
ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগে ক্ষোভ চরমে
বিশেষ প্রতিনিধি: ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বসবাসরত প্রায় ১০ লক্ষ বাংলাদেশির জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সেবা কেন্দ্র। এখানে কর্মরত আছেন ১৪ জন কূটনীতিকসহ মোট ৫০ জনেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী—যাদের বেতন, সুবিধা ও পরিচালন খরচ আসে বাংলাদেশের করদাতাদের অর্থ থেকে।
কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ না করে, দূতাবাস এখন অনিয়ম, অদক্ষতা, দলীয় প্রভাব ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ডিসিএম-এর বিরুদ্ধে ‘অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ’—সেবার মান ভেঙে পড়ার অভিযোগ
দূতাবাসের একাধিক অভ্যন্তরীণ সূত্র অভিযোগ করেছে, ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) সালাউদ্দিন মাহমুদ দূতাবাসে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে অতিরিক্ত ক্ষমতা ব্যবহার করছেন।
রাষ্ট্রদূত তারেক ইসলাম অনেক ক্ষেত্রেই নিজস্ব পরামর্শ বা কূটনৈতিক প্রটোকল অনুসরণ না করে ডিসিএম-এর নির্দেশনাতেই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
যদিও এই প্রতিবেদনে রাষ্ট্রদূতের ব্যক্তিগত কোনও বিষয় আলোচিত হয়নি, তবে বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্য ও কমিউনিটি প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে—এই পরিস্থিতি দূতাবাসের সুনাম এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
কমিউনিটির অভিযোগ—
• জরুরি সেবা, বিশেষত NVR (No Visa Required) সংক্রান্ত ফোন কল বা ইমেইলের উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না
• সেবা দানে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে
• সাধারণ মানুষের ভোগান্তি—দূতাবাসের প্রতি আস্থাহীনতা দিন দিন বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী মোবাইল কনস্যুলার সেবা ‘স্থগিত’—সবচেয়ে ক্ষুব্ধ মিশিগান ও শিকাগো
মিশিগানে প্রায় ৮০ হাজার এবং শিকাগো অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশির বসবাস। বছরের পর বছর ধরে তারা মোবাইল কনস্যুলার সেবার মাধ্যমে পাসপোর্ট নবায়ন, প্রত্যয়ন, জন্মনিবন্ধন, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি—সহ অসংখ্য জরুরি সেবা পেতেন।
কিন্তু বর্তমানে—
মিশিগানে মোবাইল কনস্যুলার সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ
শিকাগোতেও সেবা বন্ধ, কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা নেই।
১৯৯৭ সালে চালু হওয়া শিকাগোর মোবাইল কনস্যুলার সেবা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রশংসিত উদ্যোগ। কিন্তু এখন কমিউনিটির অভিযোগ—
“সাধারণ জনগণের পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ধারীদের সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।”
ফলে প্রবাসীদের ভোগান্তি প্রকট আকার ধারণ করেছে।
কনসালরা ‘অবগত নন’—কিন্তু কমিউনিটির ক্ষোভ পৌঁছে গেছে তাদের কান পর্যন্ত
বিষয়টি জানতে চাইলে বেশ কয়েকজন কনসাল ও অনারারি কনসাল জানান, কেন মোবাইল সেবা বন্ধ—তার বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত নন।
তবে প্রতিদিন অসংখ্য ফোন কলের মাধ্যমে তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের ক্ষোভ, উদ্বেগ ও হতাশা প্রত্যক্ষ করছেন।
প্রবীণ কমিউনিটি নেতাদের মতে—
• বহু বছর ধরে দূতাবাস কর্মকর্তা ও কমিউনিটি সংগঠকরা দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে থেকে কাজ করেছেন
• কিন্তু বর্তমানে পক্ষপাত, দলীয়করণ ও অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সেই আস্থা ও ঐক্যকে নষ্ট করছে
প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিবাদ—“দূতাবাস জনগণের, কোনো দলের নয়”
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রবাসীরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। তাদের মতে, দূতাবাসের সেবা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অচল হয়ে পড়ছে, যা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
কমিউনিটির দাবিসমূহ—
• দূতাবাসের সকল কার্যক্রম থেকে দলীয় প্রভাব অবিলম্বে বন্ধ
• স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদার কূটনৈতিক আচরণ নিশ্চিত করা
• মিশিগান, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী মোবাইল কনস্যুলার সেবা পুনরায় চালু
• ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক আনুগত্য নয়—সাধারণ মানুষের সেবাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া
প্রবাসীদের সোজাসাপটা মন্তব্য—
“আমাদের ট্যাক্সের অর্থে দূতাবাস চলে—এটি কোনো দলের অফিস নয়, পুরো কমিউনিটির সেবা কেন্দ্র।



