
অমর্ত্য সেনের সঙ্গে বাড়ি নিয়ে বিশ্বভারতীর দ্বন্দ্ব
নোবেল বিজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের শান্তিনিকেতনের বাড়ি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশের মধ্যে পড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এর উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
এ বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি আর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস পর্যন্ত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে অমর্ত্য সেন জানান, উপাচার্য কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাবলে নিয়োগ পেয়েছেন। তাই শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য ও উপাচার্যের আচরণের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের দাবী, গেল শতকে অমর্ত্য সেনের বাবা আশুতোষ সেন ৯৯ বছরের জন্য জমি লিজ নিয়ে এই বাড়ি করেন। ২০০৬ সালে অমর্ত্য সেনের আবেদনের ভিত্তিতে জমি তার নামে হস্তান্তর হয়। তবে পাশাপাশি লিজ নেওয়া তাদের দুই জমির মধ্যবর্তী অংশ বিশ্বভারতীর জায়গায় পড়েছে বলে দাবী করছেন ভিসি।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিশ্বভারতীর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবৈধভাবে দখলকৃত জমি উদ্ধারে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।
অমর্ত্য সেন বলছেন, তাদের বাড়ি বিশ্বভারতীর যে জমিতে পড়েছে সেটির লিজ শেষ হতেও অনেক বছর বাকি। যদিও তার মালিকানার তথ্য সরকারি খতিয়ানেও নথিভুক্ত আছে। বিজেপির সঙ্গে অমর্ত্য সেনের নীতিগত বিরোধের কারণেই তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবী করছে তৃণমূল কংগ্রেস।
নোবেলজয়ীর এই অর্থনীতিবিদকে চিঠি পাঠিয়ে অমর্ত্য সেনকে নিজের সমর্থন জানিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশ্বভারতীর ভিসিকে বহিরাগত উল্লেখ করে তার অভিযোগ আশ্চর্যজনক এবং ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। অসত্য শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি ‘বোন ও বন্ধু’ হিসেবে পাশে থাকবেন বলে চিঠিতে আশ্বস্ত করেছেন মমতা।
অন্যদিকে জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে প্রয়োজনে আইনি সহায়তা নেবেন বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন অমর্ত্য সেন।❐



