
কতদূর যাবে জাপান, এই দল কি পারবে আর্জেন্টিনা-ফ্রান্স-ব্রাজিলকে থামাতে?
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ গ্রুপ পর্বে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয়ের পর জাপান এখন শুধু জয়ী দল নয়, বরং টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও পরিকল্পিত ফুটবল খেলতে থাকা সামুরাই ব্লু দলটি গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে এবং নকআউটের দৌড়ে নিজেদের নাম জোরালোভাবে যুক্ত করেছে।
ম্যাচের ফলাফল অনুযায়ী গ্রুপ এফে ২ ম্যাচ শেষে জাপানের সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। একই পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে সামান্য এগিয়ে নেদারল্যান্ডস শীর্ষে থাকলেও জাপান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। সুইডেন ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় এবং তিউনিসিয়া এখনো পয়েন্টের দেখা পায়নি। গোল ব্যবধানে জাপান +৪ অবস্থানে থাকায় তাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হয়েছে।
এই পারফরম্যান্সের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জাপানের দলগত সংহতি, দ্রুত ট্রানজিশন এবং কার্যকর ফিনিশিং। দাইচি কামাদা, আয়াসে ইউডা এবং জুনিয়া ইতোদের সমন্বিত আক্রমণ প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বারবার ভেঙে দিচ্ছে। মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ এবং দ্রুত পাসিং ফুটবল জাপানকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশ্বকাপে জাপান এখন পর্যন্ত যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে, তা তাদের “ডার্ক হর্স” তকমাকে আরও শক্ত করেছে। টানা কয়েকটি বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর অভিজ্ঞতা এবার তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এবার লক্ষ্য শুধুমাত্র নকআউট নয়, বরং কোয়ার্টার ফাইনাল কিংবা তারও বেশি।
অন্যদিকে বিশ্ব ফুটবলের পরাশক্তি দলগুলোর পারফরম্যান্সও জাপানের সম্ভাবনাকে আরও আলোচনায় এনেছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচে বড় জয় দিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। লিওনেল মেসির ফর্ম তাদের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইকে আরও শক্ত করেছে।
ফ্রান্স কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে এবং প্রথম ম্যাচ থেকেই তারা নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। ব্রাজিলও কার্লো আনচেলত্তির অধীনে নতুন ছন্দে ফিরেছে, যদিও শুরুটা কিছুটা ধীর ছিল।
ইউরোপের আরেক দুই জায়ান্ট জার্মানি এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। জার্মানি আক্রমণভাগে ধারাবাহিকভাবে গোল করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র হোম কন্ডিশনের সুবিধা কাজে লাগাচ্ছে। তবে স্পেন ও পর্তুগালের ড্র তাদের কিছুটা পিছিয়ে দিয়েছে।
এই পুরো চিত্রের মধ্যে জাপানকে আলাদা করে দেখার কারণ হলো তাদের টিম স্ট্রাকচার। তারা কোনো একক তারকার ওপর নির্ভর করছে না, বরং পুরো দল মিলেই ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করছে। সেটপিস, কর্নার এবং দ্রুত কাউন্টার আক্রমণ সব জায়গাতেই তারা কার্যকর।
তবে বাস্তবতা হলো, নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা ব্রাজিলের মতো অভিজ্ঞ দলের বিপক্ষে টিকে থাকা জাপানের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। বড় ম্যাচের চাপ এবং অভিজ্ঞতার পার্থক্য সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তবুও বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে জাপান এবার বিশ্বকাপে বড় চমক দেখাতে পারে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, তারা এবার সত্যিকারের ডার্ক হর্স, যারা যেকোনো সময় বড় দলকে বিপদে ফেলতে সক্ষম।



