
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের রামেরবাজার থেকে সাহেবেরহাট খালের ওপর একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ছিল। সেতুটি খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। এতে ৩টি গ্রামের ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতব্যস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন তারা।
দীর্ঘদিন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সংস্কারের কোনো ব্যবস্থা না করায় গত বুধবার রাতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি খালের মধ্যে ধসে পড়ে। সেতুটি ২০০০ সালে এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিলো বলে জানাগেছে।
স্থানীয় পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা প্রবীর বিশ্বাস ননী ও লীলা বিশ্বাস বলেন, খালের উপরে ২০০০ সালে এলজিইডি’র অর্থায়নে মানুষের চলাচালের দুর্ভোগের কথা চিস্তা করে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রয় ১বছর আগে থেকে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকার পরও এলাকাবাসি জীবনের ঝুঁকিনিয়ে পায়ে হেটে চলাচল করত। তবে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল।
সেতুটি ধসে পড়ায় তিনিটি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ এখন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয় কোমলমতি শিক্ষার্থী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ পড়ুয়া শত শত শিক্ষার্থীরা। এছাড়াও চলতি ইরি-বোরো মৌসুমের ধান কারা শুরু হওয়াতে চাষীরা তাদের জমির ধান বাড়ি নিতে পারছেন না।
সারা বছর কৃষকেরা বহুকষ্টে জমিতে ফসল ফলালে সেতু ভাংগার কারণে বাড়ি নিতে পারছে না।
ব্যবসায়ী অজয় সমদ্দার বলেন, সেতুটির ওপর দিয়ে আমাদের উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। সেতুটি ধসে পড়ায় এখন আর কোনো যানবাহন নিয়ে যাতায়াত করার ব্যবস্থা নাই। এই এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়ে থাকে। এখানকার চাষীরা ধান বিক্রি করলে ওই সেতুর দিয়ে পরিবহন নিয়ে যেতে হয়।
স্থানীয় রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য অমল হালদার বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হলে মেরামতের জন্য বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বলেও কোনো সুফল হয়নি। এখন একটি মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো ব্যবস্থাও নাই।
আগৈলঝাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুটি ধসে পড়ার খবর পেয়েছি। অচিরেই এ সমস্যার সমাধাণ করা হবে। সেতুটি সংস্কার করা হলে এই এলাকার মানুষের দুর্ভোগ দূর হয়।



