
কেমন করে ‘জঙ্গি’ হলেন, বললেন নাবিলা
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন রাজধানীতে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য জোবাইদা সিদ্দিকা নাবিলা। গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-কমিশনার মো. জাফর হোসেন জানান, বুধবার (১ সেপ্টেম্বর) মহানগর হাকিম শাহিনুর ইসলাম তার খাসকামরায় নাবিলার জবানবন্দি নিয়েছেন।
নাবিলা কিভাবে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়লেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে নাবিলা ‘স্বেচ্ছায়’ জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন বলে বিচারককে জানিয়েছেন।
আদালত পুলিশের সংশ্লিষ্ট সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রনপ কুমার ভক্ত বলেন, অনেকক্ষণ ধরে নাবিলা জবানবন্দি দিয়েছে। আমি এখনো কপিটি দেখিনি।
পুলিশের বর্ণনা অনুযায়ী, আনসার আল ইসলামের হয়ে মিডিয়া শাখা অর্থাৎ জঙ্গিবাদের প্রচার-প্রচারণার দায়িত্ব পালন করতেন নাবিলা। সামরিক শাখার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তিনি দেশ ও দেশের বাইরে যে কোনো সময় জিহাদ করার জন্য প্রস্তুত ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নাবিলা ২০২০ সালের প্রথম দিকে নাম-পরিচয় গোপন করে ছদ্মনামে একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন। পরে আনসার আল ইসলামের অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজ ‘তিতুমীর মিডিয়ায়’ যুক্ত হন।
তাদের উগ্রবাদী মতাদর্শ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নাবিলা ফেইসবুক, টেলিগ্রাম ও ‘Chirpwire’ নামের অনলাইন প্লাটফর্মে ছদ্মনামে অ্যাকাউন্ট খোলেন।
মামলার নথিপত্রে বলা হয়, নাবিলা নিজে আনসার আল ইসলামের বিভিন্ন অফিশিয়াল ও আন-অফিশিয়াল চ্যানেলে যুক্ত ছিল। সেই চ্যানেলে আইডি ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা এবং বিভিন্ন হামলায় কৌশলগত বিষয়ে ভিডিও এবং ফাইল শেয়ার করতেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তার বিয়ের কথাবার্তা চললে সে ছেলে পক্ষকে জানায়, জিহাদের ময়দানে ডাক এলে সে সামনের সারিতে থাকবে। এমনকি শহীদি মৃত্যু এলেও পিছু হটবে না এবং ছেলে (পাত্র) এরূপ মতাদর্শের না হলে সে বিয়ে করবে না।



