যুক্তরাষ্ট্র

শাটডাউন চললে ২০ শতাংশ ফ্লাইট কমাতে হতে পারে, সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

চলমান সরকারি অচলাবস্থা (শাটডাউন) অব্যাহত থাকলে বিমান সংস্থাগুলোকে তাদের ফ্লাইট সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমাতে বাধ্য করা হতে পারে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি শুক্রবার সতর্ক করে এ কথা বলেছেন। এদিকে সরকার আরোপিত নজিরবিহীন সীমাবদ্ধতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই ফ্লাইট কমানোর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বলে জানা গেছে।

সরকারি কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) শুক্রবার ৪০টি প্রধান বিমানবন্দরে বিমান সংস্থাগুলোকে তাদের ফ্লাইটের সংখ্যা ৪ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দিয়েছে।

১৪ নভেম্বরের মধ্যে এই কাটছাঁট ১০ শতাংশে-এ পৌঁছাবে।

গতকাল শুক্রবার পাঁচ হাজারের বেশি মার্কিন ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে। দীর্ঘ শাটডাউনের কবলে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচলে। সরকারি কর্মী সংকটে বাতিল ও বিলম্বিত হয়েছে কয়েক হাজার ফ্লাইট।

দেশটির অন্তত ৪০টি বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল কমানোয় এই বিপর্যয় দেখা দেয়।

নতুন আদেশের প্রথম দিনেই সরকারি শাটডাউনের সময় বিমান সংস্থাগুলোকে বিমান চলাচল কমাতে বাধ্য করা হয়েছে। এতে দুর্ভোগে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা। তিন ধাপে ফ্লাইট বাতিলের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আভাস দিচ্ছে ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

তবে ফ্লাইট বাতিলের নির্দেশনার বাইরে রয়েছে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসির প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে প্রভাব ফেলবে নতুন নির্দেশনা। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রকরা (এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার) সম্প্রতি জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত কাজের চাপ ও ক্লান্তির অভিযোগ জানিয়েছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পরিস্থিতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এটা সত্যিই বিরক্তিকর যে সরকার এভাবে ভ্রমণে প্রভাব ফেলছে।

সামনে ছুটির মৌসুম আসছে। যদি এই অবস্থা চলতেই থাকে, তাহলে এটা এক বড় সমস্যায় পরিণত হবে। অন্য একজন বলেন, ‘পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেহেতু এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা ছুটি নিতে শুরু করেছে, সম্ভবত তারা বেতনও পাচ্ছে না। তাই এটা গোটা ভ্রমণ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।’

বেতন না পাওয়ায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের অনেকই কাজে আসছেন না। কেউ কেউ বিকল্প কাজ বেছে নিচ্ছেন। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা বর্তমানে বেতন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বেতন না পেয়ে অনেকেই মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং কেউ কেউ সংসার চালাতে পার্ট-টাইম চাকরি নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নিক ড্যানিয়েলস বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি, কিন্তু সরকার খুলে না দিলে আমাদের হাতে কিছুই করার নেই।’

পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখনও প্রভাবিত হয়নি, তবে সরকার বন্ধ থাকলে তা পরিবর্তন হতে পারে।’ বিমানবন্দরে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন, ভিড় ও হতাশার ছবি দেখা গেছে। অনেক যাত্রী বিকল্প হিসেবে ট্রেন বা গাড়ি ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

৩৮ দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ এই শাটডাউন কবে শেষ হবে তা এখনও অনিশ্চিত। তবে কংগ্রেসে কিছুটা অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। শুক্রবার ডেমোক্র্যাটরা একটি অর্থায়ন বিল প্রস্তাব করলেও রিপাবলিকান সমর্থন না থাকায় তা পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম। সিনেটে ৬০ ভোট প্রয়োজন, যেখানে বর্তমানে রিপাবলিকান ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাট ৪৭ জন সদস্য রয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি, রয়টার্স

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension