প্রধান খবরসম্পাদকীয়

সৌদি আরব যুদ্ধের বিপর্যয়

ড্যাকলেন ওয়লশ্‌

[আয়ারল্যান্ডে জন্ম ও বেড়ে ওঠা ড্যাকলেন ওয়লশ্‌  সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে লেখেন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের ব্যুরো প্রধান হিসাবে নিউইয়র্ক টাইমসে যোগ দেন। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালের মে মাসে কোনও কারণ না দেখিয়ে পাকিস্তান থেকে তাকে বহিষ্কার করে। বর্তমানে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের কায়রো ব্যুরো প্রধান। সানডে বিজনেস পোস্টের জন্যে লিখেছেন, যেখানে তিনি সামাজিক ও প্রচারাভিযান সাংবাদিকতার জন্য পত্রিকার প্রথম আইরিশ জাতীয় পত্রিকা পুরস্কার জিতেছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং আইরিশ টাইমসের আফ্রিকা প্রতিনিধি ছিলেন। ওয়লশ দ্য ইকোনমিস্ট এবং বোস্টন গ্লোবেও কাজ করেছেন। তিনি ২০ টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। যুদ্ধদুর্ভিক্ষ এবং ঋণ ত্রাণ ইত্যাদি সংবাদ কভার করেছেন। কায়রো বেস থেকে ডিক্লান ওয়ালশ লিবিয়া ও সিরিয়ায় যুদ্ধউপসাগরীয় রাজনৈতিক সঙ্কটএবং মিশর দমনের সংবাদ সরবরাহ করেন। বর্তমান প্রতিবেদনটি ড্যাকলেন ওয়লশ্‌র দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত ‘দ্য ট্রাজেডি অব সৌদি আরাবিয়াস্‌ ওয়ার’ অবলম্বনে ইংরেজি থেকে অনুদিত। অনুবাদ করেছেন  মুবিন খান]

বুকটা ফুলে ওঠে আর চোখ ঝাপটায়!

হাজ্ব হাইল্যান্ড এলাকার এক হাসপাতালে তিন বছরের বাচ্চাটা নিঃশব্দে শুয়ে আছে। একটা ব্যাগ ভর্তি হাড় যেন নিঃশ্বাসের জন্যে পাঁজরের সঙ্গে লড়াই করছে। বাচ্চাটার বাবা আলী আল-হাজাজী খুব উদ্বেগ আর দুঃচিন্তা নিয়ে বাচ্চাটার ওপর ঝুঁকে আছেন। ইয়েমেন জুড়ে দুর্ভিক্ষ আর মহামারীতে তিন সপ্তাহ আগে হাজাজি তার আরেক ছেলেকে হারিয়েছিলেন। এখন ওঁর ভয় দ্বিতীয় ছেলেটাও হয়ত ওঁকে ছেড়ে চলে যাবে।

ব্যাপারটা যে কেবল খাবারের অভাবে ঘটছিলতা নয়। হাসপাতালের বাইরে যে দোকানগুলো রয়েছে তাতে জিনিসপত্রর কোনও অভাব ছিল না।

আমি সেখান থেকে এক টুকরা রুটি কিনতে পারি। কিন্তু আমার ছেলেটা আমার চোখের সামনেই মারা যাচ্ছে।’ বলছিলেন ছেলেটির বাবা।

ইস্তানবুলে সৌদি আরব বিরোধীদের হত্যা আর ইয়েমেনে বিধ্বংসী যুদ্ধ এবং নির্যাতনের কারণে সম্প্রতি সৌদি আরব আরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে বিষয়গুলো সৌদি আরবের কর্মকান্ডের ওপর আলোকপাতও করেছে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে এই যুদ্ধর সমালোচনা করেছে বলে সৌদি আরব ইয়েমেনে বিমান হামলা চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে মেরে ফেলেছে। বিয়ের অনুষ্ঠানেশবযাত্রায় আর স্কুল বাসে আমেরিকার সরবরাহ করা বোমা এবং বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সৌদি আরব এই হামলাগুলো চালিয়েছে।

