
ট্রাম্প আইনি বিপর্যয়ে, বাইডেনের অবসর
প্রেসিডেন্ট বাইডেন যখন নিজ রাজ্য ডেলাওয়্যারে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ঠিক তখনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তৃতীয় মামলায় অভিযোগ আনা হয়। তিনি ডেলাওয়ার সমুদ্রসৈকতে ম্যাটস ফিশ ক্যাম্পে ফিশিং করছেন, রেস্তোরাঁয় বসে ফ্রাইড ফিস খাচ্ছেন, ‘ওপেনহেইমার’ সিনেমা দেখছেন এবং সেখানে বেশ আয়েশে সময় কাটাচ্ছেন। অপরদিকে বেড়েই চলছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনগত বিপর্যয়। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য পাওয়া যায়।
সম্প্রতি ছুটি কাটাতে যাওয়া বাইডেনের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা বলার কোন সুযোগ দিচ্ছে না হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে তাদেরকে দূরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কেউ যাতে তাকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মামলা নিয়ে প্রশ্ন করতে না পারেন, সে জন্যই এই ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনি ঝামেলা নিয়ে ব্যাপক চাপের মধ্যে আছেন আগামী নির্বাচনে তাঁর সম্ভাব্য রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট বাইডেন এক সপ্তাহের ছুটি কাটাচ্ছেন। গত মঙ্গলবার (১ আগস্ট) রাতে রেস্তোরাঁয় খাবার সেরে তিনি ‘ওপেনহেইমার’ সিনেমা দেখে হল থেকে বের হন বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম। ঠিক ওই দিনই জ্যাক স্মিথ ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। তিনি ট্রাম্পের এই চেষ্টাকে ‘আমেরিকার গণতন্ত্রে নজিরবিহীন আঘাত’ বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অপরদিকে হোয়াইট হাউস এবং বাইডেনের পুনঃ নির্বাচনের প্রচারণার সদস্যরা ট্রাম্পের মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ইয়ান স্যামস সাংবাদিকদের বলেন, ‘এর পরিবর্তে আমরা বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দিচ্ছি এবং তারা এই ফৌজদারি মামলায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এই আশ্বাস দিচ্ছি।’
ঠিক যখনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে তখনি ট্রাম্পের ব্যাপক আইনি ঝামেলা ও বাইডেনের এমন নীরবতা দেখা যাচ্ছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে যান বাইডেন। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে যে প্রেসিডেন্ট রাজনীতির ওই নিয়মটি মেনে চলছেন, ‘যখন তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী ঝামেলার মধ্যে পড়বে, তখন তুমি পরিষ্কার অবস্থান নেবে এবং যেকোনো ধরনের সমালোচনা থেকে বিরত থাকবে।’
উপরন্তু, হোয়াইট হাউস সব সময়ই বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করতে পারে বলে ধারনা রয়েছে সবার। এ কারণে প্রেসিডেন্ট বাইডেন এমন অবস্থান থেকে সব সময় নিজেকে আড়াল করে রেখেছে। তার প্রশাসন খুব সতর্কতার সাথে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলে জানায় স্থানীয় গণমাধ্যম।
এছাড়া হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন–পিয়েরে গত শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিচার বিভাগ সর্বদাই স্বাধীন এবং আপনারা আমাদের মুখ থেকে সব সময় এই কথাটিই শুনবেন। আমরা সবসময় আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং প্রেসিডেন্ট এ ব্যাপারে সব সময় একই অবস্থানে থাকবেন।’
ভবিষ্যতে বাইডেনকে নীরবতার এই পরীক্ষা আরও দিতে হটে পারে। কারণ, ট্রাম্প বাইডেন ও তার পরিবারকে সমানভাবে আক্রমণ করে আসছেন। ট্রাম্প তাঁর পরিবারকে ‘বাইডেনের অপরাধী পরিবার’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হচ্ছে। সর্বশেষ জরিপে দেখা যাচ্ছে, আগামী নির্বাচনে বাইডেন (৮০) ও ট্রাম্পের (৭৭) মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।



