
কাতার বিশ্বকাপ ২০২২: এক দশকে ৬ হাজার ৫০০ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু!
কাতারে এক বিশ্বকাপ আয়োজন করতে গিয়ে কত শ্রমিকের প্রাণ ঝরেছে তার হিসাব এখনো অজানা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের তথ্যমতে, গত এক দশকে অন্তত ৬ হাজার ৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। যাদের অনেকেই বিশ্বকাপের প্রকল্পের কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল।
তবে কাতার কর্তৃপক্ষ বলছে, গত এক দশকে ৪০০-৫০০ শ্রমিকের মৃত্যু হতে পারে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে শ্রমিকদের মৃত্যুর সংখ্যা গণহারে ধরা হয়েছে। এতে অনেক কর্মী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যারা প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত নন। অবশ্য তারা বলেছেন, প্রতিটি জীবনই মূল্যবান, প্রাণহানির ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কাতার অফিসের প্রধান ম্যাক্স টুনন বলেন, কাতার প্রায়ই কর্মীদের মৃত্যুর প্রয়োজনীয় তথ্য ন্যূনতম বিবরণ ছাড়াই প্রকাশ করে। আইএলওর পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, গার্ডিয়ানের প্রকাশিত মৃতের সংখ্যার মধ্যে নির্মাণ শ্রমিক ছাড়াও সাধারণ অভিবাসীর মৃত্যু সংযুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণে হতাহতের সংখ্যা ভিন্ন হতে পারে।
কাতারে বিশ্বকাপের আয়োজকদের ডেলিভারি অ্যান্ড লিগ্যাসি সুপ্রিম কমিটির দাবি, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে জড়িত প্রবাসী শ্রমিকদের মাত্র ৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া ৩৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
সুপ্রিম কমিটির মহাসচিব হাসান আল থাওদি ব্রিটিশ সাংবাদিক পাইয়ার্স মরগানের সঙ্গে সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাত্কারে এ ব্যাপারে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, বিশ্বকাপের অবকাঠামো নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পগুলোতে প্রবাসী শ্রমিকের মৃত্যুর সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ৪০০ থেকে ৫০০ এর মধ্যে।
২০২১ সালে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে দ্য গার্ডিয়ান। যেখানে বলা হয়, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার সাড়ে ছয় হাজারেরও বেশি অভিবাসী শ্রমিক মারা গেছে। ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের প্রস্তুতি শুরুর পর এ প্রাণহানীর ঘটনা ঘটে।



