
ডাইনোসর ও আদম আ: (কুরআন ও হাদিসের আলোকে)
সংকলক – ইসা লিও রমিও
‘ডাইনোসর’ একটি নতুন শব্দ যা বৃহৎ সরীসৃপজাতীয় প্রাণী এবং জুরাসিক যুগে রাজত্ব করতো। ঊনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ডাইনোসরের প্রথম জীবাশ্ম আবিষ্কৃত হয়। ধারনা করা হয় ডাইনোসররা এই পৃথিবীতে রাজত্ব করে গেছে ১৩৫ মিলিওন বছর; যাদের অস্তিত্ত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে মাটির তলদেশে ফসিল আকারে!
ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি বিধ্বংসী প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডাইনোসরদের পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করে দেয়। সব কয়টি মহাদেশেই ডাইনোসরদের জীবন্ত ও প্রস্তরীভূত নানা প্রজাতির দেখা পাওয়া যায়।
পর্বতগাত্র বা শিলায় আটকা পড়ে থাকা ডাইনোসরের কঙ্কাল পৃথিবীর বিভিন্ন জাদুঘরে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। ডাইনোসরেরা বর্তমান বিশ্ব সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গে পরিণত হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মে বিনোদনের খোরাক হিসাবে ডাইনোসর নিয়ে চলচ্চিত্র, অ্যানিমেশন, বিনোদন পার্ক ইত্যাদি সমস্তই অত্যন্ত জনপ্রিয় বিষয়। ডাইনোসর প্রজাতির বিশাল আয়তন এবং তাদের সম্ভাব্য হিংস্র স্বভাবের দরুন তারা শিশু ও বয়স্ক সবার কাছেই বিশেষ আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সর্বাধিক বিক্রিত বই এবং জুরাসিক পার্ক চলচ্চিত্রে ডাইনোসরের জনপ্রিয়তা থেকে বোঝা যায় সাধারন মানুষের আগ্রহের পরিমান কতটা।
১৮৪২ খ্রীষ্টাব্দে পুরাজীববিদ স্যার রিচার্ড ওয়েন, ডাইনোসরের আনুষ্ঠানিক নামকরণ করেন। ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর নানা অঞ্চল থেকে সরিয়ান (Saurian) গোষ্ঠীর সরীসৃপদের যে “বিশিষ্ট শাখা অথবা উপবিভাগের” সদস্যদের অবশেষ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল, তাদের নির্দিষ্ট করতেই এই শব্দটির ব্যবহার শুরু হয়। গ্রিক ভাষার δεινός (দেইনস, অর্থাৎ “ভীষণ” বা “ভয়াবহ”) এবং σαῦρος (সাউরোস, অর্থাৎ “গোধা” বা “গিরগিটি”)- এই দু’টি শব্দ জুড়ে ডাইনোসর কথাটি তৈরী হয়েছে। যদিও নামটা ডাইনোসরদের দাঁত, নখ ও অন্যান্য ভয়াবহ বৈশিষ্ট্যের কথা মনে পড়িয়ে দেয়, কিন্তু ওয়েন এই নামকরণ করেছিলেন প্রধানত প্রাণীগুলোর আয়তনের কথা মাথায় রেখে ।
মাঝে মাঝেই প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়, এতো বড় একটা প্রানীর ব্যাপারে কুরআন বা হাদিসের কোথাও বলা নাই কেন? আসুন আমরা তার উত্তর খুজি কুরআন ও হাদিসে ।
মনে রাখতে হবে কুরআন কোনো বিজ্ঞানের বই নয়। এতে রয়েছে বিভিন্ন চিহ্ন বা আয়াত বা নিদর্শন। সেই চিনহ বা নিদর্শন থেকে অন্তনিহিত মর্ম বের করতে হবে । যখন কেউ কু’রআন পড়া শুরু করবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি থেকে, সত্যিকারের কৌতূহল থেকে কু’রআন জানার জন্য, শুধুমাত্র তখনি তার পক্ষে পড়ে সঠিক পথনির্দেশ পাওয়া সম্ভব হবে।
কুরআনে যদি সকল বিষয় বিশদ বর্ণনা থাকতো তবে তা বিশাল এনসাইক্লোপিডিয়া হতো! তাই আল্লাহ সব কিছুই সুপার জিপ ফরম্যাটে সাইন বা ইঙ্গিতে বলে দিয়েছেন। কুরআন হলো ‘শর্ট টেলিগ্রাফিক মেসেজ’। প্রয়োজনীয় দরকারি বিষয়গুলো শর্টকাটে বর্ণিত হয়েছে।