কিন্তু সাহায্য বিশেষজ্ঞরা এবং জাতিসংঘর কর্মকর্তারা বলছেন ইয়েমেনে আরও একটি যুদ্ধবিরোধী যুদ্ধ চলছে। সে যুদ্ধটি- অর্থনৈতিক যুদ্ধযেটি ইয়েমেনের মানুষদের ওপর বিরাট আকৃতির শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছে এবং দেশটিকে অর্থনৈতিক বিপর্যয় আর দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সৌদি রাজকুমার মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং তার ইয়েমেনি জোটের নেতারা ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণে রাখা হুদি বিদ্রোহীদেরকে দমন করতে অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরি করেছে।

কিন্তু এই পদক্ষেপেসাময়িক অবরোধ এবং কঠোর আমদানি সীমাবদ্ধতার ফলে লক্ষ লক্ষ কর্মচারীদের বেতন আটকে রেখেছে। আর সে বোঝার চাপ নাগরিকেরা পিঠে নিয়ে বয়ে চলেছে। তাদেরকে অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস করে দিয়ে গভীর দারিদ্রতার মাঝে ডুবিয়ে দিচ্ছে।

নির্যাতনের এই পদক্ষেপটিকে বলে স্লো-বার্ন টোল। এটি অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়চাকরিচ্যুত করেমুদ্রার মান নামিয়ে দেয় এবং জিনিসপত্রর দাম বাড়িয়ে দেয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়টাতে গেল কয়েক সপ্তাহে অর্থনৈতিক পতন বিপজ্জনক গতিতে বেড়েছেযার ফলে শীর্ষ জাতিসংঘের কর্মকর্তারা দুর্ভিক্ষর পূর্বাভাস দিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবিক–বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওসিএইচএ) আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বলেছেন, ‘এখন ইয়েমেনের জন্যে বর্তমান বিপদ হল খুব বড় একটা দুর্ভিক্ষ ইয়েমেনে ধেয়ে আসছে।’

ইতোমধ্যেই আট মিলিয়ন ইয়েমেনি বেঁচে থাকার জন্য জরুরি খাদ্য সাহায্যর ওপর নির্ভর করতে শুরু করেছে। তিনি বলেনএই সংখ্যা অচিরেই ১৪ মিলিয়ন বা ইয়েমেনের অর্ধেক জনসংখ্যায় উন্নীত হতে পারে।

ম্যাস স্টারভেশন বইটি মানুষের তৈরি সাম্প্রতিককালের দুর্ভিক্ষগুলো বিশ্লেষণ করেছে। এই বইয়ের লেখক অ্যালেক্স ডি ওয়াল বলছিলেন, ‘মানুষ মনে করে দুর্ভিক্ষ মানে শুধু খাদ্যর অভাব। ‘কিন্তু ইয়েমেনে এখন একটি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলছে।’

ইয়েমেনের সর্বত্রই এখন এই লক্ষণ বিদ্যমান। এই অবস্থা এখন জাতি আর অঞ্চল নির্বিশেষে সীমা অতিক্রম করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন না পাওয়া অধ্যাপকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সাহায্যের জন্যে আবেদন করছেন। ডাক্তার আর শিক্ষকেরা তাদের পরিবারের খাবারের চাহিদা মেটাতে সোনাদানাজমি কিংবা গাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। রাজধানী সানাতে এক বৃদ্ধা মহিলা লাউডস্পিকারে ভিক্ষে চাইছিলেন।

আর দুর্ভিক্ষ এখন নিস্তব্ধ প্রহরায় অসুস্থ শিশুদের জীবন এবং মৃত্যুর মাঝখানে জায়গা করে নিয়ে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। ইয়েমেনের দুই লক্ষ শিশু এখন অপুষ্টিতে ভুগছে। চার লক্ষ শিশু ভয়াবহরকম অসুস্থ। এটি এক মাসের চতুর্থাংশের চিত্র।

