
খুলনা সিটি নির্বাচন: বড় ব্যবধানে এগিয়ে নৌকা
রূপসী বাংলা ডেস্ক:প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ ভোটের আগে উত্তাপ ছড়ালেও খুলনা সিটি করপোরেশনে দলীয় প্রতীকে প্রথম নির্বাচন বড় ধরনের গোলযোগ ছাড়াই শেষ হয়েছে। এখন চলছে ভোট গণনা। ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭৭ কেন্দ্রের ফল পাওয়া গেছে। বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফলাফলে দেখা গেছে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছেন ৯৯০৫২ ভোট। অন্যদিকে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৭০৯০৮ ভোট।
এর আগে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে শুরু হওয়া এই ভোট শেষ হয় বিকাল চারটায়।
মেয়রপদে এখানে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূলত ভোটযুদ্ধ দেখা গেছে আওয়ামী লীগের তালুকদার আবদুল খালেক এবং বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মধ্যে। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্র নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। ভোট শুরুর পরপরই দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নগরীর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সাংবাদিকদের তিনি জানান, দিন শেষে যে ফলাফল হবে, তা মেনে নিবেন।
সকাল আটটা ৫০ মিনিটের দিকে নগরীর রহিমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি এ সময় সাংবাদিকদের কাছে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের মারধর ও বের করে দেয়ার অভিযোগ আনেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের ইকবাল নগর কেন্দ্রে মাত্র দুই ঘণ্টায় সব ভোট কাস্ট হয়ে যায়। কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার খলিলুর রহমান জানান, একদল দুর্বৃত্ত এসে অস্ত্রের মুখে সব জাল ভোট দিয়ে গেছে। পরে তিনি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করেন। আর দুপুরে কেন্দ্র পরিদর্শন করে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনূস আলী ভোট বাতিল করেন।
একইভাবে ভোট কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারার অভিযোগে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের লবণচরা কেন্দ্রের (২৭৮নং) ভোট স্থগিত করতে বাধ্য হয় ইসি। মঙ্গলবার দুপুর দুইটার দিকে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোহাম্মদ আলী হোসেন ভোটগ্রহণ স্থগিতের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া দৌলতপুরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দেয়ানা উত্তরপাড়া ভোট কেন্দ্রে হামলা, ২১ নং ওয়ার্ডের উদয়ন বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ভোটারদের বের করে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দাবি করেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটের শুরুতেই ৪০টি কেন্দ্র দখল করে ধানের শীষ প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়।
একইভাবে সংবাদ সম্মেলন করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক দাবি করেন, জনগণের বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখে এবং নিশ্চিত ভরাডুবি জেনে বিএনপি তাদের ধারাবাহিক মিথ্যাচারের অংশ হিসেবে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। আদৌতে খুলনায় সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।
তবে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে বিএনপির করা অভিযোগ সুনির্দিষ্ট নয় এবং দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠুভাবে ভোট হয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী।
খুলনা সিটিতে ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ড ও দশটি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। মোট ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন ভোটার এ নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ জন পুরুষ এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন নারী। পাঁচজন মেয়র প্রার্থী ছাড়াও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সাধারণ আসনের কাউন্সিলর পদে ১৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।



