প্রধান খবরবাংলাদেশ

নির্বাচকালীন সহিংসতা বাড়ার আশঙ্কা

রূপসী বাংলা ঢাকা ডেস্ক রিপোর্ট:  একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীর সমর্থকরা নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় একে অপরের ওপর হামলা চালাচ্ছে। আগামি দিনগুলোয় এই সংঘাত আরও রক্তক্ষয়ী হবে এমন আশঙ্কা করছে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকরা হামলায় জড়িয়ে পড়ছে। ৩০ডিসেম্বর নির্বাচনের আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব সহিংসতায় আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও পেট্রলবোমার ব্যবহার হতে পারে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে বিশৃঙ্খলারোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ভোটের মাঠে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়াকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

গতকাল সোমবার বিকালে পুলিশের এ দুই কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে ইসিতে ডেকে নিয়ে নিবাচনকালীন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানা নির্দশনা দেন তিনি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, পুলিশের দুই শীর্ষ কর্মকর্তাকে নির্বাচন কমিশনে ডেকে এনে সারাদেশের নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু, স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন সিইসি।

ইসি সচিব বলেন, ঘটনাপ্রবাহে নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ আসছে। গণমাধ্যমেও প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে বাধার বিষয়টি আসছে। এসব বিষয়ে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে অবগত করে আগামিতে যেন নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে সেজন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মানে বড় নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিক্ষিপ্তভাবে ছোট ছোট সহিংসতার ঘটনা ঘটতে পারে। আইনশৃখলা বাহিনীকে নির্দেশ  দেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে  দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা  দেখেছেন- দেশের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এটি নির্বাচন বানচালের  চেষ্টা হতে পারে।

এ ব্যাপারে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মোখলেসুর রহমান বলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। কিন্তু এখন উভয় দল অনাকাঙ্ক্ষীত আচরণ করছে। রাজনৈতিক দলগুলোর শুভবুদ্ধির উদয় না হলে পুলিশের কী করার আছে?

তিনি আরও বলেন, দেশে ১৭ কোটি মানুষ। পুলিশ ২ লাখ। সীমিত জনবল দিয়ে পুলিশ বাহিনী চলছে। এভাবে কথায় কথায় নিজেরা নিজেরা যদি মারামারিতে লিপ্ত হয় তাহলে পুলিশের কী করার আছে। এখন আমরা নির্বাচনে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলসমূহের সহযোগিতা কামনা করতে পারি।  সবার সহাযোগিতা ছাড়া পুলিশের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে আমরা বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করে পরিস্থিতি সামাল দিই।

 

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension