
প্রেমিককে চিরকুট লিখে প্রেমিকার আত্মহত্যা
ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে প্রেমিককে চিরকুট লিখে প্রেমিকা আত্মহত্যা করেছে। এ নিয়ে প্রেমিকের পরিবার জনরোষ থেকে বাঁচার জন্য গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রোববার বিকালে উপজেলার তালুক শিমুলবাড়ী গ্রামে।
জানা গেছে, তালুক শিমুলবাড়ী নয়াবাজার এলাকার ভ্যান্ডার মকু মিয়ার অনার্স পড়ুয়া ছেলে রাজু মিয়ার (২৩) সঙ্গে প্রায় এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল একই এলাকার শিমুলবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণীর ছাত্রী মৃত আফাজ উদ্দিনের মেয়ের। গত ৩০ জুলাই প্রেমিক-প্রেমিকা আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের কাছে আটকও হয় ওই ছাত্রীর বাড়িতে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ছাত্রীকে বিয়ের আশ্বাসে প্রেমিক রাজুকে সন্দেহমূলক মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
মামলায় জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রেমিক রাজু গোপনে শনিবার প্রেমিকার সঙ্গে প্রতারণা করে তার পরিবারের মতামতের ভিত্তিতে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। চলে ধুমধাম খাওয়া-দাওয়া। বিষয়টি সহ্য না হলে রাজু ও তার পবিবারকে দোষারোপ করে একটি চিরকুট লিখে রোববার বিকালে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে প্রেমিকা। ক্ষণিকের মধ্যে আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রীর বাড়িতে মানুষের ঢল নামে।
চিরকুটে লেখাটি তুলে ধরা হলো-
আমি মমতা মিতু, আমি রাজুকে খুব ভালোবাসি। রাজুর জন্য আত্মহত্যা করলাম। কারণ আমি ও রাজু দুজনেই দুজনকে খুব ভালো বাসতাম। কিন্তু রাজুর মা-বাবা আমাদের সম্পর্কটা মানতে চান না। তাই রাজুর বিয়ে দিয়েছে। আজ ওর বৌভাত, আমি এটা মানতে পারছি না। তাই আমি এই পৃথিবী ছাড়লাম। কিন্তু এই শাস্তি আমি একাই ভোগ করছি না। আমি চাই আমাদের এ সম্পর্কটার মাঝে যারা বাধা ছিল, তারা আইনি শাস্তি পাক। ইতি মিতু।
খালা রোজিনা ও মামা মমিনুল জানান, রাজুর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক এলাকার সবাই জানেন। রাজু ৩০ জুলাই আমার ভাগনির সাথে দেখা করতে আসে এবং এক ঘরে ছিল। ওই সময় তাকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ এসে রাজুকে থানায় নিয়ে যান। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলে ধর্ষণ মামলা না দিয়ে পুলিশ সন্দেহজনক মামলা দেয়। জামিনে এসে মিতুকে বিয়ে না করেই গতকাল গোপনে অন্য মেয়েকে বিয়ে করেছে প্রতারক রাজু। রাজুর বিয়ের কথা শুনে আমার ভাগনি আত্মহত্যা করেছে। আমরা ভণ্ড ও প্রতারক রাজুর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
প্রেমিক রাজুর ফোন নাম্বারে একাধিকবার ফোন করেও মোবাইল বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায় নি।
ফুলবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) সারওয়ার পারভেজ জানান, সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর মরদেহ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। অভিযোগের প্রক্রিয়া চলছে। যে চিরকুট পাওয়া গেছে সেটা এক্সপার্ট দিয়ে পরীক্ষা করার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে- এটা তারই লেখা কিনা।



