
তুরস্ক থেকে পলাতক অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরাল এফবিআই, ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ
আন্তর্জাতিক যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার; যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে শুরু হবে আইনি প্রক্রিয়া
হোসনেআরা চৌধুরী, নিউইয়র্ক
আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও যৌথ অভিযানের মাধ্যমে তুরস্ক থেকে এক পলাতক অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে এনেছে ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (Federal Bureau of Investigation)। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল মেডিকেয়ার জালিয়াতি পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ স্বাস্থ্যখাত সংক্রান্ত প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই অভিযুক্তকে তুরস্কে শনাক্ত ও আটক করা হয়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ সমন্বয়ে তাকে সফলভাবে প্রত্যর্পণ (extradition) করা সম্ভব হয়। এই আন্তর্জাতিক অভিযানে তথ্য বিনিময়, গোয়েন্দা নজরদারি এবং কূটনৈতিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনা করতেন, যা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি Medicare-কে লক্ষ্য করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। এই চক্রের মাধ্যমে ভুয়া মেডিক্যাল বিল তৈরি এবং মিথ্যা দাবি দাখিল করে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে এমন চিকিৎসা সেবার জন্য বিল করা হয়েছে, যা বাস্তবে কখনোই প্রদান করা হয়নি অথবা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। পাশাপাশি ভুয়া ক্লিনিক, শেল কোম্পানি এবং জাল নথিপত্র ব্যবহার করে পুরো অর্থনৈতিক লেনদেন গোপন রাখা হতো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেন, এই ধরনের জালিয়াতি শুধু রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতিই করে না, বরং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থাও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই এ ধরনের অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কঠোর ও সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
এফবিআই এক বিবৃতিতে জানায়,
“অপরাধীরা পৃথিবীর যেখানেই পালিয়ে থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রত্যর্পণ সেই অঙ্গীকারেরই একটি বাস্তব উদাহরণ।”
বর্তমানে অভিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে রয়েছে। তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যখাত জালিয়াতি, ষড়যন্ত্র এবং অর্থপাচারসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের করা হবে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং বিপুল অঙ্কের জরিমানার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। এই জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে আরও ব্যক্তির সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।



