
বাইডেন মানবাধিকার নিয়ে মোদীকে ‘লেকচার’ দেবেন না: হোয়াইট হাউজ
রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে বুধবার স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
এই দুই নেতার মধ্যে দুইদিন ধরে বৈঠক হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ। মোদীর এই সফর দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্বের সম্পর্ককে আরো জোরদার করবে বলেও হোয়াইজ হাউজ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। ভারতকে ‘আমাদের যুগের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের একজন’ বলে বর্ণনা করেছে হোয়াইট হাউজ।
চীনের বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবেলায় কৌশলগত কারণেই ওয়াশিংটনের ভারতকে প্রয়োজন। অন্যদিকে, মোদী চাইছেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তার দেশের প্রভাব আরও বৃদ্ধি করতে। বর্তমানে বিশ্বের সর্ববৃহৎ জনসংখ্যার দেশ ভারত।
মোদীর এই সফরে দুই দেশের মধ্যে নানা ধরনের বেশ কিছু চুক্তির ঘোষণা আসবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
মোদীর আমলে ভারতে গণতন্ত্রের পশ্চাদপসরণের অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে উদ্বেগ রয়েছে, বৈঠকে বাইডেন তা প্রকাশ করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
তবে মানবাধিকার নিয়ে তিনি মোদীকে কোনো লেকচার দেবেন না বলেই সাংবাদিকদের জানিয়েছেন হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান।
তিনি বলেন, ‘‘যখন যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যম এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতাসহ নাগরিকদের অন্যান্য স্বাধীনতায় রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ দেখে তখন আমরা আমাদের মতামত জানাই।
‘‘আমরা এমনভাবে আমাদের মতামত জানাই যেন মনে না হয় যে আমরা লেকচার দিচ্ছি অথবা আমরা এটাও জাহির করতে চাই না যে, আমাদের নিজেদের এসব চ্যালেঞ্জ নেই।”
“শেষ পর্যন্ত, ভারতে বসবাস করা ভারতীয়দেরকেই ভারতের রাজনীতি ও গণতন্ত্র কোনো পথে চলছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সেটা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে যাচ্ছে না।”
২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পাঁচবার যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন মোদী। কিন্তু তারপরও ২১ জুন থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত তার এবারের সফর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ এবারই প্রথম তিনি পূর্ণ কূটনৈতিক মর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন।
যদিও মোদীর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অধীনে ভারতে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বাইডেনের দলের নেতারাই চাইছেন তিনি যেন মোদীর সঙ্গে বৈঠকে সেদেশে মানবাধিকারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মোদী-বাইডেন বৈঠকের একটি বড় অংশ জুড়ে যে চীন নিয়ে আলোচনা হবে সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলসহ পুরো বিশ্বে চীন যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছে তা আটকাতে উভয় নেতাই বদ্ধপরিকর।
তবে সুলিভান বলেন, এ সফর চীন নিয়ে নয়। তবে সামরিক ক্ষেত্রে, প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে এবং অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে তা নিয়ে আলোচনা হবে।
এবারের সফরে মোদী বুধবার মার্কিন ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের সঙ্গে ‘ন্যাশনাল সাইন্স ফাউন্ডেশন’ পরিদর্শন করবেন। এদিন রাতে হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে মোদী একটি ব্যক্তিগত নৈশভোজেও অংশ নেবেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউজের সাউথ লনে এ বর্ণিল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মোদীকে স্বাগত জানানো হবে। তারপর ওভাল অফিসে দুই নেতা বৈঠক করবেন। বৃহস্পতিবার রাতে মোদীর সম্মানে আয়োজন করা রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন দুই নেতা।
বৈঠকের পর দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আসার কোনো পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত নেই।



