
কুম্ভ মেলার ব্যয়ের সামান্য অংশে বেঁচে যেত শত স্কুল
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার করুণ পরিস্থিতিতে হতাশা ব্যক্ত করেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রসন্ন বি ভারালে। বিষণ্ন কণ্ঠে বিচারপতি প্রসন্ন বলেন, যেখানে শিক্ষার বাজেট ক্রমান্বয়ে কমছে এবং মারাঠি স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; সেখানে নাসিক কুম্ভ মেলার ব্যয়ের সামান্য অংশ দিয়েও এগুলোকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
শনিবার মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলার শিরপুরে নিজের পুরোনো হাইস্কুলে ‘স্মার্ট ক্লাস’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন বিচারপতি প্রসন্ন। তিনি বলেন, ‘নাসিক কুম্ভ মেলার খরচের মাত্র ০.১ শতাংশ দিয়েও ১০০ থেকে ১২৫ মারাঠি স্কুলকে বন্ধ হয়ে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচানো যেত।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে হিসাব দিয়ে বিচারপতি প্রসন্ন বলেন, ‘সরকার কুম্ভ মেলার জন্য ৩২ হাজার কোটি থেকে ৩৪ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ দেয় এবং করিডর প্রকল্পের জন্য দেয় ১১ হাজার কোটি রুপি। কুম্ভ মেলার বরাদ্দের মাত্র ০.১ শতাংশ মানে প্রায় ৩২ কোটি রুপি।
এই অর্থ খরচ করলেও রাজ্যজুড়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১০০ থেকে ১২৫টি মারাঠি মাধ্যম স্কুল বাঁচানো যেত।’
এই প্রসঙ্গে স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, তিনি নিজে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মিউনিসিপ্যাল এবং জেলা পরিষদ মারাঠি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। আঞ্চলিক ভাষায় পড়াশোনা করা তার কর্মজীবনে কখনই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, বরং এটি তার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো প্রসারিত করেছে।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিচারপতি ভারালে বলেন, ‘আমার মনে যা সত্য বলে অনুভূত হয়েছে, আমি সেটাই প্রকাশ করেছি।
শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ। স্কুলে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রাথমিক শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।’
এর আগে বিচারপতি ভারালে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও শিক্ষার বাজেট বাড়ার পরিবর্তে ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে, যা গত কয়েক বছর ধরে এমনকি ১৩ শতাংশের কোটায় পৌঁছাতেও ব্যর্থ হয়েছে। গ্রামীণ স্কুলগুলোর শোচনীয় অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত স্কুলের মর্মান্তিক ঘটনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবে মেঝেতে ঘুমাতে বাধ্য হওয়া তিনটি ছাত্রী সাপের কামড়ে মারা যায়।
অথচ সরকার নাসিক-ত্রিম্বকেশ্বর সিংহস্থ কুম্ভ মেলার মতো অনুষ্ঠানের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে এবং করিডর প্রকল্পগুলোর জন্য প্রচুর তহবিল তহবিল অবমুক্ত করে থাকে। বিচারপতি ভারালের এ বক্তব্যে শিক্ষার চেয়ে ধর্মকে অগ্রাধিকার দেওয়ার যে রেওয়াজ তার করুণ চিত্রই উঠে এলো।



