মুক্তমত

জাতিসংঘে বাংলাদেশ: বহরের সংখ্যা রহস্য

আজিজুল পারভেজ

একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়া মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে মানুষের প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি। নতুন কিছু পাওয়ার প্রত্যাশা যেমন ছিল, তেমন ছিল পুরনো কোনো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না দেখার প্রত্যাশা।

একটি মাত্র প্রসঙ্গ এখানে অবতারণা করতে চাই। বিদেশে যাওয়ার সময় সফরসঙ্গীদের নেওয়ার ক্ষেত্রে বিগত এক বছরে যা ঘটেছে তাতে মানুষের প্রত্যাশা অনেকটাই হোঁচট খেয়েছে বলা যায়।

শুরু থেকেই বিদেশের সফরসঙ্গীদের সংখ্যা প্রকাশ নিয়ে একটা লুকোচুরির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত বছরের অগাস্টে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৯তম অধিবেশন সমানে রেখে প্রচার করা হয় মুহাম্মদ ইউনূস মাত্র সাত জন সফরসঙ্গী নিয়ে এবার নিউ ইয়র্ক যাচ্ছেন। সেই সাত জনের তালিকায় কারা থাকবেন তাও প্রকাশ করা হয়। সেবার যাদের কথা বলা হয়েছিল তাদের মধ্যে ছিলেন—ড. ইউনূসের মেয়ে দিনা আফরোজ ইউনূস, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, দৃকের প্রধান শহিদুল আলম, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম, একান্ত সচিব শাব্বীর আহমদ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা সিদ্দিকা তিথি।

এই স্বল্প বহরের খবরে চারদিকে বাহ বাহ পড়ে যায়। কারণ বিগত সময়গুলোতে সরকারপ্রধানরা যেখানে দুই-থেকে তিন শত জনের বহর নিয়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতেন সেখানে মুহাম্মদ ইউনূস যাচ্ছেন মাত্র সাত জন নিয়ে! বাহবা তো দেওয়ারই কথা। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, সফরসঙ্গীর সংখ্যা সাত জন নয়, প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৮০-এর বেশি। সুকৌশলে সংখ্যাটি আড়াল করে রাখা হয়। যদিও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সরকারি পুস্তিকায় ৫৭ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। সেই সময় নিউইয়র্ক যাত্রার আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছিলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয় সংকোচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কিছু বিষয় আছে, যেগুলো এড়ানো সম্ভব নয়।”

এরপর লক্ষ্য করা গেল, প্রধান উপদেষ্টার বিদেশ সফরের সঙ্গীদের নিয়ে আর কোনো তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। যদিও প্রধান উপদেষ্টা প্রতি মাসে গড়ে একটি করে বিদেশ সফর করেছেন। সবগুলো সফর রাষ্ট্রীয় সফর না হলেও রাষ্ট্রীয় সফর বলেই প্রচার করা হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্য সফর নিয়ে রীতিমতন তুলকালাম কাণ্ড ঘটে। যুক্তরাজ্যে গিয়েও সে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পাননি আমাদের প্রধান উপদেষ্টা। তখন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য সচিব বলেছিলেন, সেদেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনে নেই। পরে দেখা যায় তথ্যটি সঠিক ছিল না। এই আলোচনার মধ্যে তখন একজন প্রবাসী সাংবাদিক প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের তালিকা ও ব্যয়বহুল হোটেল বিলের তথ্য ফেইসবুকে প্রকাশ করে দেন। ব্যক্তিগত সফরে গিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় নিয়ে তখন প্রশ্ন ওঠে। আরেকটি বিষয় তখন সামনে আসে। রাষ্ট্রীয় বিমান থাকার পরও বিদেশী সংস্থার বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে কেন? কিন্তু কোনো প্রশ্নেরই জবাব মেলেনি।

এবারের জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনকে সামনে রেখে সফরসঙ্গীদের সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রেও আগের মতো লুকোচুরির আশ্রয় নেওয়া হয়।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার নিউ ইয়র্ক সফরের বিস্তারিত জানাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এবার চারজন রাজনীতিবিদকে সফরসঙ্গী হিসেবে নিয়ে যাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এর বাইরে এবার কতজনের বহর যাচ্ছে, তাতে কারা কারা আছেন কিছুই প্রকাশ করা হয়নি।

নিউ ইয়র্ক বিমানবন্দরে আখতার হোসেনের ওপর ডিম ছোড়ার ঘটনার যে ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে তাতে দেখা যায়, প্রধান উপদেষ্টার বহরে রাজনৈতিক আসলে চার জন নন, রয়েছেন ছয় জন। এরপর অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের তালিকা তার ফেইসবুক পাতায় প্রকাশ করে দিলে আলোচনার ঝড় শুরু হয়। ওই তালিকায় দেখা যায়, এবার সফরসঙ্গীর বহরে রয়েছেন ১০৪ জন। যা রীতিমত বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

এবারের সফর সঙ্গীদের তালিকায় দেখা যায়, প্রথমবার ড. ইউনূসের একজন কন্যা থাকলেও এবার রয়েছেন দুই কন্যা। দৃকের ড. শহিদুল আলম এবারও রয়েছেন। আর উপদেষ্টা আছেন চারজন, উপদেষ্টা পদমর্যাদার রয়েছেন দুইজন। বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকও রয়েছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তা আছেন ১৯ জন এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ৪৭ জন।

এরপর দৈনিক প্রথম আলো ‘প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীর বড় তালিকা নিয়ে প্রশ্ন’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন বলছে, ‘গত বছর অধ্যাপক ইউনূসের নিউইয়র্ক সফরের বহর পুস্তিকা অনুযায়ী ৫৭ জনের হলেও সরকারি নথিতে এ সংখ্যা ছিল ৮০ জনের বেশি। এবার পুস্তিকা অনুযায়ী ৬২ আর সরকারি নথি অনুযায়ী ১০৪ জন। সরকারপ্রধানের বিদেশ সফরের সময় পুস্তিকা ও নথি দুটোই তৈরি করে থাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’ এই প্রতিবেদনের কোন প্রতিবাদ কিংবা সংশোধনী এখনও চোখে পড়েনি।

ব্যয় সংকোচনের ঘোষণা দেওয়ার পরও রাষ্ট্রীয় অর্থব্যয়ে এই বিপুল সংখ্যক মানুষের সফর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সরকারটা যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন এবং নির্দলীয়ও, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. ইউনূসের মতো বিশ্বনন্দিত মানুষ সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের এই অপচয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠা একেবারে অস্বাভাবিক নয়।

১০৪ জনের ১০ দিনের সফরে রাষ্ট্রের কী পরিমাণ টাকা ব্যয় হচ্ছে, সে হিসাব একেক জন একেক রকমের দিচ্ছেন। একজন লেখক-গবেষক একটি হিসাব প্রকাশ করেছেন। তার ধারণা অনুসারে, জনপ্রতি খরচ ৮০০০ হাজার ডলার করে, বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার কম ব্যয় হচ্ছে না। অতিথি সংখ্যা ১০০ জন হলে হিসাব প্রায় ১০ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে। কেউ কেউ দেখলাম, আরও বেশি টাকা ব্যয়ের হিসাব দিচ্ছেন। প্রকৃত তথ্য গোপন রাখলে এ রকম ধারণাপ্রসূত হিসাব প্রকাশিত হতেই থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। নিউ ইয়র্কে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার এই সফরের সঙ্গীদের তালিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়েছে। সফরসঙ্গীর তালিকায় কত জন আছেন, কত টাকা ব্যয় হচ্ছে—এমন প্রশ্নের পাশাপাশি জানতে চাওয়া হয়েছে প্রেস উইংয়ের কতজন সফরে এসেছেন? প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম পাঁচ জন এসেছেন বলার পর জানতে চাওয়া হয়েছে, রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ে এত জন আসার প্রয়োজন ছিল কিনা; ব্রিফিংয়ে তিন জন আছেন, বাকি দুই জন কই? শফিকুল আলম তার মতো করে উত্তর দিয়েছেন। সফরসঙ্গীদের সংখ্যা ও ব্যয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, সরকারের সব কার্যক্রম ট্রান্সপারেন্ট। কোনো রাখঢাক নেই।

