সম্পাদকীয়

দুর্নীতি দমনে দুর্নীতি!

দুর্নীতি দমনে সরকার ‘শূন্য সহিষুষ্ণতা’র অঙ্গীকার করেছে। দুর্নীতি সমাজে কতটা ক্ষত সৃষ্টি করেছে, এর নজির নানা ক্ষেত্রেই দেখা যায়। মঙ্গলবার দেশের সংবাদপত্রগুলোর এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আসামিকে বাঁচাতে দুর্নীতির মামলার নথি হাওয়া হয়ে গেছে। দুদকের কর্মকর্তারা পাঁচ বছর ধরে এই নথি হদিসের চেষ্টায় রয়েছেন। দুদকের দায়ের করা একটি মামলার নথি চট্টগ্রামের আদালত থেকে খাগড়াছড়ির আদালতে পাঠানোর দাবি করা হলেও কোথাও এর খোঁজ মিলছে না। বিষয়টি বিস্ময়কর এবং যুগপৎ প্রশ্নবোধকও বটে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ মামলার আসামিকে এ জন্য বিচারের মুখোমুখিও করা যায় নি।
 
ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। মামলার নথিই যদি গায়েব হয়ে যায়, তাহলে মামলার কার্যক্রম চালানো যাবে না,বিচারের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে। এই অপক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের কেউ না কেউ জড়িত, স্বাভাবিকবোধে তাই আসে। আসামিকে রক্ষায় দায়িত্বশীল অসাধু কারও না কারও যোগসাজশ ছাড়া এমন কাণ্ড ঘটতে পারে না।
 
আদালতের বেঞ্চ সহকারী বলেছেন, নথিটি ২০১৪ সালে চট্টগ্রাম আদালত থেকে খাগড়াছড়ির সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে। ডাক বিভাগের সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন আছে। যদি বেঞ্চ সহকারীর বক্তব্য সঠিক হয়, তাহলে এই ঘটনার দায় ডাক বিভাগও এড়াতে পারে না। আসামিকে আইনের আওতায় আনতে গেলে সর্বাগ্রে দরকার মামলার নথি। দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতিরেকে বিচার কীভাবে সম্ভব?
 
শুধু দুর্নীতির মামলা কেন, যে কোনও মামলার নথি হারানোর দায়টা সর্বাগ্রে বর্তায় আদালতের সংশ্নিষ্ট ক্ষেত্রে কর্মরতদের ওপর। এ ব্যাপারে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এত বড় ঘটনার বিষয়টি কোনভাবেই উদাসীনতার মোড়কে ঢাকা পড়ে থাকতে পারে না। এর জন্য দৃষ্টি দিতে হবে উৎসে। পুরো বিষয়টি রহস্যজনক। এই রহস্য উন্মোচনে ত্বরিত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। কোনও অসাধু চক্রের কারসাজি ছাড়া এমন ঘটনা ঘটতে পারে না। এক্ষেত্রে অভিযুক্তের সঙ্গে তাদের সন্ধির বিষয়টিও সঙ্গতই আলোচনায় চলে আসে। আশু এর প্রতিকার নিশ্চিত করা হোক।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension