
বিশেষজ্ঞদের দাবি: হাওয়াইয়ের ভয়াবহ দাবানলের জন্য দাহ্য প্রজাতির ঘাস দায়ী
যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে ভয়াবহ দাবানলে প্রাণ হারিয়েছে ১০০ জনের বেশি। পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে হাজার হাজার ঘরবাড়ি। ঘরছাড়া হয়েছে হাজার হাজার বাসিন্দা। তবে দ্বীপটিতে দাবানল ভয়াবহ আকার ধারন করার জন্য এক প্রকার দাহ্য ঘাসকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই প্রজাতির ঘাস কয়েক দশক ধরে দ্বীপটিতে বিস্তার লাভ করেছে এবং দাবনলের সময় জ্বালানী হিসেবে কাজ করেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের ঘাস ধীরে ধীরে জায়গা দখল করে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি রুক্ষ ভূমিতেও এরা বংশ বিস্তার করতে সক্ষম। দাবানলের ঝুঁকি থাকায় পশ্চিম আমেরিকার জন্য এই ঘাস বর্তমানে হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তুশাস্ত্রের অধ্যাপক কার্লা ডি’অ্যান্টোনিও এএফপিকে বলেন, এ জাতীয় ঘাসগুলো খুবই দাহ্য। আগুনের সংস্পর্শে এলেই জ্বলে উঠে। এমনকি ঘাসগুলো এমন পরিবেশ তৈরি করে যার কারণে আগুন জ্বলার জন্য তা আরও উপযোগী হয়ে উঠে।
৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এই প্রজাতি নিয়ে গবেষণা করে আসছেন ডি’অ্যান্টোনিও। তার মতে, ঘাসগুলো মরে যাওয়ার পর তা পচে না গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে জায়গাতেই থেকে যায়। একসময় তা হাড়ের মতো শক্ত হয়ে শুকিয়ে যায়।
এই প্রজাতির ঘাসগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই বাফেলগ্রাস, গিনি ঘাস এবং গুড় ঘাস। এরা আফ্রিকা থেকে এসেছে। গবাদি পশুদের চারণভূমি হিসেবে ঘাসগুলো ছড়িয়ে পড়লেও এর বিপদ সম্পর্কে মানুষ সচেতন ছিলনা। যার কারণে ধীরে ধীরে তা এতটা ছড়িয়ে পড়ে।
হাওয়াইতে বিশ্বায়নের ফলে ১৯৯০ এর দশকে আখ চাষে বিপর্যয় নামলে বিশাল আকারের ভূমি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। ফলে এই জমিগুলোতে এই প্রজাতির ঘাস ছড়িয়ে পড়ে। এর জন্য জমির মালিকদের অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এই ঘাসের হুমকি শুধু হাওয়াইতে নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে বিশেষ করে পশ্চিমের মরুভূমি এবং শঙ্কু বন, উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। ২০১৯ সালের একটি গবেষণা অনুসারে, ছয় প্রজাতির দাহ্য ঘাস মার্কিন বাস্তুতন্ত্রে আগুনের মাত্রা ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।



