
অনটনে অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া তরুণী আবেদন করলেন ডোমের চাকরিতে!
ডোমের চাকরিতে আবেদন করেছেন অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া এক ভারতীয় নারী। তার নাম স্বর্ণালী সামন্ত। তিনি হাওড়ার শিবপুরের বাসিন্দা।
তবে প্রথম শ্রেণির স্নাতক হয়ে ডোম পদের চাকরিপ্রার্থী হওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে।
শুধু স্বর্ণালীই নন, স্নাতক ছাড়াও স্নাতকোত্তররাও আবেদন করেছেন ওই পদে। আবেদন করেছেন ইঞ্জিনিয়াররাও।
আজতক জানিয়েছে,স্বর্ণালী জানালেন, করোনা ও লকডাউনে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। সংসারের হাল ধরতে তিনি চাকরির খোঁজ করছেন। এনআরএস মেডিকেল কলেজে একটি অ্যাসিস্ট্যান্ট ল্যাবটেরিয়ান পদে চাকরির বিজ্ঞপ্তি তাঁর চোখে পড়ে। আবেদনও করেন। পরে জানতে পারেন, আসলে ডোমপদের জন্য আবেদন করেছেন তিনি।
ইতিহাসে ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছেন স্বর্ণালী। তারপরও ডোম পদে চাকরিপ্রার্থী হিসেবে আবেদন করেছেন তিনি। পদের নাম ল্যাব অ্যাটেনড্যান্ট বা পরীক্ষাগার সহকারী। এনআরএস হাসপাতাল গত বছর ডিসেম্বর মাসে এই পদে নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেয়। স্বর্ণালী আরও জানান, তাঁর বাড়িতে অসুস্থ বাবা-মা ও মেয়ে রয়েছে। ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাই চাকরির খুবই প্রয়োজন। তাই ডোমপদে চাকরি পেলে করবেন। নিজেকে ছোটো মনে করবেন না।
তবে স্বর্ণালীর ভাষ্য, যাদের চাকরি নেই, তাদের তো চাকরি দরকার। তা সে যে পদই হোক না কেন। কাজের কোনো ছোট বড় হয় না।
তিনি বলেন, আমি ফেসবুকের মাধ্যমে এনআরএসের ওই বিজ্ঞাপনটা দেখতে পাই। তার পর আবেদন করি। গত ২১ মার্চ পরীক্ষা ছিল। তবে সেই পরীক্ষা পিছিয়ে যায় আগস্টে।
তবে এতদিন পর বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হওয়ায় অবাক হয়েছেন স্বর্ণালী। তিনি জানান, প্রথমে ‘পরীক্ষাগার সহকারী’ বিষয়টি না জানলেও, কিছুটা খোঁজখবর নিতেই তার কাছে ওই পদ সম্পর্কে ধারণা স্পষ্ট হয়ে যায়।
ডোম পদে কাজ পেলে কী করবেন- এমন প্রশ্নে তিনি বললেন, চাকরি পেলে কেন করব না। ডোমের পদে কাজ জেনেই আমি পরীক্ষা দিতে গিয়েছি। কোনো রকম খ্যাতির লোভে পরীক্ষা দিই নি। আমার বাড়ির লোকও এটা মেনে নেবে।
জানা গেছে, স্বর্ণালীর স্বামী দেবব্রত কর্মকার একটি অ্যাপ-ক্যাব সংস্থায় গাড়ি চালান। শিবপুরের ভবানী গার্ল স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক হন। বর্তমানে তিনি ডালহৌসির একটি বেসরকারি সংস্থার রিসেপশনিস্ট হিসাবে চাকরি করছেন।তাঁর এক মেয়ে রয়েছে।
আনন্দবাজার জানিয়েছে, এনআরএস-এর ওই পরীক্ষায় শুধু স্বর্ণালীই নন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্নাতক ছাড়াও স্নাতকোত্তররাও আবেদন করেছেন ওই পদে। আবেদন করেছেন ইঞ্জিনিয়াররাও।