কুরআনে ডাইনোসরের কথা প্রত্যক্ষভাবে নেই মানে তার মানে এই না বলা হয় নি। আল্লাহ সকল প্রাণীকে বা জীবজন্তুকে (beast) বুঝাতে ‘দা-ব্বাহ’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন যাদের মধ্যে ‘ডাইনোসর’ও যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। ‘ডাইনোসর’ একটি প্রাণীই নতুন কোনো সত্ত্বা নয় যে একে আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে।
“নিশ্চয়ই আসমান ও জমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীর নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন এবং তদ্দরা মৃত জমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম ‘জীবজন্তু’।….” সূরা বাকারা ১৬৪ নং আয়াত
“আল্লাহ প্রত্যেক জীবকে পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। তাদের কতক বুকে ভর দিয়ে চলে,কত দুইপায়ে ভর দিয়ে চলে,কতক চারপায়ে; আল্লাহ যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব করতে সক্ষম।” সুরা নূর : ৪৫ নং আয়াত
‘জীবজন্তু’ শব্দটি ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আমরা যদি সুরা বাকারা ২১ নং আয়াতটি ভালমত বিশ্লেষণ করি তবে দেখতে পাব অতীত কালের কথা।
হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। যেন তোমরা সাবধানতা অর্জন করতে পারো। সুরা বাকারা ২:২১
খেয়াল করতে হবে সম্বোধন করা হয়েছে হে মানব সমাজ বলে। শুধু হে মানব নয়। মানব সমাজ যদি একটি ইউনিট হয় তবে অনুবাদটি হবে অনেকটা এই রকম
হে মানব সমাজ! তোমরা (মানব সমাজ) তোমাদের (মানব সমাজের) পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে (মানব সমাজকে) এবং তোমাদের (মানব সমাজের) পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন।
প্রশ্ন হল মানব সমাজের পূর্বে কি ছিল ? সাধারন উত্তর হবে জিন বা ফিরিশতা ছিল । কিন্তু বিজ্ঞান ভিত্তিক উত্তর দিতে হলে মানব ইতিহাস ও যুগের আলোকে উত্তর খুজতে হবে। বর্তমান বিজ্ঞান ও ইতিহাসের দিকে তাকালে সর্ব সম্মতি ক্রমে বলা যায় মানুষের আগে এই পৃথিবীতে ছিল ডাইনোসর নামক বিশাল দেহী প্রজাতি।
কুরআনের আয়াতটির দিকে আবার লক্ষ্য করি
হে মানব সমাজ! তোমরা মানব সমাজের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি মানব সমাজকে এবং মানব সমাজের পূর্ববর্তীদিগকে বা ডাইনোসরদের সৃষ্টি করেছেন।
এবার হাদিসের দিকে যদি তাকাই ইমাম বুখারী (র) কিতাবুল ইস্তিয়ানে’ আর ইমাম মুসলিম (র) তার গ্রন্থে ভিন্ন
ভিন্ন সুত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন ৷ ইমাম আহমদ (র) বর্ণনা করেন যে , আবু হুরায়রা (বা) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেছেন :
আদম (আ)-এর উচ্চতা ছিল ষাট হাত আর প্রস্থ সাত হাত ৷
“সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, সহীহ ইবনে খুযায়মা প্রভৃতি হাদীসগ্রন্থে হযরত আবু হুরায়রার রেওয়ায়েতে হাদীস উদ্ধৃত হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, আদি মানব হযরত আদম আ. ৬০ হাত (৯০ ফুট) দীর্ঘ দেহের অধিকারী ছিলেন। সনদের দিক থেকে হাদীসটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য।
আদম আ এর এত বড় দেহ কেন ? হাইপো থিসির অনুসারে আদম আ কে যদি ডাইনোসর যুগে পৃথিবীতে পাঠানো হয় তবে স্বাভাবিক ভাবেই বিশাল সাইজের ডাইনোসরদের সাথে টিকে থাকার জন্য তার বিশাল দেহই প্রয়োজন ছিল।



