ভারত

রক্ত বন্যায় ভাসল পশ্চিমবঙ্গ

রাজনৈতিক হিংসা, খুনোখুনির জেরে পশ্চিমবঙ্গের ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোটে শনিবার নিহত হলো ১৭ জন। এদের মধ্যে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসেরই কর্মী ১১ জন। বিরোধীদের ছয়জন কর্মীও খুন হয়েছেন শাসক দলের আক্রমণে। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ থাকলেও কোথাও নিরাপত্তাকর্মীদের গুলি চালাতে হয়নি।

পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণার পর গত এক মাসে ভোটের দিনের মৃত্যু নিয়ে সব মিলিয়ে ৩৯ জন এ বছর রাজনৈতিক হিংসায় মারা গেলেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। শুধু ভোটের দিনেই ১৭ জন খুন হওয়ায় বিরোধী দল বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ৩৫৬ ধারা জারির দাবি করেছে।

যদিও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস ২১টির মধ্যে ১৪টি জেলায় সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে এবং ৬১,৩৭৯টি বুথের মধ্যে মাত্র ৬১টি বুথে অশান্তি হয়েছে বলে পালটা তথ্য দিয়ে দাবি করেছে। তার মধ্যেই শনিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়েছে ৬৬.২৮ শতাংশ। জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

পঞ্চায়েতের মনোনয়ন পর্ব থেকেই পশ্চিমবঙ্গে হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যের সব ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে বিরোধী বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস নেতারা দ্বারস্থ হন কলকাতা হাইকোর্টের। হাইকোর্ট ৮২২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেন। জানায়, সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য রাখতে হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত রাজ্যের সব ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ জানিয়েছেন, ‘৬০ হাজার বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত এক-চতুর্থাংশ ভোটেই তারা রয়েছে। তারপরও হিংসার অভিযোগ থামেনি।’ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যের সাতটি জেলায় হিংসার জেরে ১৭ প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে। ওই সাত জেলায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। ব্যালট লুট, ব্যালট বাক্সে আগুন, জল ঢালার অভিযোগও উঠেছে। ভোটের দিনও হিংসা থামেনি মুর্শিদাবাদে।

শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন পাঁচজন। সেখানে দুই তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। নিহত এক কংগ্রেস এবং সিপিএম কর্মীও। দক্ষিণ ২৪পরগনার বাসন্তীতে নিহত হন তৃণমূল কর্মী। কোচবিহারের ফলিমারি গ্রামপঞ্চায়েতে ভোটেরহাট ৪/৩৮ নম্বর বুথে বিজেপির এজেন্টকে খুনের অভিযোগ উঠেছে। দিনহাটায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে বিজেপি কর্মীর। মালদহের মানিকচকে তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

ইংরেজবাজারে বোমাবাজিতে নিহত তৃণমূল প্রার্থীর শাশুড়ি। নদিয়ার চাপড়ায় তৃণমূলের এক কর্মীকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। গোয়ালপোখরেও শাসক দলের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায় নিহত তৃণমূলের এজেন্ট। গোয়ালপোখরে এক কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। নাম মহম্মদ জামিরউদ্দিন। যদিও রাজ্য নির্বাচন কমিশনার রাজীব সিংহ জানান, ‘ভোটের দিন নয় জনের মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রাজ্য পুলিশের বিষয়, নির্বাচন কমিশনের কাজ ‘ব্যবস্থাপনা’। সেই কাজটা কমিশন করেছে। অশান্তির অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এলাকার এসপি, জেলা শাসককে জানিয়েছে।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension