
অধিবেশন শুরুর আগে দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকে তীব্র নাটকীয়তা
ভারতের সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হচ্ছে সোমবার (২০ জুলাই)। চলবে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু অধিবেশন শুরুর আগে রোববার (১৯ জুলাই) দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের ডাকা সর্বদলের বৈঠকে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নাটকীয়তা তৈরি হয়। বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (এনসিপিআই)-কে বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রতিবাদে একযোগে প্রতীকী ওয়াকআউট করল বিরোধী শিবিরের সাংসদরা। যদিও কিছুক্ষণ পরেই তারা ফিরে এসে বৈঠকে যোগ দেন, তবে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন।
বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের প্রায় ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের এনসিপিআই-তে যোগদানের বিষয়টি এখনও লোকসভার স্পিকারের অনুমোদন পায়নি। তা সত্ত্বেও একটি অস্বীকৃত দলকে সর্বদল বৈঠকে ডাকা হয়েছে, যা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থি।
মমতা বন্দোপাধ্যায়পন্থি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র বলেন, ‘কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, আম আদমি পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, ন্যাশনাল কনফারেন্স, বাম দল এবং শিবসেনা (উদ্ধব থ্যাকারে গোষ্ঠী)-সহ সমস্ত বিরোধী দলই প্রতিবাদস্বরূপ কয়েক মিনিটের জন্য বৈঠক থেকে বেরিয়ে যায়। পরে অবশ্য তারা ফের ফিরে আসেন এবং বৈঠকে যোগ দেন। বিরোধীরা জানান, এই ওয়াক আউট তাদের প্রতীকী প্রতিবাদ। কারণ তথাকথিত এনসিপিআই একটি অস্বীকৃত দল। সংসদের টেবিল অফিসের তালিকায় এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা ২৮ দেখানো হয়েছে। ২০ জন সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দেয়ার দাবি করছেন, কিন্তু এখনও স্পিকার তা অনুমোদন করেননি।’
সংবিধানের ৯১তম সংশোধনের পরে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ নেই। তাহলে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কোন ভিত্তিতে ওই সাংসদদের সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানালেন? এর তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই বিরোধীরা ওয়াকআউট করেছে।
যদিও লোকসভায় এনসিপিআইয়ের দলনেতা সুদীপ ব্যানার্জী বলেন, ‘আমি অনেকগুলো লোকসভার সংসদ সদস্য হয়েছি কিন্তু সর্বদলীয় বৈঠকে ওয়াকআউট করে এরকম ঘটনা আমি কোনোদিন দেখিনি। তার দাবি, সরকার পক্ষের জোট এনডিএ’তে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হল এনসিপিআই। আমাদের সাংসদ সংখ্যা ২০ জন। তাছাড়া কালকে সংসদ খুলবে, তখনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কোথায় বসে। স্পিকার যদি মনে করে আমরা অনুপযুক্ত, তাহলে আমাদের অযোগ্য ঘোষণা করবে।’
অন্যদিকে সরকার পক্ষের তরফে কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘বিরোধীরা কিছু সময়ের জন্য বয়কট করেছে। আমি এটাকে খারাপ বলছি না কারণ বিরোধীদের মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। কিন্তু তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এনসিপিআইতে যোগদান করা এবং সংসদে আলাদা করে বসার জন্য লোকসভার স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছে। এই বিষয়টি স্পিকারের বিবেচনাধীন রয়েছে, সে ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে তাদেরকে বঞ্চিত করতে পারি? তাছাড়া লোকসভা সকলের।’
প্রসঙ্গত, গত জুন মাসেই মমতা বন্দোপাধ্যায়পন্থি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে একদল সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, তারা এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন এবং লোকসভায় পৃথক ব্লক হিসেবে বসতে চান। তবে সেই আবেদন নি য়ে স্পিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এই পরিস্থিতিতেই বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সর্বদল বৈঠকে আমন্ত্রণ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে।



