
গাজী আবু হানিফ
এই বাংলা, রূপসী বাংলা, স্যন্দন মনোহর
থরে থরে তার পত্রে পত্রে তার চোখ মেলে আকিঞ্চন;
তারি কোল জুড়ে হাসাহাসি করে কত যে রবি শশী
তারি বুক থেকে ছড়িয়ে পড়ে কত সুঘ্রাণ সম্মোহন।
তারি মুখে আঁকা কত স্বপ্ন পুণ্যময় স্বর্গীয় নন্দন
সে যে আমার অপরূপা প্রিয় ফুলফসলকানন।
মায়া ভরা আঁখি ছায়াসুখ ঢাকি স্বপ্নগাঁথা প্রাণ
সে মায়ের স্তন্যে আছে- শতকোটি সন্তানের- ক্ষুধার অন্ন আহার;
এই সেই দেশ – রতন রাজীতে ভরা, তার সুধামাখা মাটি
স্বর্গ হতে আসি এ মা বুঝি- করে গেছে দান, সবই করে উজার।
আমরা কি তারে ভুলে যেতে পারি? হলেও পাপী সন্তান
এ বাঁধন কি ছিন্ন হবার মা!অতুল্য, অতুল্য, পবিত্র তোমার দান।
যেদিকে তাকাই শুধু দেখতে পাই তোমার মুখচ্ছবি
তোমাতে আছে সকল শান্তি অনন্ত সুখ মায়া ;
তুমি ‘মাগো’ অলোক আলোর বর্ণিল রঙেতে রঙিন
লাগে কত ভালো মোহময় উজালা তোমার সে ছায়া।
এই বাংলা – রূপসী বাংলা – হৈম হম্ম তার রূপ
অনিন্দ্য নিকেতন তার যে বদন যুগ যুগ অপরূপ।
তারি পদতলে নহর বয়ে চলে সোনার খনিতে ভরা
তারি অঞ্জনে অঙ্গে মেশানো গৌরব মহা মণি ;
তোমার সন্তানে তোমার কল্যাণে বিশ্বে নিলো আসন
সে যে সততায় নিপুণ কর্মে মনোবলে সেরা ধনী।
এই সেই বাংলা -সোনার বাংলা, রূপ ললিতের ঝর্ণা
সাগর সোহাগী সে চির ষোড়শী রাজকন্যা সুবর্ণা।
এই সেই বাংলা-রূপসী বাংলা- রূপের কি আছে শেষ?
তারি করতলে আলো ঝলমলে বয়ে চলে সমীরণ ;
তারি জলে স্থলে আকাশে বাতাসে নিখিলের স্নেহমাখা
কত রাশি রাশি তারকা শশী খেলা করে সুকিরণ।
এই রূপ রাশি -বইবে হাসি হাসি জনম জনম তায়
সোনার বাংলার সোনার সবুজ সুফলা শ্যামল গাঁয়।
মাঠমাঠালি নদী চর সৈকত রোদে করে ঝিকিমিকি
দিগদিগন্তে বয়ে যায় হাওয়া হু হু করে ধান খেতে;
রাখালীয়া সুর ভেসে আসে কানে, একতারা বাউলের
এখানে দিনমান কীটপতঙ্গে কলরবে থাকে মেতে।
এইতো আমার শাপলা শালুকের কলকাকলির হাট
ডাকে আয় আয় মায়াবী ইশারায় গাঁয়ের গৌরী বাট।
ভোর বিহানে নয়ন মেলে চুপিসারে প্রভাকর
কত পাখি ডাকে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে সাড়া ফেলে তার বন;
তারি নিকুঞ্জ তলে কত ফুল ফোটে কত ফুল ঝরে পড়ে
কত না আবির মেখে বিমুগ্ধ করে সুখে আনে শিহরণ।
এখানে চিরদিন থাকে মিলেমিশে কেউ নয় কারো পর
এইতো আমার কাঞ্চন বাংলা চির শিশুর খেলাঘর।



