
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মহামূল্যবান বাণী (পর্ব চারের চার)
পর্ব চারের চার
উড়ো কথা প্রচার না করা
১৪১. প্রতিটি শোনা কথা বলে বেড়ানোটাই মিথ্যাবাদী হবার জন্যে যথেষ্ট। [সহীহ মুসলিম]
মর্যাদা দান
১৪২. মর্যাদা অনুযায়ী মানুষকে সমাদর করো। [আবু দাউদ]
সন্তান
১৪৩. তোমাদের সন্তানদের মর্যাদা দান করো এবং তাদের সুন্দর আচার ব্যবহার শিখাও। [ইবনে হিব্বান]
শক্তিমান কে ?
১৪৪. শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। [সহীহ মুসলিম]
অধ:পতন
১৪৫. যার কর্ম তাকে ডুবায়, তার বংশ তাকে উঠাতে পারেনা। [সহীহ মুসলিম]
শাসক হবে তেমন
১৪৬. তোমরা হবে যেমন, তোমাদের শাসকও হবে তেমন। [মিশকাত]
অপরের দোষ
১৪৭. যে ব্যক্তি একজন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। [সহীহ মুসলিম]
আল্লাহর বিধান পালন
১৪৮. হারাম থেকে বেঁচে থাকো, আল্লাহ তোমাকে হিফাযত করবেন। [তিরমিযী]
সৌভাগ্য
১৪৯. আল্লাহর সিদ্ধান্ত সন্তুষ্ট থাকতে পারা আদম সন্তানের একটি সৌভাগ্য। [তিরমিযী]
কি নিয়ে উঠবে ?
১৫০. প্রতিটি বান্দা কিয়ামতে তাই নিয়ে উঠবে, যা নিয়ে সে মরেছে। [সহীহ মুসলিম]
নেতা
১৫১. নেতা হবে মানুষের সেবক। [দায়লমী]
১৫২. তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মতভেদ
১৫৩. মতভেদ কারোনা। তোমাদের পূর্বে যারা মতভেদ করেছিল, তারা ধ্বংস হয়েছে। [সহীহ বুখারী]
আল্লাহর প্রিয় ব্যক্তি
১৫৪. সকল সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবারের জন্যে বেশী উপকারী, সে তাঁর কাছে বেশী প্রিয়। [সহীহ মুসলিম]
রসূলুল্লাহ সাঃ
১৫৫. আমি প্রেরিত হয়েছি রহমত হিসেবে। [সহীহ মুসলিম]
সাহাবায়ে কিরাম
১৫৬. আমার উম্মতের উত্তম লোক হলো আমার সময়ের লোকেরা। [সহীহ বুখারী]
১৫৭. আমার সাহাবীদের গালি দিওনা। [সহীহ বুখারী]
শ্রেষ্ঠ নারী
১৫৮. পৃথিবীর সর্বোত্তম নারী ইমরানের কন্যা মরিয়ম আর খুয়াইলিদের কন্যা খাদীজা। [সহীহ বুখারী]
নোট: মরিয়ম ছিলেন হযরত ঈসা আ সালামের মা, আর খাদীজা ছিলেন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী।
আবু বকর রাঃ
১৫৯. আমি যদি আমার প্রভুকে ছাড়া আর কাউকেও বন্ধু বানাতাম, তবে অবশ্যি আবু বকরকে বন্ধু বানাতাম। [সহীহ বুখারী]
১৬০. হে আবু বকর! (পর্বত) গুহায় তুমি আমার সাথী ছিলে, হাউজে কাউসারেও তুমি আমার সাথী থাকবে। [তিরমিযী]
১৬১. নিজের সাথীত্ব ও অর্থ দিয়ে আমাকে সকলের চেয়ে অধিক সহযোগিতা করেছে আবু বকর। [সহীহ বুখারী]
উমর রাঃ
১৬২. আল্লাহ উমরের যবান ও অন্তরে সত্য সন্নিবেশ করে দিয়েছেন। [তিরমিযী]
১৬৩. আমার পরে যদি কেউ নবী হতো, তবে অবশ্যি উমর বিন খাত্তাব হতো। [তিরমিযী]
দু’ আর নিয়ম ও গুরুত্ব
১৬৪. যখন কিছু প্রার্থনা করবে, আল্লাহর কাছে করবে। [মিশকাত]
১৬৫. দু’আ ইবাদত। [তিরমিযী]
১৬৬. দু’আ ইবাদতের মস্তিস্ক। [তিরমিযী]
১৬৭. আল্লাহর কাছে তাঁর অনগ্রহ চাও। তাঁর কাছে প্রার্থনা করাকে আল্লাহ খুবই পছন্দ করেন। [তিরমিযী]
১৬৮. যে আল্লাহর কাছে চায়না, আল্লাহ তার উপর রাগান্বিত হন। [তিরমিযী]
১৬৯. আমি আল্লাহর কাছে দিন একশ ’ বার ক্ষমা প্রার্থনা করি। [সহীহ মুসলিম]
তাওবা
১৭০. বান্দাহ যখন অপরাধ স্বীকার করে এবং তাওবা করে, তখন আল্লাহ তার তাওবা কবুল করেন। [সহীহ বুখারী]
ব্যাখ্যা: তাওবা করার অর্থ – অন্যায়, অপরাধ ও ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করে সে জন্যে অনুশোচনা করা ও তা থেকে, ফিরে আসা এবং এমন কাজ আর কখনো না করার সিদ্ধান্ত নেয়া।
১৭১. সব আদম সন্তানই ভুল করে। তবে এদের মধ্যে উত্তম হলো তারা যারা ভুলের জন্যে তাওবা করে। [তিরমিযী]
রসূলুল্লাহর কতিপয় দু’আ
১৭২. হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই দুশ্চিন্তা থেকে, মনোকষ্ট থেকে, বার্ধক্য থেকে, আলস্য ও কাপুরুষতা থেকে এবং কৃপণতা ও ঋণের বোঝা থেকে। [সহীহ বুখারী]
১৭৩. হে আল্লাহ ! আমার অন্তরে আল্লাহভীতি দাও এবং তাকে পরিশুদ্ধ করো। তুমিই তো তার উত্তম পরিশুদ্ধকারী। [সহীহ মুসলিম]
১৭৪. ওগো আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে এমন জ্ঞান থেকে পানাহ চাই যাতে কোনো কল্যাণ নেই। আর এমন হৃদয় থেকেও আশ্রয় চাই যাতে তোমার ভয় নেই। [আহমদ]
১৭৫. আয় আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে পানাহ চাই সংশয় থেকে, কপটতা থেকে আর অসৎ চরিত্র থেকে। [নাসায়ী]
১৭৬. হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে চাই হিদায়াত, আল্লাহভীতি, পবিত্র জীবন এবং প্রাচুর্য। [সহীহ মুসলিম]
১৭৭. ওগো আল্লাহ ! আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার প্রতি দয়া করো, আমাকে সঠিক পথ দেখাও, আমাকে স্বস্তি দান করো এবং আমাকে জীবিকা দাও। [সহীহ মুসলিম]
১৭৮. আমার আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে কল্যাণময় জ্ঞান , গ্রহণযোগ্য আমল আর পবিত্র জীবিকা প্রার্থনা করছি। [আহমদ]
১৭৯. ওগো আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি সুস্থতা, স্বস্তি, বিশ্বস্ততা, উত্তম চরিত্র আর তাকদীরের প্রতি সন্তুষ্টি। [বায়হাকী]
১৮০. আমার আল্লাহ ! আমি তোমার ভালোবাসা চাই, আর যে তোমাকে ভালোবাসে তার ভালোবাসা চাই। [তিরমিযী]
*** আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) চাইতে অধিক সুন্দর কোনো কিছু দেখিনি। [আবু হুরাইরা রা. তিরমিযী]
*** আমি কাউকেও রসূলুল্লাহর (সাঃ) চাইতে দ্রুত চলতে দেখিনি। [আবু হুরাইরা রাঃ তিরমিযী]
*** রসূলুল্লাহ (সাঃ) কাছে কিছু চাওয়া হয়েছে আর তিনি ‘ না’ বলেছেন, এমন কখনো হয়নি। [জাবির: সহীহ বুখারী]
*** রসূলুল্লাহ (সাঃ) কথা বলতেন থেমে থেমে স্পষ্ট করে। [জাবির রাঃ আবু দাউদ]
*** রসূলুল্লাহ (সাঃ) সাথে কেউ খারাপ ব্যবহার করলে বিনিময়ে তিনি খারাপ ব্যবহার করতেন না, বরং ক্ষমা করে দিতেন এবং উপেক্ষা করতেন। [আয়েশা রাঃ তিরমিযী]
—————————————————————————————-
-আর এন শুভ্র



