
অগ্নিঝরা মার্চমুক্তিযুদ্ধ
অগ্নিঝরা মার্চ- ৩১ মার্চ ১৯৭১
৩১ মার্চ ১৯৭১
এক লক্ষেরও বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ছেড়ে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে প্রবেশ করে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এক-কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হয়।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতি তাঁর নিজের, ভারতীয় জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে একাত্মতা ও সংহতি ঘোষণা করেন।
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে কুষ্টিয়ায় কৃষক-পুলিশ-ইপিআরের সম্মিলিত ৫০০ যোদ্ধার দল পাকিস্তানি বাহিনীর ডেল্টা কম্পানির সৈন্যদের পাঁচটি অবস্থানে হামলা চালায়। অগ্রসরমান জনতার সমুদ্র থেকে উত্থিত ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি এবং অব্যাহত গুলিবর্ষণে ডেল্টা কম্পানির প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।
সকাল ৭টায় হালিশহরের কাঁচা সড়ক জংশনে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড আর্টিলারি, ট্যাংকসহ ইপিআর বূ্যহ ভেদ করে হালিশহরের দিকে অগ্রসর হয়। এ সংঘর্ষে পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে ১৫ জনের বেশি ইপিআর সদস্য শহীদ হন।
হালিশহরের মধ্যম নাথপাড়ায় পাকবাহিনীর সহযোগিতায় স্থানীয় বিহারিরা হত্যাযজ্ঞ চালায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কুড়াল, কিরিচ আর রামদা দিয়ে কুপিয়ে ৪০ জন ইস্ট পাকিস্তান রাইফেল (ইপিআর) সদস্য এবং ৩৯ জন নাথপাড়াবাসীসহ ৭৯ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
ক্যান্টনমেন্টের পাশাপাশি সমগ্র যশোর শহরও মুক্তি হয়। এবং দিনাজপুরও তাই।
বেলা ২টায় চট্টগ্রাম ইপিআর সদর দপ্তর, হালিশহরের পতন ঘটে।
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সৌজন্যে



