
জেন-জির ক্ষোভে নড়েচড়ে বিজেপি, তরুণ ভোট টানতে মাঠে বিশেষ টিম
তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ কি এবার ভোটের বাক্সে ধাক্কা দিতে পারে? প্রশ্নটা যখন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে, তখন জেন-জির মন জিততে মাঠে নামছে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি। ২০২৭ সালের একাধিক বিধানসভা নির্বাচনের আগে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। জেন-জির উদ্বেগ, প্রত্যাশা ও ক্ষোভ বুঝতে বিশেষ দলও তৈরি করেছে বিজেপি।
শনিবার বিজেপির নতুন জাতীয় পদাধিকারীদের প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নাবিনের নেতৃত্বে তৈরি বিশেষ দলে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে ও স্মৃতি ইরানি, গুজরাটের মন্ত্রী হর্ষ সাংভি এবং ছত্তিশগড়ের মন্ত্রী ওপি চৌধুরীসহ আরও কয়েকজন নেতা।
দলীয় সূত্রে খবর, জেন-জি অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মকে সামনে রেখেই শুরু হবে এই বিশেষ যোগাযোগ কর্মসূচি। তরুণদের কী সমস্যা, তাদের প্রত্যাশা কী, শিক্ষা, চাকরি, ভবিষ্যৎ ও সরকারি ব্যবস্থার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কী—সরাসরি তাদের কাছ থেকেই তা জানার চেষ্টা করবে বিজেপি।
তরুণদের বিজেপি নেতাদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগও তৈরি করা হবে।বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ গত কয়েক মাসে ভারতে তরুণদের নেতৃত্বে একাধিক আন্দোলন রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে। শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে জেন-জির একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ্যে এসেছে। ককরোচ জনতা পার্টিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আন্দোলনও তরুণ প্রজন্মের এই অসন্তোষকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণেও এই আন্দোলনকে বিজেপি সরকারের জন্য নতুন ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বিজেপির কৌশলেও বদলের ইঙ্গিত মিলছে।
উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া ও হিমাচলপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সাত রাজ্যের মধ্যে চারটিতে বর্তমানে বিজেপি ক্ষমতায়। দলের জাতীয় সভাপতি নিতিন নাবিন রোববার নতুন পদাধিকারীদের সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূল স্তরে সংগঠন শক্তিশালী করা এবং তরুণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন।
শনিবার বিজেপির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দলের নতুন ৬৭ জন জাতীয় পদাধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণদের কাছে পৌঁছনোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীও।
অর্থাৎ, জেন-জির ক্ষোভকে শুধুমাত্র আন্দোলনের বিষয় হিসেবে না দেখে এবার নির্বাচনি রাজনীতির হিসাবেও দেখছে বিজেপি। তরুণ ভোটারদের মন জয় করতে দল কতটা সফল হয়, তার উত্তর মিলবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনগুলিতে। তবে আপাতত স্পষ্ট-জেন-জির ক্ষোভ আর উপেক্ষা করছে না বিজেপি; বরং সেই ক্ষোভের উৎস খুঁজে তাদের কাছে পৌঁছাতেই মাঠে নামছে দল।



