
নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটলে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আলবানির নারী গ্রেপ্তার
এফবিআইয়ের গোপন অভিযানে কথিত ISIS-অনুপ্রাণিত হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে গেল
শাহ্ জে. চৌধুরী , নিউইয়র্ক
নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটল ভবনে বোমা হামলা চালিয়ে আইনপ্রণেতাদের হত্যার কথিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে আলবানির ৩৫ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। জেসিকা বোয়ি নামে ওই নারীর বিরুদ্ধে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট এফবিআইয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি গোপন তদন্তের পর বোয়িকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তিনি ফেডারেল আদালতে হাজির হন এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলাকালে তাকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ক্যাপিটল ভবনকে লক্ষ্য করার অভিযোগ
আদালতের নথি অনুযায়ী, বোয়ি নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটলকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা অভিযোগ করেছেন। তিনি ক্যাপিটল ভবন ও আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ, ছবি তোলা এবং সম্ভাব্য হামলার পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফেডারেল তদন্তকারীদের দাবি, বোয়ি বিস্ফোরক তৈরির বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন এবং হামলার কাজে ব্যবহার করা যাবে—এমন কিছু সামগ্রী সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন।
এফবিআইয়ের গোপন অভিযানে পরিকল্পনা ফাঁস
তদন্তকারীদের মতে, কথিত পরিকল্পনাটি উদ্ঘাটিত হয় এফবিআইয়ের একটি গোপন অভিযানের মাধ্যমে। বোয়ি যাদের ISIS-সংশ্লিষ্ট সহযোগী বলে মনে করছিলেন, তাদের মধ্যে এফবিআইয়ের গোপন সূত্র ও আন্ডারকভার কর্মকর্তাও ছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে কর্তৃপক্ষ নিষ্ক্রিয় সরঞ্জাম সরবরাহ করে। বোয়ি এগুলোকে কার্যকর বিস্ফোরক হিসেবে বিশ্বাস করে গ্রহণ করার পরই তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
অনলাইনে উগ্রপন্থার অভিযোগ
ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বোয়ি অনলাইনে উগ্রপন্থী মতাদর্শের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছিলেন এবং ISIS-এর প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করেছিলেন। তদন্তকারীরা তার অনলাইন কর্মকাণ্ড ও যোগাযোগকে কথিত উগ্রপন্থায় জড়িয়ে পড়ার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে বিবেচনা করছেন।
তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, মামলাটি বোয়ির কথিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে; কোনো ধর্ম বা ধর্মীয় সম্প্রদায়কে কেন্দ্র করে নয়।
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা
ঘটনার পর জেসিকা বোয়ির অতীতের মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। Times Union-এর প্রতিবেদনে তার মানসিক স্বাস্থ্য ইতিহাস এবং সম্ভাব্য বাইপোলার ডিসঅর্ডারসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মানসিক অসুস্থতা এবং সন্ত্রাসবাদ বা সহিংস উগ্রপন্থাকে এক করে দেখা উচিত নয়। বোয়ির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নির্ভর করছে তার কথিত কর্মকাণ্ড ও তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণের ওপর। তার মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়গুলোও আদালতের প্রক্রিয়ায় যথাযথভাবে বিবেচিত হবে।
হামলার আগেই পরিকল্পনা ভেস্তে দেওয়ার দাবি
ফেডারেল কর্মকর্তারা বলছেন, হামলা বাস্তবায়নের আগেই তদন্তকারীরা কথিত পরিকল্পনাটি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে সক্ষম হন। এফবিআইয়ের জয়েন্ট টেররিজম টাস্ক ফোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তদন্তে সহযোগিতা করে।
ঘটনার পর নিউইয়র্ক স্টেট ক্যাপিটলসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
ফেডারেল আদালতে মামলা চলমান
জেসিকা বোয়ির বিরুদ্ধে ISIS-কে বস্তুগত সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করার ফেডারেল অভিযোগ রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
আইন অনুযায়ী, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত জেসিকা বোয়িকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ঘটনাটি নিউইয়র্কে অনলাইন উগ্রপন্থা, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার আগাম সতর্কতা ও গোয়েন্দা তৎপরতার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্র: U.S. Department of Justice, FBI, Associated Press, Reuters ও Times Union।



