যুক্তরাষ্ট্র

ইরান নিয়ে ‘নিম্নমাত্রার’ কৌশলে যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার স্থানীয় সময়ে বলেছেন, ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘নিম্নমাত্রার’ কৌশল অবলম্বন করেছে। আপাতত নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।

অ্যাক্সিওস ট্রাম্পকে উদ্ধৃত করে বলেছে, ‘আমরা বিষয়টি এখন খুব নিচু মাত্রায় রাখছি।’ ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে শুধু ‘আংশিকভাবে আলোচনা’ করছে। একই সঙ্গে ইরানের খারাপ হতে থাকা অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে শুধু আংশিকভাবে আলোচনা করছি।

ইরানে মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। আমরা শুধু সেটাই দেখছি।’

ট্রাম্প বলেন, অর্থনৈতিকভাবে ইরান ‘খুব খারাপ অবস্থায়’ আছে।

তিনি দাবি করেন, পারস্য উপসাগরীয় দেশটির সেনাদের বেতন দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত অর্থ নেই। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ইরানি সরকারের অর্থনৈতিক সংকট আরো বাড়িয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেন, তেলের দাম কমে যাওয়ায় আমেরিকার সাধারণ মানুষের ওপর এই সংঘাতের প্রভাব কমেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এখন ৭৫ মার্কিন ডলারের কিছু বেশি।
ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সব ঠিক হয়ে যাবে।

সব সময়ই ঠিক হয়ে যায়। এটা দাবা খেলার মতো।’ অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে। হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিভিন্ন ঘটনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অনেক বেশি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ইরান, ওমান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা থেমে আছে। এই আলোচনার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া।

ইরান নতুন কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের কাছে অবস্থান করা মার্কিন সেনাদের পেছনে সরিয়ে নেওয়া। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ মার্কিন প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্র উৎপাদন বাড়াতে এবং সরবরাহ দ্রুত করতে বলেছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের ঘাটতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি স্মারকের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী স্টিভ ফেইনবার্গ বুধবার শিল্প খাতের নেতাদের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহের সময়সূচি উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত ও আরো জোরালো করার পরিকল্পনা জমা দিতে তাদের সর্বোচ্চ ২১ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, তেহরান বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করছে না। শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। আরাগচি বলেন, ‘আলোচনার পথ তৈরি করার জন্য চেষ্টা চলছে।’

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension