
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে গ্রিস, আগুন নেভাতে ১৫০ ফায়ারফাইটারের লড়াই
উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের কোনিৎসা শহরের কাছে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৫০ জনের বেশি ফায়ারফাইটার কাজ করছেন। রবিবার আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় শহরজুড়ে ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশ ও স্থলপথে ব্যাপকভাবে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। খবর আনাদোলু’র।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপিরাস অঞ্চলের পাহাড়ি ত্রাপেজিৎসা এলাকায় গত ৩১ আগস্ট আগুনের সূত্রপাত হয়। এরপর কয়েক দফা আগুনের তীব্রতা বেড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে ১৫০ জনের বেশি ফায়ারফাইটারের পাশাপাশি আটটি বিশেষায়িত গ্রাউন্ড টিম ও ৪৮টি অগ্নিনির্বাপণ যান মোতায়েন করা হয়েছে। আগুন নেভাতে আকাশপথে আটটি বিমান ও চারটি হেলিকপ্টারও কাজ করছে।
কোনিৎসার সিভিল প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার থেকে আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তবে এতে শহরের ওপর ধোঁয়ার ঘনত্ব সাময়িকভাবে আরও বেড়ে যেতে পারে।
এ অবস্থায় শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত বাসিন্দাদের ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রেখে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আগেভাগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আগুনের দিকে না যেতে এবং জরুরি যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে সরু সড়কগুলো খালি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি ভূখণ্ড এবং ঘন বনাঞ্চলের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে দমকলকর্মীদের। আগুন যাতে কোনিৎসা শহরের দিকে ছড়িয়ে না পড়ে কিংবা নদী পেরিয়ে তিমফি পর্বত এলাকায় পৌঁছাতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, দাবানলপ্রবণ ওই এলাকায় জুনিপার, পাইন ও পুরোনো ফার গাছের ঘন বন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শুকনো উদ্ভিদজাত দাহ্য উপাদান এবং গাছের উচ্চ রজনযুক্ত অংশ আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে রাখতে দমকলকর্মীরা স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে দুর্গম ভূখণ্ড ও ঘন বনাঞ্চলের কারণে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



