আন্তর্জাতিক

‘গান শুনতে শুনতে আল নুর মসজিদে হামলা’

রূপসী বাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নুর মসজিদে শুক্রবারের বন্দুক হামলার পর বেঁচে যাওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। তার বর্ণনায় উঠে এসেছে লোমহর্ষক সেই হামলার বর্ণনা। ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালের বাইরে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খালেদ আল-নোবানি নামের ওই প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হামলার সময় সে গালিগালাজ করছিল, গান বাজাচ্ছিল এবং কয়েকজন বন্ধুকেও ফোন করেছিল।

তিনি জানান, গুলিতে তার এক বন্ধু মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং তার তিন সন্তান সেখান থেকে পালিয়ে যায়।

নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নোবানির বর্ণানুযায়ী, দুটি বন্দুক নিয়ে আল নুর মসজিদে প্রবেশ করে সবাইকে গুলি করতে শুরু করে হামলাকারী।

তিনি বলেন, ওই সন্ত্রাসী সেখানে সম্ভবত দুই মিনিট দাঁড়িয়েছিল। তারপর সে শিশু, বৃদ্ধসহ সবাইকেই গুলি করতে শুরু করে। প্রথমে সে মসজিদের মূল ফটকে গুলি চালায়। পরে করিডোরে থাকা দু’জনকে এবং তারপর সবাইকে। আমি মসজিদের একটি দরজা থেকে বেরিয়ে গিয়ে মূল ফটকটা ভেঙে বন্ধুদের সহায়তায় আমার বাচ্চাদেরকে নিরাপদে সরিয়ে নিই।

নোবানি আরো জানান, হামলাকারীর কাছ থেকে একজন বন্দুক ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। বন্দুক কেড়ে নিতে একজন তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সে সরাসরি তাকে গুলি করে দেয়।

এই ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন আল-নোবানির এক বন্ধু এবং তার পাঁচ বছরের মেয়ে। তবে, পুলিশের ভূমিকায় কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আল-নোবানি।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পুলিশ আসতে ২০ মিনিট সময় নিয়েছে। অথচ আমরা শহরের একেবারে মাঝখানে ছিলাম।’’ পথে কোনও ট্র্যাফিক জটিলতা না থাকায় পুলিশ আসতে সর্বোচ্চ দু’মিনিট নিতে পারত বলে মনে করেন তিনি।

এই ঘটনায় ইতোমধ্যে তার দুই বন্ধু মারা গেছেন। নিহত ওই সিরীয় শরণার্থীর পরিবারে রয়েছেন এক স্ত্রী এবং চার সন্তান। এছাড়া, হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১০জন ‘কাছের বন্ধু’।

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension