আন্তর্জাতিক

এখনও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি ভেস্তে দিতে পারে ইসরায়েল: বিশ্লেষক

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে চলমান আলোচনায় ইসরায়েল বড় ধরনের বাধা হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক রস হ্যারিসন।

তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার মূল গুরুত্ব থাকবে স্বাক্ষরিত সমঝোতা বাস্তবায়ন ও পক্ষগুলোর প্রতিশ্রুতি রক্ষার ওপর; চুক্তির কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা পরবর্তী ধাপে হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো রস হ্যারিসন কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতার শর্তগুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।

তিনি বলেন, “তারা মূলত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো কার্যকরভাবে মানা হচ্ছে কি না, সেটি নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দেবে। পারমাণবিক কর্মসূচি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে বিদ্যমান অন্যান্য মতপার্থক্য নিয়ে কারিগরি আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের বিষয়।”

হ্যারিসনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনই চুক্তির জটিল কারিগরি বিষয়গুলোতে যাওয়ার আগে প্রথম ধাপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চাইছে।

তিনি বলেন, ইরানের অবস্থান এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট। অতীতের আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে- এমন অভিযোগ তুলে তেহরান এখন চায়, যুক্তরাষ্ট্র যেন ইসরায়েলের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তার সামরিক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখে, বিশেষ করে লেবাননে হিজবুল্লাহকে ঘিরে উত্তেজনার বিষয়ে।

হ্যারিসন বলেন, ইরান মনে করছে, সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো ইসরায়েলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে ইসরায়েল এই সমঝোতার স্বাক্ষরকারী দেশ নয়, ফলে তাত্ত্বিকভাবে তারা চুক্তির শর্তে সরাসরি আবদ্ধ নয়।

তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই মুহূর্তে ইসরায়েল এ ধরনের আলোচনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তারা চুক্তির অংশ নয়, তাই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এটি সরাসরি চুক্তি ভঙ্গের বিষয় নয়। বরং যুক্তরাষ্ট্র যদি ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি বা সমঝোতার শর্ত মানাতে না পারে, তাহলে সেটি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে আঞ্চলিক মিত্রদের ভূমিকা, বিশেষ করে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সক্ষমতার ওপর। চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলোতে পারমাণবিক ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়গুলোই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension