
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে চলমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি প্রাধান্য পাবে
রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রধান্য পাবে দেশের চলমান উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি। ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’- এমন স্লোগান নিয়েই আজ মঙ্গলবার নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৮ ঘোষণা করতে যাচ্ছে দলটি। সকাল ১০টায় রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনাগাঁও হোটেলে দলের নির্বাচনী ইশতেহারটি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করবেন বলে জানানো হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, গত ১০ বছরের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে আগামিতে দেশকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিই প্রধান্য পাবে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে, দলের পথ থেকে এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করা হবে।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ২১টি বিশেষ অঙ্গীকারকে ৭টি অধ্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে- গ্রাম ও শহরের সমান উন্নয়ন, যুব সমাজের ব্যাপক কর্মসংস্থান, সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি, পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি, সর্বস্তরের মানুষের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, নিরাপদ সড়ক বিষয়ে নিশ্চয়তা ও নিরাপদ সড়কের বিষয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সিলেভাবে অন্তর্ভুক্তিকরণ প্রভৃতি।
আওয়ামী লীগের ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির সদস্য সচিব ও দলের উপ দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া জানান, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে জাতিকে দিন বদলের কথা বলেছিল। গত এক দশকে আওয়ামী লীগ মানুষের দিন বদল করেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলেছিল, আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ পৃথিবীর অনেক উন্নত রাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচনী ইশতেহার একটি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আজকে জনগণ যে নির্বাচনী ইশতেহার নিয়ে যে আগ্রহ প্রকাশ করছে, এর কারণ হচ্ছে ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার। মানুষ বিশ্বাস করে ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ছিল একটি ম্যাজিকের মত। ম্যাজিকটা শুরু- ইশতেহার ঘোষণা করা নয়, জাতির সামনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে এই ম্যাজিক। যে ম্যাজিক শেখ হাসিনা করেছেন। এই কারণেই আজকে সকলেই শুনতে চায়, আওয়ামী লীগ জাতির সামনে কী প্রতিশ্রুতি করে। আওয়ামী লীগ যা বলে, তা করে দেখায়। এ জন্য মানুষের দলের কাছে অনেক প্রত্যাশা।’
তিনি বলেন, এই ইশতেহারে সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ কীভাবে আমরা করব তার প্রস্তাব বিস্তারিত থাকবে। কোন্ স্টেজে আমরা কতটুকু কাজ করব, এর সুনির্দ্দিষ্ট ঘোষণা ইশতেহারে থাকবে। এ ছাড়া যে সমস্ত মেগা প্রজেক্ট আমরা শুরু করেছি, আগামিতে অনুরূপ মেগা প্রজেক্ট কী কী থাকবে, তাও ইশতেহারে তুলে ধরা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশের যে সম্পদ, এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন আমাদের দেখিয়েছিলেন। তার ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আগামিতে সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ বির্নিমাণে রাষ্ট্রের কী কী খাত শক্তিশালী করতে হবে এর প্রতিটি বিষয় এবারের ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ও ঘোষণা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু ‘শর্ট টার্ম গোল’ (স্বল্প মেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা) সেট করেছি। আমরা যদি জনগণের ভোটে বিজয়ী হই তবে আগামী ৫ বছরে আমরা কী কী কাজ বাস্তবায়ন করব। আর কিছু ‘লং টার্ম গোল’ (দীর্ঘ মেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা) থাকবে। যেমন ২০৪১ ভিশন, স্বাধীন বাংলাদেশের শতবর্ষ পূর্তিতে ভিশন ২০৭১, আর ডেল্টা প্ল্যান- এসব থাকবে।
গ্রামীণ ও শহরের অর্থনীতি উন্নয়নে সমতার বিষয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইশতেহারে আমরা শহর থেকে আঞ্চলিক উন্নয়নে প্রাধান্য দেব। শহর-গ্রামের মানুষ নির্বিশেষে যেন দেশের সকল সুযোগ-সুবিধা পায় সেজন্য ইশতেহারে আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেখানে আমরা বলেছি- গ্রামে থেকে মানুষও রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা পাবে।
ইশতেহারে তরুণ সমাজের বিষয়ে তিনি বলেন, এদেশে তরুণ জনগোষ্ঠী হচ্ছে এক-তৃতীয়ংশ। তাই দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাহস-উদ্যম হচ্ছে একটি দেশের সম্পদ। আগামিতে কীভাবে তারুণ্যের এই সম্পদগুলোকে ব্যবহার করে রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য কাজে লাগাতে পারি তা ইশতেহারে তুলে ধরা হবে। আমরা ইশতেহারে বলেছি, তরুণদের কর্মসংস্থান করা, বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করে তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পৃথিবীর যে কোনও পরিবেশে যেন তারা দক্ষতা, মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে চাকরি পায় এ জন্য ইশতাহারে আমরা গুণগত শিক্ষার পরিবেশের কথা বলেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গুণগত পরিবেশের কথাও বলেছি। ‘নিরাপদ সড়ক চাই-এর বিষয়ে যেহেতু একটি জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে প্রাথমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে নিরাপদ সড়কের বিষয়ে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ইশতেহারে থাকছে।’
দলীয় সূত্রমতে, আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে ২১টি বিষয় প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। এগুলো হল- আমার গ্রাম-আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, পুষ্টিসম্মত ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা, তারুণ্য ও শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি : তরুণ-যুব সমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা, সকল স্তরে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা ও শিশুকল্যাণ, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদ নির্মূল, মেগা প্রজেক্টসমূহের দ্রুত ও মানসম্মত বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সুদৃঢ় করা, সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দারিদ্র্য নির্মূল, সকল স্তরে শিক্ষার মান বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, সার্বিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির অধিকতর ব্যবহার, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা, দক্ষ ও সেবামুখী জনপ্রশাসন, ব্লু-ইকোনমি তথা সমুদ্র সম্পদ উন্নয়ন, নিরাপদ সড়কের নিশ্চয়তা, প্রবাসীকল্যাণ কর্মসূচী, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন।
সূচিপত্রের অধ্যায়গুলোর মধ্যে ৩ অধ্যায়ে আছে- সরকার পরিচালনায় দুই মেয়াদে (২০০৯-২০১৮) সাফল্য ও অর্জন এবং আগামি পাঁচ বছরের (২০১৯-২০২৩) লক্ষ্য ও পরিকল্পনা, ৩.১ অধ্যায়ে- গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ, ৩.২ অধ্যায়ে- আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষা, ৩.৩ অধ্যায়ে- দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিতামূলক প্রশাসন, ৩.৪ অধ্যায়ে- জনবান্ধব পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলা, ৩.৫ অধ্যায়ে- দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, ৩.৬ অধ্যায়ে- সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও মাদক, ৪ অধ্যায়ে- সামস্টিক অর্থনীতি; উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, ৩.১.১ অধ্যায়ে- কৌশল ও পদক্ষেপ, ৪.১ অধ্যায়ে- অবকাঠামো উন্নয়নে বৃহৎ প্রকল্প (মেগাপ্রজেক্ট), ৪.২ অধ্যায়ে- ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ, ৪.৩ অধ্যায়ে- তরুণ যুব সমাজ; ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’, ৪.৪ অধ্যায়ে- দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাস, ৪.৫ অ্যধায়ে- কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি; খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের নিশ্চয়তা, ৪.৬ অধ্যায়ে- বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ৪.৭ অধ্যায়ে- শিল্প উন্নয়ন, ৪.৮ অধ্যায়ে- শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমনীতি, ৪.৯ অধ্যায়ে- স্থানীয় সরকার; জনগণের ক্ষমতায়ন, ৪.১০ অধ্যায়ে- শিক্ষা, ৪.১১ অধ্যায়ে- স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবারকল্যাণ, ৪.১২ অধ্যায়ে- যোগাযোগ, ৪.১৩ অধ্যায়ে- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি; ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নপূরণ, ৪.১৪ অধ্যায়ে- সমুদ্র বিজয় : ব্লু-ইকোনমি; সমুদ্র বিজয় : উন্নয়নের দিগন্ত উন্মোচন, ৪.১৫ অধ্যায়ে- জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষা, ৪.১৬ অধ্যায়ে- শিশুকল্যাণ, ৪.১৭ অধ্যায়ে- প্রতিবন্ধী ও প্রবীণকল্যাণ, ৪.১৮ অধ্যায়ে- নারীর ক্ষমতায়ন, ৪.১৯ অধ্যায়ে- মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন, ৪.২০ অধ্যায়ে- সংস্কৃতি, ৪.২১ অধ্যায়ে- ক্রীড়া, ৪.২২ অধ্যায়ে- ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও অনুন্নত সম্প্রদায়, ৪.২৩ অধ্যায়ে- গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্য প্রবাহ, ৪.২৪ অধ্যায়ে- প্রতিরক্ষা; নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা সুরক্ষা, ৪.২৫ অধ্যায়ে- পররাষ্ট্র, ৪.২৬ অধ্যায়ে- এনজিও, ৪.২৭ অধ্যায়ে- মুজিব বর্ষ পালন; উন্নয়ন অগ্রযাত্রার শপথ গ্রহণ, ৪.২৮ অধ্যায়ে- ২০৩০ সালে এসডিজি বাস্তবায়ন, ৪.২৯ অধ্যায়ে- ব-দ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০, ৫ অধ্যায়ে- জননেত্রী শেখ হাসিনার সম্মোহনী নেতৃত্বের বিশ্বজনীন স্বীকৃতি, ৬ অধ্যায়ে- ভবিষ্যৎ দিকদর্শন এবং ৭ অধ্যায়ে- দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান।