আসলামের স্বাস্থ্য ক্লিনিকের ডা. মেকিয়া মাহদি বলছিলেন, ‘আমরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছি।’ হুদাইদাহ যুদ্ধে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের দরিদ্র উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় একটি শহর আসলাম।যুদ্ধবিধ্বস্ত বন্দর শহর নব্বই মাইল দক্ষিণে।

ভদ্রমহিলা কোনরকমে ক্লিনিকের বিছানার পাশে বসে মাতৃস্নেহে সান্ত্বনা দিতে দিতে অসুস্থ বাচ্চাটাকে ওষুধের চামচ দিয়ে দুধ খাওয়াচ্ছিলেন। অনেকের জন্যেই তখন গভীর রাত। রাত শেষ হওয়ার আগেই এগারো মাসের বাচ্চাটা মারা গেল। বাচ্চাটার ওজন ছিল সাড়ে পাঁচ পাউন্ড।

ভদ্রমহিলা বলছিলেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়েছি যে খাশোগির ঘটনাটায় সবাই এত বেশি মনোযোগ দিচ্ছে যখন লক্ষ লক্ষ ইয়েমেনি শিশু এইভাবে ভুগছে!’ এজন্যে তাদেরকে কেউই কিছু বলছে না!’

তিনি ঘুমিয়ে থাকা সাত বছরের এক মেয়ের প্লাস্টার বাঁধা নরম হাতটা আলতো করে টেনে ধরে বললেন, ‘দেখুনকোনও মাংস নেই। শুধুই হাড়।’

ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের দূতাবাস ইয়েমেন সম্পর্কে নীতিগত কোনও প্রশ্নেরই কোনও প্রতিক্রিয়া জানায় নি। কিন্তু সৌদি কর্মকর্তারা তাদের কর্মকান্ডর পক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। জামায়াত ইসলামের নামে একটি সশস্ত্র দলকে দিয়ে হুদিস সীমান্ত থেকে রকেট বোমা ছুঁড়েছেন। এটাই সৌদি আরবসুন্নি রাজতন্ত্রদৃশ্যত যার মতবাদ তার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীর মতইইরানের মত।

সৌদিয়ানরা ইঙ্গিতে দেখাতে চায় যেতারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ইয়েমেনে মানবিক ত্রাণ সহযোগিতার প্রচেষ্টায় সবচেয়ে উদার দাতাদের সারিতে রয়েছে। গেল বসন্তেএই দুই মিত্র জোট ইয়েমেনকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য হিসেবে দিয়েছিল। এই লক্ষ্যে গেল জানুয়ারিতেসৌদি আরব ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা করেছিল। কিন্তু ইয়েমেনের অর্থনীতিতে জোটের হামলায় ওই সহযোগিতাগুলো প্রকটভাবে ঢেকে দিয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারিদের বেতন পরিশোধ না করায় অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরি হয়েছেখাবারের দাম বেড়ে গেছেমুদ্রাস্ফীতি হয়েছে এবং সে কারণে প্রচুর পরিমাণে ব্যাংক নোট ছাপানো হয়েছে।

আর হুদায়দাহকে আক্রমণ করতেযেটি শুরু হয়েছিল জুনেউত্তর ইয়েমেনের মূল জীবনধারাকে বিপন্ন করে তুলেছিলগৃহহীন করেছিল পাঁচ লক্ষ সত্তর হাজার মানুষকে আর অসংখ্য মানুষ অনাহারে থাকার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল।

মি. লোকক সতর্ক করছিলেনএখানে দুর্ভিক্ষ হবেযে কোনও কিছুর চাইতে অনেক বড়তাদের জীবনে দেখা যে কোনও ক্ষেত্র থেকেই বড়।