এদিকে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের বিরাট বহর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে টিআইবি বলেছে, ‘শতাধিক প্রতিনিধিসহ চলতি অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী বার্তা দিল? এর বিনিময়ে দেশ ও জনগণ তথা করদাতাগণের কোনো সুফল পাওয়ার সম্ভাবনাই বা কতটুকু? এই প্রশ্নের উত্তর জানার অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে।’

টিআইবির এই বিবৃতির প্রতিবাদ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার তথ্য সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার বর্তমান প্রতিনিধিদল অতীতের হাসিনা আমলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ছোট এবং অনেক বেশি মনোযোগী, কর্মঠ ও ফলাফলমুখী।’ তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের প্রতিনিধিদলে সদস্যসংখ্যা ৬২, যা টিআইবির দাবি করা ১০০-এর বেশি নয়। গত বছর প্রতিনিধিদলে সদস্য ছিল ৫৭ জন। তবে এতে প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে ভ্রমণ করা ছয়জন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলেও তিনি পরিষ্কার করেন।

তথ্য সচিব আরও বলেন, এবারের সফরসঙ্গীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিরাপত্তা কর্মকর্তা, যারা প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্ব পালন করছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পক্ষ থেকে আসা প্রকাশ্য হুমকির কারণে এই নিরাপত্তাব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অনেক কর্মকর্তা প্রতিদিন টানা ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

এই যে এত আলোচনা-সমালোচনা, তার প্রকৃত কারণ যথাসময়ে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ না করা। মানুষকে প্রকৃত তথ্য জানতে না দিলে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হবেই। সাময়িকভাবে হয়তো কোন তথ্য আড়াল করা যায়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে কিছুই ঢেকে রাখা সম্ভব না। বিশেষ করে বিদেশে গিয়ে দেশের প্রসঙ্গ নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতি কারো জন্য কাম্য হতে পারে না।

নিউ ইয়র্কের প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার তথ্য সচিব দাবি করেছেন, সরকারের সবকিছু ট্রান্সপারেন্ট। দেশের মানুষ তো সেটাই চায়। সরকার সত্যিই ট্রান্সপারেন্ট হয়ে থাকলে প্রত্যাশা করব, এই সফর নিয়ে যে সব প্রশ্ন উঠেছে তার সবকিছু তারা পরিষ্কার করবেন।

তারা জানাবেন—

* জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগদান উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী তালিকায় কতজন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তা সফর শুরুর আগেই প্রকাশ করা হলো না কেন?

* সফরসঙ্গী হিসেবে যারা গেলেন, তাদেরকে কোন ক্রাইটেরিয়া বা প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করা হলো?

* সফরকালে অন্তর্ভুক্তদের কাজটা কী ছিল, জাতির জন্য তারা সেখানে গিয়ে কী কাজ করে এলেন?

* পরিবারের সদস্যরা এই সব সফরে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ কী, তারা রাষ্ট্রের জন্য কী কাজ করলেন সফরে গিয়ে?

* কাউকে সম্মানিত করার জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকলে সেটাও পরিষ্কার করে বলে দেওয়া হচ্ছে না কেন?

* শেষ পর্যন্ত এই সফরে কতজন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, এই খাতে রাষ্ট্রের কত টাকা ব্যয়টা হলো?

* নিউ ইয়র্কে না হয় বিমানের ফ্লাইট নেই, কিন্তু যে সব দেশে বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট রয়েছে সে সব দেশ সফরের ক্ষেত্রে ‘ভিনদেশী’ বিমান পছন্দ করার কারণ কী?

* সব কিছুতেই যেখানে সংস্কারের আলাপ হচ্ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে সংস্কারটা কী করা হলো?

দেশের মানুষ চায় সবকিছুতে সরকারের স্বচ্ছতা থাকুক। উল্লেখিত প্রশ্নগুলোর ব্যাখ্যা দিয়ে সরকার নিজেদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এ আশা করতেই পারি।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension