
এইচ-১বি ভিসার ওপর লাখ ডলারের বেশি ফি আরোপের বিধিমালা প্রকাশ ট্রাম্প প্রশাসনের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এইচ-১বি দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন ফি এক লাখ ডলারের বেশি নির্ধারণ করেছিল। তবে গত বছর জুন মাসে মার্কিন আদালত এই ফি বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।
আদালত জানান, এই ফি মূলত একটি কর, যা মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কার্যকর করা যায় না।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবার (২৪ আগস্ট) হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে নতুন প্রবিধান প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি আবারও আলোচনায় এলো।
গতবছর ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা এক জরুরি আদেশে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও গবেষণা খাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই ভিসার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই আদেশের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর আগামী সেপ্টেম্বরে তা শেষ হতে যাচ্ছে।
তবে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে এটি একটি স্থায়ী বিধিমালার রূপ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সে অনুযায়ী ডিএইচএসের প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩ হাজার ২৬৫ ডলারের নতুন এই নিয়ম ফেডারেল রেজিস্টারের অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। মঙ্গলবার এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ৩০ দিনের একটি গণপরামর্শ প্রক্রিয়া শুরু হবে ।
চলতি বছরের শেষ নাগাদ আইনটি চূড়ান্ত রূপ লাভ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত জুন মাসে এক মার্কিন বিচারক এইচ-১বি ভিসার এই ফিকে বেআইনি ঘোষণা করেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে তা সংগ্রহে নিষেধাজ্ঞা দেন। বর্তমানে বোস্টনের একটি আপিল আদালতে সেই রায় পর্যালোচনাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসির একজন বিচারক প্রধান একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর আইনি চ্যালেঞ্জ যথাযথভাবে খারিজ করেছিলেন কি না, তা নিয়ে অন্য একটি আদালতেও বিচার চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম ব্যবসায়ী সংগঠন ইউএস চেম্বার অব কমার্স, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ও নিয়োগকর্তাদের একটি জোট এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
তাদের দাবি, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এভাবে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের জন্য কোনো ফি বা কর আরোপ করতে পারে না।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে,এটি কোনো প্রথাগত কর নয়। এই ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা পরিচালনার প্রশাসনিক খরচ মেটাতে একটি বিশেষ রাজস্ব উৎস হিসেবে কাজ করবে।
এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি পেশাদারদের কাজের সুযোগ দিয়ে থাকেন। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতি বছর ৬৫ হাজার সাধারণ এবং উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা অনুমোদন দেওয়া হয়। ভিসার মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে ছয় বছর হয়ে থাকে।
রিপাবলিকান নেতা ট্রাম্প এবং এই ভিসার সমালোচকদের মতে, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান এই ব্যবস্থার অপব্যবহার করে কম বেতনের বিদেশি কর্মী দিয়ে স্থানীয় আমেরিকানদের চাকরিচ্যুত করছে। পক্ষান্তরে, দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর যুক্তি হলো—কিছু বিশেষায়িত পদে যোগ্য আমেরিকান কর্মী না থাকায় এবং বৈশ্বিক সেরা মেধা আকর্ষণ করতেই এই ভিসা চালু রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং উচ্চ ফি নির্ধারণের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে ভিসার আবেদনে। মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগের (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নিয়োগকর্তারা প্রায় ৩ লাখ ৪৪ হাজার এইচ-১বি ভিসার নিবন্ধন করেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশেরও বেশি কম এবং ২০২৩ সালের (৭ লাখ ৯৪ হাজার) আবেদনের অর্ধেকেরও কম।
এর পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এইচ-১বি আবেদনকারীদের কঠোর ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং বেশি বেতন ও উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে ভিসা দেওয়ার নতুন ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছে। চলতি আগস্টের শুরুর দিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ পৃথক এক বিধিতে এইচ-১বি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানো বা অন্যান্য দেশে থাকা কর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রে বদলি করার আবেদনে সাড়ে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি যুক্ত করেছে।
চলতি সপ্তাহে প্রস্তাবিত নিয়ম চূড়ান্ত হলে আইনি লড়াইয়ে নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



