে, এবারের নির্বাচনে ২০১৬ সালের নির্বাচনের মতো মিশ্র ফলাফল আসতে পারে। ওই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পেলেও হোয়াইট হাউজ ও ইলেকটোরাল কলেজ ভোটে রিপাবলিকানরা জয় পাওয়ায় সরকার গঠন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে ন্যাশনাল পপুলার ভোটে জয় পেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় আছেন বাইডেন। আর রাজ্যগুলোতে জয় পেয়ে ট্রাম্পও এমন সুবিধাজনক অবস্থানে চলে আসতে পারেন। আর তেমনটা হলে ইলেকটোরাল ভোটাররা পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাম্পকেই ক্ষমতায় আনতে পারেন।
সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আজকের যে বাড়বাড়ন্ত তার উৎস ট্রাম্প বিরোধিতা। জাতীয়ভাবে দেখলে করোনাভাইরাস, বেকারত্ব ও বর্ণবাদ ইস্যুতে জাতীয় ভোটারদের একাংশ ট্রাম্পের প্রতি বিরক্ত। কিন্তু রাজ্যগুলোর ভোট হিসাবে ট্রাম্প কিন্তু এখনো এগিয়ে, বিশেষ করে সুইং রাজ্যগুলোতে। কারণ ওই রাজ্যের ভোটাররা এখনো বিশ্বাস করেন যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বাইডেনের চেয়ে অধিক দক্ষ ট্রাম্প।
নন-কলেজ ভোটার মধ্যে ১০ শতাংশ শ্বেতাংশ বাইডেনের পক্ষে। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালেও হিলারি ক্লিনটনের পক্ষে ছিল ওই ১০ শতাংশ। কিন্তু তাতে কাজের কাজ কিছু হয় নি।
এক জরিপ বলছে, এখনো যদি নন-কলেজ ভোটারদের জিজ্ঞাসা করা হয় যে তারা প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাকে সমর্থন দেবেন, সেক্ষেত্রে ৫০ শতাংশই ট্রাম্পকে এগিয়ে রাখবেন বলে মনে করছে ইপসোস। আর ৪১ শতাংশ বাইডেনের পক্ষে থাকবে।
চার বছর আগে ৬১ শতাংশ নন-কলেজ শ্বেতাঙ্গ ভোটার ছিলেন ট্রাম্পের পক্ষে। আর হিলারির পক্ষে ছিলেন ৩১ শতাংশ। নন-কলেজ ভোটারদের এই সিদ্ধান্ত পাল্টানোর হার কৌশলগত দিক দিয়ে এগিয়ে থাকা রাজ্যগুলোতে বেশি।
ফ্লোরিডা, মিশিগান, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনের প্রতি ১০ জন নন-কলেজ ভোটারের মধ্যে চারজনই এবার বাইডেনকে সমর্থন দিচ্ছেন, যা ২০১৬ সালের চেয়ে বেশি।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় প্রার্থীর মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন তার বিস্তারিত বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন জনগণ। ফ্লোরিডার জনগণ করোনাভাইরাস ইস্যুতে বেশ সোচ্চার।
অথচ বাইডেন ফ্লোরিডার সমাবেশে করোনাভাইরাসের চেয়েও বেকারত্ব সমস্যার ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। কিন্তু জরিপ বলছে, ফ্লোরিডার ৫১ শতাংশ ভোটার মনে করেন নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরিতে ট্রাম্প বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজ্যগুলোর সমস্যা আলাদা করে বিবেচনা না করার দুর্বলতা জো বাইডেনকে ভোগাতে পারে।❐



