Uncategorized

আপনি আচরি ধর্ম অপরে শিখায় –

শ্রীচৈতন্যদেব নিজের ভগবদ সত্তাকে লুকিয়ে ভক্তভাবে প্রায়সঃই কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে রোদন করতে থাকতেন। দেখে মনে হত শ্রীকৃষ্ণকে না পেলে এখনই তার শরীর বিদীর্ণ হয়ে যাবে।

একবার রথযাত্রার সময় মহাপ্রভূ অগ্রে নৃত্য করছিলেন। এমন সময় রাজা প্রতাপরুদ্রের শরীর মহাপ্রভূর শরীরের সাথে স্পর্শ হয়ে যায়। ওই রাজা ছিলেন প্রচন্ড বিষয়ী অর্থাৎ সংসারের প্রতি, স্ত্রী, পুত্র ধন ইত্যাদিতে অধিক মনযোগী। প্রজা কল্যান ছিল গৌন বিষয় ! অথচ আমাদের শাস্ত্র অনুসারে প্রজাদের, সমজের লোকদের কল্যান, সুরক্ষা, সমৃদ্ধিই হওয়া উচিত ছিল তার প্রধান কর্তব্য । তো এ রকম বিষয়ী রাজার দেহের সাথে স্পর্শ হওয়ায় মহাপ্রভূ ” বিষয়ীর সাথে স্পর্শ ” বলে বার বার আপনাকে ধিক্কার দিচ্ছিলেন।

রাজা তখন মহাপ্রভূর অন্যতম পার্সদ সার্বভৌম মহোদয়ের উপদেশে একদিন মহাপ্রভুর পদ-সেবা করছিলেন। ওই রাজা খুব বিষয়ী মনোভাবাপন্ন হলেও, শ্রীভাগবত গ্রন্থ সম্পর্কে ভাল ধারনা/ জ্ঞান ছিল। রাজা তখন শ্রীভাগবত থেকে ভগবানের লীলাকথা আবৃত্তি করতে লাগলেন।মহাপ্রভু খুব সন্তুষ্ট হলেন, ক্রমে তিনি একেবারে অন্য রকম হয়ে যেতে লাগলেন। বলো, আরও বলো, আরও বলো – বলতেঁ বোলতে চিৎকার করতে লাগলেন। মহাপ্রভু বললেন – কে তুমি ভাই , আমার এত উপকার করলে ভগবানের কথা শুনিয়ে। কৃষ্ণলীলাঅমৃত শোনার জন্য আমার প্রচন্ড তৃষ্ণা পেয়েছিল যে।

পাঠ করতে করতে একসময় ওই রাজা যখন ” তব কথা অমৃতং তপ্ত জীবনং .. গোপীগণ শ্রীকৃষ্ণকে কহিলেন, – তপ্ত জীবের জীবন স্বরূপ, কবিগন কর্তৃক স্তুত, পাপ নাশন, শ্রবনেই মঙ্গল, শান্ত মধুর অমৃত মদিরাস্বরূপ তোমার লীলাকথা পৃথিবীতে যারা আবৃত্তি করেন তারা ভূরিদ (বহুদাতা , আমাদিগের জীবনদাতা ও সুকৃতি)।” শ্লোকটি পাঠ করছিলেন তখন শ্রীমন মহাপ্রভূ প্রেমাবশে উঠে রাজাকে জড়িয়ে ধরলেন।

 

অনুলিখনঃ এডভোকেট মিলন ভট্টাচার্য্য ; সিলেট

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected

Please, Deactivate The Adblock Extension