
৪০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেন বাদ? মামলা করল তৃণমূল
রূপসী বাংলা কলকাতা ডেস্ক: এনআরসি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা তৃণমূলের। অসমে এনআরসি (ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস অব ইন্ডিয়া) খসড়া তালিকায় ঠাঁই না পাওয়া ৪০ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে মামলা দায়ের করা হল। মামলা দায়ের করলেন বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল শেঠ। ইতিমধ্যে সেই মামলা সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
কোন যুক্তিতে এই নামগুলি ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেল, তার ব্যাখ্যা ভারত ও অসম সরকার ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে চেয়েছে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ ও বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী চার সপ্তাহ পর ফের এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি। বাংলা এক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবরে এমনটাই জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সাল থেকে এনআরসি দেশে শুধুমাত্র অসমে কাজ শুরু করে। ২০১৮ সালের ২০ জুলাই তাদের খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। মামলাকারীর তরফে আইনজীবী সঞ্জীব দত্ত বাংলা এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন দেশের শীর্ষ আদালতকে কথা দিয়েছে, চূড়ান্ত এনআরসি তালিকা প্রকাশিত না হলে ভোটার তালিকা থেকে কোনও নাম বাদ যাবে না।
কিন্তু, খসড়া এনআরসি তালিকার ভিত্তিতেই অসমের ৪০ লক্ষ লোকের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের সিংহভাগই ২০১৪ সালের লোকসভা ভোটে অংশ নিয়েছিল।
অন্যদিকে মামলাকারীর বক্তব্য, তাঁর যেসব আত্মীয়স্বজন অসমে রয়েছেন, তাঁদের এ দেশে বসবাসের প্রমাণস্বরূপ ১৯৫৪ সালের নথি রয়েছে। অথচ, এনআরসি তালিকায় তাঁদের নাম নেই। দ্বিতীয়ত, ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মারফত কোনও ব্যক্তি ফরেনার বা বিদেশি ঘোষিত না হলে, কাউকে ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা যায় না। এ দেশের নাগরিকত্ব বা জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের পরিপ্রেক্ষিতে বৈধ ভোটারের সংজ্ঞা আলাদা। বস্তুত এনআরসিতে নাম আছে কি নেই, তার ভিত্তিতে ভোটারের যোগ্যতা বাতিল করা যায় না। সূত্র- বাংলা এক সংবাদমাধ্যম।



