
ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গলা টিপে ধরা কর্মস্থল
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে চোখ পড়তেই গভীর হতাশা আর আক্ষেপে মন ভরে গেল।
একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে, যখন গোটা পৃথিবী ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছে, তখনও আমাদের দেশের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের পোশাক নিয়ে নির্দেশনা জারি থাকে, কে কী পরবে—তা নির্ধারণ করে দেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমনকি একজন পেশাদার নারী কর্মকর্তা কেবল সালোয়ার কামিজ না পরে শাড়ি পরে আসায় তিরস্কার শুনেছেন, কর্মীদের মধ্যে পদ ও লিঙ্গভেদে বৈষম্য চালু রাখা হয়েছে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক, শিক্ষিত নাগরিককে নিজের কর্মস্থলে কী পরবেন, কীভাবে কাজ করবেন—এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা না দেওয়ার মানে আসলে তার মানবিক মর্যাদাকেই অস্বীকার করা। যে সমাজে প্রতিনিয়ত ‘উন্নত বিশ্বের কাতারে’ শামিল হওয়ার গল্প শোনা যায়, সেই সমাজের কেন্দ্রীয় ব্যাংকেও যদি এখনো এই মানসিকতা থেকে মুক্তি না মেলে, তাহলে উন্নয়ন আসলে কতটা অর্থবহ?
কর্মক্ষেত্র কোনো সাজঘর নয়, কোনো দমনযন্ত্রও নয়—এটি সৃজনশীলতা, পারদর্শিতা আর ন্যায়বিচারের জায়গা। ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা, পোশাকের স্বাধীনতা একজন পেশাজীবীর পেশাগত ন্যূনতম অধিকার। সেখানে বৈষম্য আর নির্দেশনার নামে মানুষের ইচ্ছা দমন করা এক ধরনের মানসিক শোষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।
আমরা কি চাই না, আমাদের কর্মক্ষেত্রগুলো এমন হোক, যেখানে মানুষ যোগ্যতা দিয়ে মূল্যায়িত হবে, পোশাক দিয়ে নয়? আমরা কি চাই না, একজন নারী বা একজন জুনিয়র কর্মকর্তা তার মর্যাদা নিয়ে নিজের মতো করে বাঁচুক?
এমন অনৈতিক বৈষম্য ও স্বাধীনতা-হরণ আর সহ্য করা যায় না। পরিবর্তনের দাবিটা এখনই তোলা উচিত—যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ আরও মানবিক, আরও উদার হয়ে ওঠে।
ব্যক্তি স্বাধীনতার জায়গা ছেড়ে দিয়ে কোনো উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন নয়।



