ভারত

দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধসে মৃত্যু ৭, ধ্বংসস্তূপে ২৭ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান

ছাত্রদের আবাসিক ভবন ধসে প্রাণহানি; মালিক গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা তদারকিতে পাঁচ কর্মকর্তা বরখাস্ত
হোসনেয়ারা চৌধুরী: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন ধসে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে প্রায় ২৭ ঘণ্টা ধরে চলা অভিযান সোমবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ১২ জনকে জীবিত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হয়েছে।
রোববার দুপুরে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের কাছে ঘনবসতিপূর্ণ সত্য নিকেতন এলাকায় ভবনটি আকস্মিকভাবে ধসে পড়ে। ভবনটিতে মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য পেইং গেস্ট বা ছাত্রাবাস পরিচালিত হতো।
দিল্লি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা ভারী যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধান চালান। ধ্বংসস্তূপের বড় অংশ সরিয়ে ফেলার পর সোমবার বিকেলে উদ্ধার অভিযান শেষ করা হয়।
পুরনো ভবনে চলছিল সংস্কারকাজ
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ভবনটি কয়েক দশক পুরনো এবং সম্প্রতি সেখানে সংস্কারকাজ চলছিল। ভবনটি আগস্টে পুনরায় শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হলেও কিছু নির্মাণকাজ তখনও চলমান ছিল।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের বেসমেন্টে পানি জমে যাওয়া এবং একই সঙ্গে চলমান খনন ও সংস্কারকাজ কাঠামোটিকে দুর্বল করে দিতে পারে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
মালিক গ্রেপ্তার, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
ঘটনার পর ভবনের মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার স্ত্রী ও ছেলেকেও আটক করা হয়। ভবনের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা দিল্লি মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের পাঁচ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ভবনের নির্মাণ, সংস্কার, নিরাপত্তা অনুমোদন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারিতে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুরনো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
দিল্লিতে ভবন ধসের ঘটনা নতুন নয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও দীর্ঘদিনের আর্দ্রতার কারণে পুরনো ও দুর্বল ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সত্য নিকেতনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা রাজধানীর পুরনো ভবন ও ছাত্রাবাসগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রेखা গুপ্তা জানিয়েছেন, জনসাধারণের ব্যবহারের ভবন—বিশেষ করে ছাত্রাবাস, নার্সিং হোম ও স্কুল—নিয়মিত কাঠামোগত নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং নিরাপত্তা সনদের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ না করা ভবনে জনসাধারণের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নীতিও বিবেচনা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের দাবি
সত্য নিকেতনের এই দুর্ঘটনা শুধু সাতটি প্রাণহানির ট্র্যাজেডি নয়; এটি ভারতের নগরাঞ্চলে পুরনো ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ, নির্মাণ বিধি প্রয়োগ এবং সরকারি তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
একটি পুরনো ভবনের ধসে পড়া যেন আরেকটি ভবিষ্যৎ বিপর্যয়ের পূর্বাভাস না হয়ে ওঠে—এখন সেটিই দিল্লির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension