
সম্পাদকীয়
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন প্রসঙ্গে
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনয় শিল্পী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি বাংলাদেশ সফরে এসে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। নিজের চোখে দেখেছেন রোহিঙ্গাদের দুর্দশা। সোমবার ঢাকায় এসেই কক্সবাজার ছুটে যান তিনি। সেখানে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের মুখে তাদের ওপর নির্যাতন, ধর্ষণ, জীবন্ত পুড়িয়ে মারা ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাসহ মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সকল আন্তর্জাতিক অপরাধের বর্ণনা শোনেন।
জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিশেষ দূত অ্যাঞ্জেলিনা জোলি নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা তাদের মুখে শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আলোচিত হবে এবং এতে করে তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেওয়া এবং সেখানে নিরাপদে বসবাসের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জনমত তৈরি হবে।
তবে এতে করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ ফলপ্রসূ হবে কিনা তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। কেননা এর আগে বলিউড অভিনয় শিল্পী প্রিয়াঙ্কা চোপড়াও এসেছিলেন। সেক্ষেত্রে কিছুটা আলোড়ন ওঠা ছাড়া কাজের কাজ তেমন কিছু হয় নি।
এ অবস্থায় বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যেন নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে সে উদ্যোগ নিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। একইসঙ্গে সমস্যাটির সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকেও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে।
পরিতাপের বিষয়, মানবাধিকারের বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ দেশগুলো জোরালো ভূমিকা নেওয়ার পরও কয়েকটি দেশের সমর্থনে রোহিঙ্গাবিরোধী তৎপরতা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার। কোনও অপরাধের ক্ষেত্রে যদি অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করা না হয়, তাহলে তারা দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং নানা টালবাহানা করে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রেও তেমনটিই ঘটছে।
কাজেই আর বিলম্ব না করে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদানসহ কফি আনান কমিশনের সুপারিশের আলোকে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের বাস্তুভিটায় ফেরানোর পদক্ষেপের বাস্তবায়ন করতে হবে দ্রুত।
অ্যাঞ্জেলিনা জোলির রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের খবর এবং বিশেষ দূত হিসেবে ইউএনএইচসিআরে দেওয়া তার বিবৃতি রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
প্রভাবশালী বিভিন্ন ব্যক্তির সফর আয়োজনের পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক তৎপরতা, বিশেষত চীন, ভারত ও রাশিয়া যেন রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