এপ্রিলে জোটের জঙ্গি বিমান এক বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালায়। সে হামলায় বিয়ের কনেসহ তেত্রিশ জন প্রাণ হারায়। একটি স্থানীয় ছেলে হুদিসের জন্যে যুদ্ধ করতে গিয়েছিলসে ছেলেটা এই বিমান হামলায় মারা পড়ে।

কিন্তু মি. হাজাজির জন্যে যার পাঁচটা ছেলের বয়সই সাত বছরের নিচেসবচেয়ে মারাত্মক আঘাতটি ছিল অর্থনৈতিক আঘাত। গেল এক বছরে রিয়ালের দাম অর্ধেক নেমে গেছে দেখে তিনি খুব হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কেননা এর ফলে জিনিসপত্রর দাম খুব বেড়ে যায়। মুদি দোকানের জিনিসপত্রর দাম যুদ্ধের আগের সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। গ্রামের অন্যান্য লোকজন অর্থের জন্যে তাদের সম্পদ বিক্রি করতে করে দিল। তারা খাবার কেনার টাকার জন্যে তাদের উট কিংবা জমি বিক্রি করতে শুরু করল।

কিন্তু পুরো পরিবার নিয়ে মাটির তৈরি একটা কুঁড়েঘরে বাস করা হাজাজির কাছে বিক্রি করার মত কিছুই নেই।

তিনি প্রধানত প্রতিবেশীদের সাহায্যর ওপরই নির্ভর করতেন। তারপর তিনি পরিবারের খাবারের তালিকা থেকে নিয়মিত খাবারের পদগুলো ছাঁটতে লাগলেনযতক্ষণ পর্যন্ত সেগুলো রুটিচা আর হালাস বা আঙুর গাছের পাতায় এসে না ঠেকে। এই আঙুর গাছের পাতা সবসময়ই খাদ্যের উৎস ছিলকিন্তু এখন সকল খাবারের জায়গা দখল করে নিয়ে একমাত্র উৎস হয়ে উঠেছে।

২5 শে আগস্ট ২018, এর ছবিতে ইয়েমেনের একজন মানুষ তার সন্তানদের খাওয়ানোর জন‌্য সবুজ লতা-পাতাগুলো তুলে এনেছে। (এপি ছবি / হামাদি ইস্য)

ইয়েমেনের অর্থনৈতিক সঙ্কটটি অপরিহার্য কিছু নয়দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটি যুদ্ধেরই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। ২০১৬ সালে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকার হুদি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা থেকে দক্ষিণাঞ্চলীয় আদেন শহরের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূলধন স্থানান্তর করে। এই ব্যাংকটির নীতি নির্ধারক সৌদি আরব। এই ব্যাংকের একজন জৈষ্ঠ পশ্চিমা কর্মকর্তা জানালেনতারা বিপুল পরিমাণে নতুন মুদ্রা ছাপতে শুরু করেছে— ব্যাংকের অফিসিয়াল হিসাব অনুযায়ীই কমপক্ষে ছয়শ’ বিলিয়ন রিয়াল। এই নতুন অর্থ মুদ্রাস্ফিতীর বাঁকটা শুরু করিয়ে দিয়েছিল যেটি সঞ্চয় করা অর্থের মান কমিয়ে দেয়।

ব্যাংক এমনকি হুদি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মচারিদের বেতনও বন্ধ করে দিয়েছিলযেখানে আশি ভাগ ইয়েমেনি বসবাস করে। বৃহত্তম নিয়োগকর্তা সরকারঅথচ উত্তরাঞ্চলে হঠাৎ করেই শত শত হাজার হাজার পরিবারের কোনও আয় রোজগার ছিল না।

সানা শহরের সাবিন হাসপাতালে ডা. হুদা রাজুমি দেশের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত আর অপুষ্ট শিশুদের দায়িত্ব নিয়েছেন। কিন্তু তার নিজের পরিবারও একইভাবে আক্রান্ত। তিনি অজান্তেই ইয়েমেনের অদৃশ্য মধ্যবিত্ত শ্রেণী থেকে নিচে পড়ে গেছেন।

গেল বছরে তিনি মাত্র এক মাসের বেতন পেয়েছেন। তার স্বামীটি অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। কোনও পেনশন পাচ্ছেন না। আর ডা. রাজুমি রোজ কৃপণের মত খরচ বাঁচিয়ে,ফলমূল না কিনেমাংস না কিনে কিংবা ট্যাক্সি না চড়ে এর শেষটা দেখার প্রতিক্ষা করেন।

দক্ষিণ ইয়েমেনের সকল বাতাস আর সমুদ্রের গতিপথে সৌদি আরবের এই কঠোর নিয়ন্ত্রণে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে এলাকাটিকে একটা জেলখানায় পরিণত করেছে।

ইয়েমেনে খাদ্য সঙ্কটের জন্যে কেবলমাত্র সৌদি জোট পুরোপুরি দায়ী নয়। 

সাহায্যকর্মীরা বলছেনহুদি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের অবৈধ তল্লাশীর নামে প্রায়ই আম্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা সৈনিকরা তাদের পরিবারকে দিয়ে দেয়,অথবা নিজেরাই গ্রাস করে।

উত্তরাঞ্চলের এইরকম মর্মভেদী ঘটনা ঘটতে থাকা সত্ত্বেও কিছু ইয়েমনি ধনী হয়ে উঠছে। তারা সানার অভিজাত এলাকায় মিনি রিয়েল এস্টেট মালিক বনে গেছে। এরা সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা ইয়েমেনে অভিবাসীআর হুদির কিছু নব্য ধনী কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেনহুদির কর্মকর্তারা ফোর হুইল ড্রাইভ লেক্সাস গাড়ি নিয়ে শহরময় ঘুরে বেড়ায়বিলাসবহুল দোকানে কেনাকাটা করেসশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে দামি স্যুট আর সুগন্ধী কেনে।

এই গ্রীষ্মে উত্তেজনা চরম আকারে পৌঁছেছিল যখন হুদি প্রশাসন জাতিসংঘ অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে সংঘর্ষের পর সানা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

ইয়েমেনের জাতিসংঘর সমন্বয়কারী লিজ গ্রান্ডে বলছিলেন, ‘এটা উপার্জনের দুর্ভিক্ষর। এটাকে থামানোর মূল চাবিকাঠি হলবেঁচে থাকবার জন্যে যা যা দরকার তা কিনে ফেলতে পারার মত যথেষ্ট টাকা লোকজনের কাছে আছে।’

লিজ বলেন,অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মুদ্রার পতন রোধ করতে হবেইয়েমেনের জন্যে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী যেন শিপিং কোম্পানি আমদানি করতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

সর্বোপরি, ‘এই যুদ্ধ থামাতে হবে।’ যুক্ত করেন লিজ।

ইয়েমেনিদের জন্যে আশার কথা সৌদি বিরোধীদের মৃত্যুর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে সৌদির পতন শুরু হয়েছে। জামাল খাসোগিযে সৌদি রাজকুমার মোহাম্মদের মর্যাদাকে আন্তর্জাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেযেটি অনমোনীয় অবস্থান পাল্টে যুদ্ধপরাধের বিচার করতে বাধ্য করতে পারে।

ইয়েমেনে বিশেষজ্ঞ পিটার স্যালিসবেরি বললেনএটি অসম্ভব ছিল।

আমি মনে করি সৌদিরা শিখে গেছে তারা ইয়েমেনের কাছ থেকে দূরে সরে গেলে তারা কি পেতে পারে— পশ্চিমা সহনশীলতার অভিজ্ঞতা খুবই বাজেতিনি বলছিলেন,খাসোগি হত্যা আমাদেরকে যদি কিছু বলেসেটা অনিচ্ছুক সৌদিদের কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হয়।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension